ভক্তশূন্য বেলুড় মঠে মহাষ্টমী, বিধি মেনে হল কুমারী পুজো
ভক্তশূন্য বেলুড় মঠে মহাষ্টমী, বিধি মেনে হল কুমারী পুজো
করোনা বিধি মেনেই এবার বেলু়ড় মঠে মহাষ্টমীতে হয়ে গেল কুমারীপুজো। করোনার কারণে কোনও ভক্তের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি এবারও। তবে বিধি মেনেই সকালে আরতির মধ্য দিয়ে শুরু হয় মহাষ্টমীর পুজো। তারপরে কুমারী পুজো। পাঁচ বছরের শিশুকন্যা শরণ্যাকে এবার উমা হিসেবে পুজো করা হয়। মা সারদা প্রথম কুমারীপুজোর আয়োজন করেছিলেন। তারপর থেকেই বেলুড় মঠে কুমারীপুজো করা হয়। সেই অনুষ্ঠান দেখতে ভিড় করেন অসংখ্য দর্শনার্থী। কিন্তু গতবছর থেকে করোনা কারণে আর সেই পুজোয় দর্শনার্থীদের ঢোকার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

এবারও ভক্তদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ভক্তশূন্য অবস্থাতাতেই পুজোর আয়োজন করা হয়েছে এবার বেলু়ড় মঠে। গত বছর থেকেই মঠের পশ্চিমের বারান্দাতেই দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হয়েছে। সকাল ৯টায় শুরু হয় কুমারী পুজো। তার আগে আরতি করে দুর্গাপুজোর মহাষ্টমীর পুজোর শুরু হয়। এবারের কুমারীপুজো করা হয় পাঁচ বছরের ছোট্ট মেয়ে শরণ্যাকে। বাবা সোমশেখর চক্রবর্তী এবং মা শ্বেতশ্রী চক্রবর্তীর মেয়ে শরণ্যা। সন্ন্যাসীদের কোলে চোপে মণ্ডপে প্রবেশ করে ছোট্ট শরণ্যা। করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে কুমারীর মুখেও ছিল মাস্ক। উমারূপে তাঁকে পুজো করা হয়।
বেলুড়ে প্রথম কুমারী পুজোর প্রথা চালু করেছিলে স্বামী বিবেকানন্দ। ১৯০১ সালে সারদা মায়ের উপস্থিতিতে শঙ্খ, বাদ্য, অর্ঘ, বলয় ও বস্ত্রাদি সহযোগে ৯ জন কুমারীকে পুজো করেছিলেন তিনি৷ তখন থেকেই এই পুজো নিষ্ঠা সহকারে পালন করে চলেছেন বেলুড় মঠের সন্ন্যাসীরা৷ গতবছর থেকেই করোনা বিধি মেনে দুর্গাপুজো করা হচ্ছে বেলুড় মঠে। সেকারণে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই ভক্তদের প্রবেশ নিষেধ করা হয়েছে। বেলুড় মঠে এবারও ভক্তদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল।
করোনা বিধি মেনে এবার বাগবাজারেও কুমারীপুজোর আয়োজন করা হয়। তবে বাগবাজারে এবার কুমারী পুজো দেখার ভিড় ছিল। করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে একাধিক নির্দেশিকা জারি করেছে হাইকোর্ট। তাতে বলা হয়েছে করোনা টিকার দুটি ডোজ থাকলে তবেই পুস্পাঞ্জলিতে অংশ নিতে পারা যাবে। সিঁদুর খেলার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম বলবৎ থাকবে বলে নির্দেশিকা দিয়েছে হাইকোর্ট।
মহাষ্টমীকে সন্ধিপুজো শুরু হবে রাত ৭টা ৪৪ মিনিট নাগাদ। চলবে ৮টা ৩২ মিনিট নাগাদ। অন্যদিকে মহানবমীর পুজো শুরু হবে ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে। করোনা বিধি মেনে পুজোর আনন্দে সামিল হওয়ার কথা বলা হলেও গতকাল থেেক মহানগরের রাস্তায় জনজোয়ার নেমেছে। ঢল নেমেছে মানুষের। করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কিন্তু তারপরেও মানুষ মাস্ক ছাড়াই বেরিয়ে পড়ছেন রাস্তায়। তাই নিয়ে চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন। বিেশষ করে শিশুদের নিয়ে ভিড়ে সামিল না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তাঁরা। কারণ করোনার থার্ড ওয়েভে শিশুদের সংক্রমণ বেশি হবে বলে সতর্ক করেছিলেন গবেষকরা। সেকারণে গতকালই তড়িঘড়ি শিশুদের করোনা টিকার অনুমোদন দিয়েছে ড্রাগ কন্ট্রোলার। কোভ্যাক্সিনের করোনা টিকা ২ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের জন্য অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র।












Click it and Unblock the Notifications