বিজয় দিবস কেন পালন করা হয়? জেনে নিন তার ইতিহাস
বিজয় দিবস কেন পালন করা হয়? জেনে নিন তার ইতিহাস
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ সরকার ভারতকে স্বাধীনতা দিলেও তা দু’টি দেশে ভাগ করে দেয়। তারপর থেকেই ভারত–পাকিস্তানের মধ্যে প্রচুর লড়াই হয়েছে। কিন্তু সবকিছুর মধ্যেও ১৯৭১ সালে ইন্দো–পাকিস্তান যুদ্ধ দেশের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।

১৯৭১ সালটি দেশের ইতিহাসের পাতায় জ্বলজ্বল করার কারণ হল ভারতীয় সেনা পাকিস্তানকে দু’টি খণ্ডে ভাগ করে দিয়েছিল, যার একটি খণ্ড হল বাংলাদেশ। এই বছরের ১৬ ডিসেম্বর ভারত যুদ্ধে হারিয়েছিল পাকিস্তানকে। এই কারণের জন্যই প্রত্যেক বছর এই দিনটি 'বিজয় দিবস’ বা 'ভিকট্রি ডে’ বলে পালন করা হয়। ওই বছর যুদ্ধের সূচনা করে পাকিস্তান। তারা প্রথম ১১টি ভারতীয় সেনা শিবিরে বিমান হামলা করে। যার ফলস্বরূপ ৩,৮০০ জন ভারতীয় ও পাকিস্তানি সেনাকে নিজেদের জীবন আত্মত্যাগ করতে হয়। দু’দেশের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে পড়েছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। তবে এটা মনে করা হয় যে ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের নির্বাচনের পরই এই আগুন আরও জ্বলে উঠেছিল। যেখানে পূর্ব পাকিস্তানের আওয়ামি লিগ ১৬৯ আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসনে জয়ী হয়েছিল। আওয়ামি লিগ নেতা শেখ মুজিবর রহমান ছ’টি পয়েন্ট উল্লেখ করে দাবি করেন যে সরকার গড়ার। যদিও পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীত্ব মুজিবরকে দিতে অস্বীকার করেন। পরে রাষ্ট্রপতি ইয়াহা খান সেনাবাহিনীকে ডেকে পশ্চিম পাকিস্তানিদের বেশিরভাগ অংশ নিয়ে সরকার গঠন করে।
১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ স্বাধীনতার জন্য লড়াই করা বাংলাদেশিদের পুর্ণ সমর্থন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, অসম, মেঘালয় এবং ত্রিপুরার সীমান্তে গড়ে তোলা হয় শরর্ণার্থী শিবির।
এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক বিজয় উৎসবের পূর্বের ইতিহাস
১৯৭১ সালের ৭ মার্চঃ ঢাকাতে প্রকাশ্য জনসভায় শেখ মুজিবর রহমান ঘোষণা করেন, 'বর্তমানে আমরা যে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি তা স্বাধীনতার জন্য লড়াই।’
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চঃ যে কোনও ধরনের প্রতিবাদ রুখতে পাকিস্তান বাহিনী পরিকল্পনা করে প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। তাদের এই অভিযানে হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হন।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চঃ কালুরঘাট রেডিও স্টেশন থেকে রহমান স্বাধীনতা পাওয়ার কথা ঘোষণা করেন। ভারতীয় রেডিও স্টেশনের মধ্য দিয়ে তা বিশ্বের কাছে পৌঁছায়।
১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিলঃ আওয়ামি লীগের নেতারা অস্থায়ী সরকার গঠন করেন।
১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বরঃ ১১টি ভারতীয় সেনা শিবিরে পাকিস্তান বিমান হামলা করার পর ভারত–পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরঃ পাক বাহিনীর সর্বোচ্চ কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এএকে নিয়াজি মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে।
১৩দিন ধরে এই যুদ্ধ চলেছিল। ইতিহাসে এটি সবচেয়ে কম দিনের যুদ্ধ বলে উল্লেখিত রয়েছে। ভারতীয় সেনারা পাক সেনাদের হাঁটু মুড়ে নিয়ে এসেছিল। ৯৩ হাজার পাক সেনাকে বন্দী বানিয়ে ৭৫ মিলিয়ন বাংলাদেশীকে তাঁদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছিল। তাই এই দিনটি বাংলাদেশের কাছে খুব গর্বের দিন এবং প্রত্যেক বছর তাঁরা এই দিনটি বিজয় দিবস হিসাবে পালন করে। বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতও এই দিনটি উদযাপন করে সমারোহের সঙ্গে। কারণ এই দিনই পাকিস্তানকে যুদ্ধে পরাজিত করেছিল ভারত।












Click it and Unblock the Notifications