ইন্ডিয়া জোটের সরকার গঠন নিয়ে আত্মবিশ্বাসী মমতা, কার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ? কেন ছাড়লেন তেলেভাজা-মুড়ি?
Lok Sabha Election 2024: লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে আজ পাঁশকুড়ায় নির্বাচনী জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে উঠে এলো বাম জমানার সন্ত্রাসের ইতিহাস। সেই সঙ্গে বিঁধলেন বিজেপিকে।
আবহাওয়া খারাপ হয়ে আসায় ১৫ মিনিটও ভাষণ দেননি মমতা। তার মধ্যেই নাম না করে বিঁধলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে।

নন্দীগ্রাম আন্দোলনের কথা বলতে গিয়ে মমতা বলেন, বারবার রাস্তায় আটকানো হচ্ছিল। কোলাঘাটে রাত ২টো অবধি দাঁড়িয়ে ছিলাম। মদ খেয়ে পেট্রোল বোমা নিয়ে সিপিআইএমের হার্মাদগুলো আমার গাড়ি ঘিরে দাঁড়িয়ে ছিল। তারা সকলেই এখন বিজেপির ওস্তাদ। আরও টাকা চাই, প্রোটেকশন চাই।
মমতার কথায়, আমি যাতে নন্দীগ্রামে যেতে না পারি সে কারণেই গাড়ি ঘিরে রেখেছিল। আমার উপর অত্যাচার করতো। আমি চিরদিন কৃতজ্ঞ থাকব গোপালকৃষ্ণ গান্ধীর প্রতি। তিনি বাংলার রাজ্যপাল ছিলেন। বিশিষ্ট মানুষ। আজকের রাজ্য়পালের কথা বলব না। রাজ্য রয়েছে, পালের গোদাটা হারিয়ে গিয়েছে!
মমতা বলেন, গোপালকৃষ্ণ গান্ধী বিরোধী দলনেতাকে দিয়ে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। এখনকার অপদার্থটা নয়, তখনকার তৃণমূলের। বিরোধী দলনেতার কাছ থেকে জানতে পারি রাজ্যপালের বার্তা প্রসঙ্গে। তিনি বলেছিলেন, রাতে সরে যেতে। না হলে পেট্রোল বোমা দিয়ে মেরে ফেলবে। পুলিশ কিছু করবে না। সিপিআইএম যা বলে পুলিশ তা-ই করে। এখন তো সব পুলিশকে গালাগালি দিয়ে বেড়াও। সেই পুলিশই প্রোটেকশন দিয়ে রেখেছে। কতজনের হাত কেটেছো, কান কেটেছো চোখ উপড়ে দিয়েছো?
মমতা ঘাটালের বিদায়ী সাংসদ তথা তৃণমূলের প্রার্থী দীপক অধিকারী (দেব)-এর সমর্থনে জনসভায় বলেন, এটা দিল্লির ভোট। আমরা চাই আপনাদের একটা ভোটে আমাদের সব এমপিকে জেতাতে। যাতে ইন্ডিয়া জোট যে সরকার গড়বে তাতে সম্পূর্ণভাবে হেল্প করব। মোদীবাবুদের গ্যারান্টি নেই।
পাঁশকুড়া, কেশপুর-সহ পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন নেতা-কর্মীদের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে মমতা বলেম, আমার জন্য ওঁরা তেলেভাজা, মুড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতো। তেলেভাজা মুড়িটা খেতে ভালোবাসতাম। এখন আর খাওয়া হ না। দিনে খাই একবার। রাতে তেলেভাজা মুড়ি খেলে তো খাওয়াটাই গেল। ভাত, রুটি খাই না। কিছু তো খেতে হবে।
দেবের সঙ্গে অজিত মাইতির সম্পর্ক নিয়ে বারবার বিতর্ক হয়েছে। এদিন সভায় মঞ্চে উপস্থিত সকলের নাম নেওয়ার সময় মমতা অজিতের নাম নেওয়ার পরেই বলেন, আমি রেগে আছি, তবে ক্ষমা করে দিলাম। দেব জিতলে বড় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার আশ্বাস দেন মমতা। তিনি শুভেন্দুর নাম নিয়ে গদ্দার বলে অভিহিত করে বলেন, আমার পাঁশকুড়ায় সব সময় আসি। কয়েক বছর আসা হয়নি। তার কারণ আমার একটা ফেভারিট ছেলেকে গদ্দার জেলে রেখে দিয়েছে। আগামী দিনে ওঁকে বের করবই।












Click it and Unblock the Notifications