ভারত নয়, বিশ্বের গদ্দার নম্বর ওয়ান! 'যা বলি তাই করি' তমলুকে মমতাকে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর
ভারতেও নয়, বিশ্বের গদ্দার নম্বর ওয়ান। হলদিয়ার সুতাহাটায় দলীয় প্রার্থী অভিজিৎ গাঙ্গুলির সমর্থনে হওয়া সভায় এমনটাই মন্তব্য করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। যে রাজ্বীব গান্ধী তাঁকে প্রার্থী করেছিলেন, তার দল কংগ্রেসকে অস্বীকার করেছিলেন তিনি। আর ১৯৯৮ সালে নতুন দল গঠনের পরে যখন রাস্তায় ঘুরছিলেন, সেই সময় আশ্রয় দিয়েছিলেন অটলবিহারী বাজপেয়ী। ২০০১-এ তাঁকেই ছেড়ে আসেন এই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেখান থেকেই পরিচিতি ও ব্যাপ্তি, বলেন শুভেন্দু অধিকারী।
তিনি আরও বলেন, প্রথমে তিনি (মমতা) রাজীব গান্ধীর পিঠে ছুরি মেরেছিলেন। ২০০১-এ অটল.জির সঙ্গে বেইমানি করেছেন। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ভারতে কেন, পৃথিবীরে এতবড় গদ্দার দুটো নেই। তিনি নিজেকে দেখিয়ে বলেন, এঁকে চেনেন তো? যখন বলতাম সিপিআইএম যাবে, তখন অনেকেই বিশ্বাস করতেন না। আর নন্দীগ্রামে যখন দাঁড়িয়েছিলাম তখনও অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন জয় নিয়ে, কারণ সেখানে ৬৫ হাজার মুসলিম ভোট।

মুসলিম ভোট পাইনি
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, মুসলিমরা আর আগের জায়গায় নেই। এই সভাতেও অনেক মুসলিম রয়েছেন। আর ইভিএম খোলার পরে ফলেই বোঝা যাবে। তিনি বলেন, সেই ৬৫ হাজার ভোটের একটাই পাইনি। বেশিরভাগই পেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরেও একলক্ষ দশ হাজারের মতো ভোট পেয়েছিলাম, বলেন তিনি।
যা বলি তাই করি
শুভেন্দু অধিকারী এদিন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যা বলি তাই করি। আগে মোটা কেষ্ট নানা কথা বলত। ২০২১-এর পরে আঠারো বার বীরভূম যাওয়ার কথা জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এখন কি চড়াম, চড়াম ঢাকের আওয়াজ, গুড় বাতাসা শুনতে পান? কন্যা-সহ সে এখন তিহারে। ২০২৩-এর ৩০ ডিসেম্বরে বসিরহাটে গিয়ে তিনি বলেছিলেন শাহজাহান সাবধান। আর জানুয়ারির এক তারিখে শাহজাহান বলেছিল, নিরাপত্তা ছাড়া আয়, চামড়া গুটিয়ে কাঁথি পাঠিয়ে দেবো। তারপর তো ইতিহাস।
অভিজিৎ গাঙ্গুলির প্রশংসা
বিরোধী দলনেতা তমলুকে দলের প্রার্থী অভিজিৎ গাঙ্গুলির প্রশংসা করে বলেন, তিনি বড় মাপের মানুষ। এই মানুষটিকে দিল্লি পাঠালে তিনি (শুভেন্দু), অশোক দিন্দার মতো বিধায়করা তাঁকে (অভিজিৎ গাঙ্গুলি) সাহায্য করব। শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, দলের তরফে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে তমলুকে আর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কাঁথিতে আসার জন্য আবেদন করা হয়েছে।
মমতা ধাপ্পাবাজ
শুভেন্দু অধিকারী এদিন দাবি করেন, গাজলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় মাত্র দুই হাজার লোক হয়েছিল, বারোটার সভাব আড়াইটেয় করার পরেও। কারণ লোকে বুঝে নিয়েছে তিনি ধাপ্পাবাজ, মিথ্যা ছাড়া সত্যি বলেন না। ২০২১-এর নির্বাচনের আগে বলেছিলেন, ডাবল-ডাবল চাকরি হবে, কিছু হয়নি। এখন তিনি বলছেন, এনআরসি হলে ডিটেনশন ক্যাম্প হবে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ করে দেবে। এব্যাপারে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, কে বন্ধ করবে? বিজেপি ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভান্ডারে তিন হাজার করে টাকা দেওয়া হবে। প্রতিবছর এসএসসি হবে।
তৃণমূল কাঁপছে
তিনি বলেন, কয়েকটা দিন অপেক্ষা করুন, তৃণমূল কেমন কাঁপছে! তৃণমূল কেমন ধপ করে পড়ছে। তিনি এব্যাপারে ধূপগুড়িতে প্রধানমন্ত্রী কথা উল্লেখ করেছেন। প্রসঙ্গত প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন, গত পাঁচ বছরে তৃণমূলের অর্ধেক মন্ত্রী জেলে গিয়েছে আর পরের পাঁচ বছরে বাকি অর্ধেক জেলে যাবে। তিনি কটাক্ষ করে বলেছেন, জেলে গিয়েছে মাফলার, এবার হাওয়াই চটির পালা।












Click it and Unblock the Notifications