রামকৃষ্ণলোকে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী স্মরণানন্দ! শোকপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর
রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী স্মরণানন্দের জীবনাবসান। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন। গত ৩ মার্চ তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে ৯৫ বছর বয়সী মহারাজের চিকিৎসা শুরু হয়। ওইদিনই তাঁকে ভেন্টিলেশনে দিতে হয়। মহারাজের স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় তাঁকে রামকৃষ্ণ মিশন সেবা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করা হয়েছিল।
বয়সজনিত সমস্যার কারণেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার রাত ৮.১৪ মিনিটে তাঁর জীবনাবসান হয়। প্রসঙ্গত, তিনি রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের ষোড়শ অধ্যক্ষ ছিলেন। স্বামী আত্মস্থানন্দের জীবনাবসানের পরে ২০১৭ সালের ১৭ জুলাই তিনি অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।

তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী ২০২০ সালে বেলুড় মঠ সফরের সময় স্বামী স্মরণানন্দজির সঙ্গে সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি কলকাতা সফরের সময় হাসপাতালে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী অনুগামী ও ভক্তদের সমবেদনা জানিয়েছেন।
গত ২৯ জানুয়ারি মূত্রনালীর সংক্রমণের কারণে তাঁকে রামকৃষ্ণ সেবা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানো হয়। এর পর তিনি সেপটিসেমিয়ায় আক্রান্ত হন। শ্বাসকষ্টও শুরু হয় তাঁর। কিডনিতেও সমস্যা তৈরি হয়। ৩ মার্চ ভেন্টিলেশনে দেওয়ার পরে ১৩ মার্চ অস্ত্রোপচার করে কৃত্রিমভাবে শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্য একটি নল তাঁর শ্বাসনালীতে ঢোকানো হয়।
রামকৃষ্ণ সেবা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি থাকার সময় তাঁকে দেখে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও গিয়েছিলেন তাঁকে দেখতে।
এর আগে ২০২২-এর মার্চে একবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন স্বামী স্মরণানন্দ। সেই সময় কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। তবে কয়েকটি ভর্তি থাকার পরে সুস্থ হয়ে আগে মতোই কাজকর্ম শুরু করেছিলেন তিনি।
স্বামী স্মরণানন্দ জন্ম ১৯২৯ সালে তামিলনাড়ুর তাঞ্জাভুর জেলায়। ১৯৪৬-এর স্কুলের পাঠ শেষ করে বাণিজ্য বিভাগে ডিপ্লোমা করেন এবং ১৯৪৯-এ মুম্বইয়ে যান। সেই সময় রামকৃষ্ণ ও স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে মুম্বই রামকৃষ্ণ মিশনের সঙ্গে যোগযোগ। ২২ বছর বয়সে, ১৯৫২ সালে স্বামী শঙ্করানন্দের কাছে দীক্ষা আর ১৯৫৬ সালে ব্রহ্মচর্য নেন।
১৯৫৮ সালে কলকাতায় আসেন। পরবর্তী প্রায় আঠারো বছর অদ্বৈত আশ্রমের বিভিন্ন শাখায় কাজ করেন। ১৯৮৩-এ তিনি রামকৃষ্ণ মিশনের গভর্নির বডির সদস্য হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে চেন্নাই রামকৃষ্ণ মিশনের দায়িত্বও গ্রহণ করেছিলেন।












Click it and Unblock the Notifications