টিকটিকির পর এবার মিড-ডে মিলের খাবারে শুয়োপোকা! গুরুত্বে নারাজ পাঁশকুড়ার তৃণমূল চেয়ারম্যান
মিড-ডে মিলে ছোট পোকা থেকে আরশোলা দিয়ে শুরু হওয়ার পর টিকটিকি পর্যন্ত পাওয়া গিয়েছিল। এবার মিলল শুয়োপোকা। তবে নজরদারির যে কোথাও অভাব রয়েছে তা মানতে নারাজ প্রশাসনিক কর্তারা।
টিকটিকির পরে এবার মিডডে মিলে শুয়োপোকা। পাঁশকুড়া পুরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের নারান্দা আইসিডিএস স্কুলের খিচুড়িতে শুয়োপোকা পাওয়ার পরেই উত্তেজনা ছড়ায় গোটা এলাকায়। স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তোলেন অভিভাবকরা।

মিডডে মিলের খাবার শুয়োপোকা
পাঁশকুড়া পুরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের নারান্দা আইসিডিএস স্কুলের ২২১ জন শিশুকে খিচুড়ি দেওয়া হয় প্রতিদিন। সেই মতো বৃহস্পতিবারও তাদের খিচুড়ি এবং ডিম দেওয়া হয়েছিল। হঠাৎ একজন দেখতে পান তার খিচুড়ির মধ্যে মরা শুয়োপোকা। তারপরেই শিশুরা সেই খিচুড়ি আর খেতে চায়নি।

অভিযুক্ত স্কুল কর্তৃপক্ষ
এদিন মিড-ডে মিলের রান্নায় শুয়োপোকা পাওয়ার পরেই পাঁশকুড়া পুরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় আতঙ্কিত হয়ে পড়ে শিশু সহ তার পরিবারের লোকজন। দ্রুত ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে যাওয়া হয় পুরসভার স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। এর আগেও পাঁশকুড়ার ওই আইসিডিএস কেন্দ্রে শুয়োপোকা পড়েছিল বলেই অভিযোগ করেছেন অভিভাবকেরা। স্কুল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির ফলে এমন ঘটনা বারবার ঘটছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের ।

যত কাণ্ড পাঁশকুড়াতেই
বেশ কিছুদিন আগে পাঁশকুড়ার মাইশোরা এলাকার শ্যামপুরের একটি আইসিডিএস কেন্দ্রের মিডডে মিলে টিকটিকি পড়েছিল। যা নিয়ে এক প্রকার শোরগোল পড়ে গিয়েছিল গোটা এলাকায়। তার রেশ কাটতে না কাটতে ফের বৃহস্পতিবার পাঁশকুড়ার পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নারান্দা আইসিডিএস কেন্দ্রে শুয়োপোকা পড়ে থাকতে দেখা যায়। যা নিয়ে এক প্রকার আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এলাকাবাসীর মধ্যে। কোনও ছাত্রছাত্রী এদিনের ঘটনায় অসুস্থ হয়নি বলেই দাবি সেখানকার শিক্ষক ও কর্মীদের।

গুরুত্ব দিতে চাননি পুরসভার চেয়ারম্যান
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান পাঁশকুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান নন্দকুমার মিশ্র। তিনি আইসিডিএস কেন্দ্রটি পরিদর্শন করার পরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়া শিশুদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। তবে এই ঘটনাকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে চাননি পুরসভার চেয়ারম্যান নন্দকুমার মিশ্র। বিগত কয়েকদিন আগে কেন্দ্রীয় দল পূর্ব মেদিনীপুরের একাধিক আইসিডিএস কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করেছিল। কোথাও কোথাও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন করেছিল কেন্দ্রীয় দল। অসুবিধার বিষয়গুলিও নথিভুক্ত করেছিল কেন্দ্রীয় দল। সেই সময় যাঁরা খাবার রান্না করেন এবং পরিবেশন করেন, তাঁদের অ্যাপ্রন পরে কাজ করতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় দল যেতেই তা সব আগের অবস্থায় ফিরে গিয়েছে। এবার পাঁশকুড়াতেই খাবারে শুয়োপোকা পাওয়ার ঘটনায় আইসিডিএস কর্মীদের খাবারের প্রতি যত্নশীল নন বলেই অভিযোগ করছেুন স্থানীয় বাসিন্দা এবং অভিভাবকরা।
তবে উল্লেখ করা প্রয়োজন রাজ্য জুড়েই এই ধরনের ঘটনা ঘটে চলেছে। এর আগে মালদহে মিডডে মিলের চালের ড্রামে মরা টিকটিকি পাওয়া গিয়েছিল। ভাঙড়ে রান্না করা খাবারে টিকটিকি পাওয়া গিয়েছিল। এবারে পাওয়া গেল শুয়োপোকা।












Click it and Unblock the Notifications