নন্দীগ্রাম বিজেপিতে বিরাট ভাঙন, কুণালের সভায় নন্দীগ্রামের আহ্বায়কের যোগদানে বাধা
নন্দীগ্রামের দলত্যাগী বিজেপি কনভেনার বটকৃষ্ণ দাস তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের সঙ্গে চা চক্র যোগ দিয়েছিলেন। তখন থেকেই তাঁর তৃণমূলে যোগ নিয়ে জল্পা চলছিল।
নন্দীগ্রামের দলত্যাগী বিজেপি কনভেনার বটকৃষ্ণ দাস তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের সঙ্গে চা চক্র যোগ দিয়েছিলেন। তখন থেকেই তাঁর তৃণমূলে যোগ নিয়ে জল্পা চলছিল। শুক্রবারের সভায় তিনি তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন বলে জানা গিয়েছিল। কিন্তু বিজেপির বিরুদ্ধে বাধায় ভণ্ডুল হয়ে গেল যোগদান।

শুক্রবার বিকেলে নন্দীগ্রামের সাউথখালিতে একটি রাজনৈতিক কর্মিসভার আয়োজন করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই সভায় কুণাল ঘোষের হাত ধরে বিজেপি ত্যাগী বটকৃষ্ণ দাস, জয়দেব দাস-সহ একাধিক নেতার তৃণমূলে যোগদান করার কথা ছিল। ছয়টি ট্রাকসহ অন্যান্য দলত্যাগীরা সভাস্থলে পৌঁছলেও, বটকৃষ্ণ দাস ওই সভাস্থলে পৌঁছাতে পারেননি। ফলে তিনি যোগ দিতে পারেননি তৃণমূলে।
অভিযোগ, শুক্রবার বিকেলে বেশ কিছু বিজেপি কর্মী-সমর্থক বটকৃষ্ণ দাসের বাড়িতে জমায়েত করে তৃণমূলের কর্মিসভায় আসতে বাধা দান করে। এরপর খবর পেয়ে নন্দীগ্রাম থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ও ব়্যাফ ঘটনাস্থলে পৌছায়। অন্যান্য দলত্যাগীরা তৃণমূলে যোগদান করেন কুণাল ঘোষের হাত ধরে। বটকৃষ্ণ দাসের তৃণমূলে যোগদান করা নিয়ে শুরু হয়ে যায় রাজনৈতিক বিতর্ক।
কুণাল ঘোষের দাবি বটকৃষ্ণ দাসের পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। চাপ দেওয়া হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষ থেকে। বটকৃষ্ণ দাসের তৃণমূলে যোগদান আটকাতেই পরিকল্পিতভাবে এই কাজ করা হয়েছে। তবে বটকৃষ্ণ আসন্ন পঞ্চায়েতে নন্দীগ্রামে তৃণমূলের হয়েই কাজ করবেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা দেন তাঁর রাজনৈতিক সঙ্গী অপর এক দলত্যাগী জয়দেব দাস ।
এদিন নন্দীগ্রামের বুকে বিজেপিত্যাগীদের তৃণমূলে যোগদান ঘিরে সরগরম ছিল নন্দীগ্রামের সাউথখালি এলাকা। নন্দীগ্রামের বুকে বিজেপি থেকে তৃণমূলে যোগদান পর্বের পর কুণাল ঘোষ দাবি করেন, ডিসেম্বরের আগে নভেম্বরেই বিজেপির গড় ভাঙল। তিনি শুভেন্দুকে কটাক্ষের সুরে বলেন, ভাঙবি পরে বাংলা, আগে নিজের গড় সামলা।
কুণাল ঘোষ দাবি করেন, নন্দীগ্রাম থেকেই এই যোগদান পর্বটা শুরু হয়ে গেল। আগামী দিনে রাজ্যে একাধিক জায়গায় এই পর্ব চলবে বলে দাবি কুণালের। জনগণের কাছে আবেদন তৃণমূলের পচা মালগুলো দিয়ে তৈরি বিজেপি সংগঠন থেকে দূরে থাকুন এবং স্বাধীন গণতান্ত্রিককভাবে বাংলায় তৃণমূলের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করুন।
এদিন ৩৩ জন দলত্যাগী বিজেপি নেতা-কর্মী তৃণমূলে যোগদান করলেন। তাতে নন্দীগ্রামের তৃণমূলের রাজনৈতিক শক্তি অনেকটাই বৃদ্ধি পেল বলে মনে করছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। এদিন রাজনৈতিক সভা সেরে বাড়ি ফেরার পথে নন্দীগ্রামে টেক গোবরে ডিওয়াইফাইয়ের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় কুণাল ঘোষকে।












Click it and Unblock the Notifications