আরজি কর মামলার দায়িত্বে CBI-এর দুই মহিলা অফিসার, উন্নাও-হাথরসের প্রধান তদন্তকারীদের আনা হল কলকাতায়
মুখ্যমন্ত্রী কলকাতা পুলিশকে আরজি কর ঘটনার তদন্তের কিনারা করতে ১৮ অগাস্ট পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন। তবে তার পাঁচদিন আগেই কলকাতা হাইকোর্ট ওই ঘটনার তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে তুলে দেয়। সেই পরিস্থিতিতে শাসক তৃণমূলের তরফে সিবিআই-এর ওপরে চাপ তৈরির কৌশল নেওয়া হয়েছে।
তৃণমূলের তরফে বলা হচ্ছে, পাঁচদিন হয়ে গেল এই মামলায় সিবিআই এখনও কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি। একজনকেই গ্রেফতার করা হয়েছিল, যা করেছিল কলকাতা পুলিশ। সেই পরিস্থিতিতে তদন্ত আরও জোরদার করতে সিবিআই আরজি করে মহিলা চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের মালা তুলে দিয়েছে দুই মহিলা আইপিএসের হাতে। এঁদের মধ্যে সীমা পাহুজা রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক পেয়েছেন।

তদন্তের দায়িত্বে কারা
সিবিআই-এর তরফে আরজি করের ঘটনার তদন্তভার এমন দুই আধিকারিকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, যাঁরা বেশ কিছু কুখ্যাত মামলা পরিচালনা করেছেন সাফল্যের সঙ্গে। একজন হলেন ১৯৯৪ সালের আইপিএস ঝাড়খণ্ডের সম্পত মীনা। তিনি উন্নাও ধর্ষণ মামলা এবং হাথরাস ধর্ষণ-হত্যা মামলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এছাড়াও রয়েছেন সীমা পাহুজা। তিনি হাথরাসের তদন্তকারী দলের অংশ ছিলেন।
হিমাচলে দশম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ-হত্যার মামলা
হিমাচল প্রদেশের দশম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার কিনারা করেছিলেন সীমা পাহুজা। তিনি আরজি কর মামলায় একটি দলের দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়াও ২৫ জনের একটি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন সম্পত মীনা।
২০১৭ সালে হিমাচল প্রদেশের ঘটনাটি পার্বত্য রাজ্যকে নাড়া দিয়েছিল। কিশোরী স্কুল থেকে ফেরার সময় নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল। বাড়ি ফেরার সময় তাকে অপহরণ করা হয়েছিল। দুইদিন পরে দেহ পাওয়া যায়। তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছিল। এই মামলায় অনিল কুমার নামে এক কাঠমিস্ত্রি দোষী সাব্যস্ত হন। ২০২১-এ তাকে যাবজ্বীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে আদালত।
সিবিআইয়ের তরফে জানানো হয়েছিল কীভাবে মামলার নিষ্পত্তি করা হয়েছিল। ওই মামলায় উন্নত ডিএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। হাজারজনের বেশি স্থানীয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরে ২৫০ জনের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। সেখানেই অভিযুক্তের বাবার ফরেনসিক নমুনার সঙ্গে মিল খুঁজে পান সিবিআই তদন্তকারী আধিকারিকরা।
উন্নাও ধর্ষণ মামলা
২০১৭ সালে উন্নাও ধর্ষণ মামলার কিনারা করেছিল সিবিআই। বিজেপি নেতা ও স্থানীয় বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গারকে পরে দল থেকে বহিষ্কার করে বিজেপি। ১৭ বছর বয়সী এক দলিত কিশোরীকে গণধরষণের জন্য যাবজ্জীবণ কারাদণ্ড হয় তার।
হাথরস মামলা
২০২০ সালে হাথরস মামলা সারা দেশকে নাড়া দিয়েছিল। ১৯ বছর বয়সী যুবতীকে উচ্চবর্ণের চারজন গণধর্ষণ করে। দিন পনেরো পরে দিল্লির হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। উত্তর প্রদেশ প্রশাসন সেই সময় পরিবারের সম্মতি ও উপস্থিতি ছাড়াই দেহ দাহ করে। এই মামলার চার আসামীর মধ্যে তিনজন বেকসুর খালাস পেয়ে যায়। চতুর্থ ব্যক্তি সন্দীপ ঠাকুরকে অপরাধমূলক হত্যাকাণ্ডের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়।












Click it and Unblock the Notifications