ভোটে হেরে নিরাপত্তা ছেড়েছিলেন শুভেন্দু, একদিনের মধ্যে নিরাপত্তা ফের মোতায়েন করেন বুদ্ধবাবু
বিধানসভায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের বিরোধী দলনেতার মন ভারাক্রান্ত। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল পুরনো দিনের স্মৃতি। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় বুদ্ধবাবুর সঙ্গে কথা হয়েছিল শুভেন্দু অধিকারীর৷ সেই কথাও আজ শুক্রবার তিনি বললেন।
পিস ওয়ার্ল্ড থেকে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর মরদেহ বিধানসভায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শাসক - বিরোধী দলের মন্ত্রী নেতারা বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। বিজেপির বিধায়করা শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও৷

বুদ্ধবাবুর সঙ্গে রাজনীতি গত পার্থক্য ছিল। কিন্তু ব্যক্তিগত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর সামগ্রিক জীবন অন্য পর্যায়ের। সৎ, স্বচ্ছ, সকলের সঙ্গে মিলে কাজ করার ক্ষমতা রাখা একজন নেতা ছিলেন তিনি। এমনই জানালেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই সময় তিনি তৃণমূল কংগ্রেস দলে ছিলেন। ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত প্রথমে বিধানসভার সদস্য ছিলেন শুভেন্দু৷ সেই সময় বুদ্ধবাবু ছিলেন বিধানসভার নেতা।
সেই সময় বিধানসভার পরিবেশ আলাদা ছিল৷ বিধানসভা চলাকালীন শাসক বিরোধী দলের সব বিধায়কদের সঙ্গেই কথা বলতেন বুদ্ধবাবু৷ ডেকে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলতেন তিনি। পুরনো স্মৃতিকে উসকে দিলেন শুভেন্দু।
২০০১ সালের একটি ঘটনার কথাও শুক্রবার বললেন শুভেন্দু অধিকারী৷ সেই বছর তিনি ভোটে হেরে গিয়েছেন। কিরণময় নন্দের কাছে দুই - আড়াই হাজার ভোটে তিনি হেরেছিলেন। তখন প্রার্থীরা নিরাপত্তা পেতেন। ভোটে হেরে যাওয়ার কারণে শুভেন্দু অধিকারী নিরাপত্তা ছেড়ে দিয়েছিলেন।
সেই বছর শিশির অধিকারী ভোটে জিতে বিধানসভা গিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। শুভেন্দু অনেক ভোট পেয়েছেন৷ শুভেন্দুর নিরাপত্তা রাখা উচিত। এই কথা শিশিরবাবুকে বলেছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। একদিনের মধ্যে শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তারক্ষী ফের মোতায়েন করা হয়েছিল।
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর স্টাইল, কাজ করার ভঙ্গিমা অন্যদের থেকে আলাদা ছিল। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় ২০০৭ সালের ১২ মার্চ শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর কথাও হয়েছিল। নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলন সম্পর্কে জানার জন্য বিধানসভায় নিজের ঘরে শুভেন্দু অধিকারীকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন বুদ্ধবাবু।
নন্দীগ্রামের আন্দোলন লক্ষ্মণ শেঠের বিরুদ্ধে। আপনার বিরুদ্ধে নয়৷ দল থেকে লক্ষ্মণ শেঠকে দ্রুত সরানোর কথাও বলেছিলেন শুভেন্দু৷ নন্দীগ্রামের আন্দোলন ছিল মানুষের আন্দোলন। তৃণমূল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, শুভেন্দু অধিকারীর আন্দোলন ছিল না। বলেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী।
বেকারত্ব পশ্চিমবঙ্গের সব থেকে বড় ইস্য। সেই কথা বুঝেছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। সেজন্য টাটাকে রাজ্যে এনেছিলেন। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টাটাকে সরিয়েছিলেন। আজও পশ্চিমবঙ্গের এক নম্বর ইস্যু বেকারত্ব৷ এখন এই ইস্যুতে নবান্ন অভিযান হলে ৫০ লক্ষ বেকার সামিল হবে। জোর গলায় দাবি করলেন শুভেন্দু অধিকারী।












Click it and Unblock the Notifications