Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

বাংলাদেশে হিংসাই এখন নিয়ম, চরমপন্থীদের কাছে অসহায় ইউনূস সরকার, বিস্ফোরক অভিযোগ শেখ হাসিনার

ঢাকায় ফের অশান্তির আবহে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করলেে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে হিংসা এখন 'নিত্যদিনের ঘটনা'তে পরিণত হয়েছে, আর সেই পরিস্থিতিতে চরমপন্থীরা ক্রমশ মাথাচাড়া দিচ্ছে।

এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দাবি করেন, চরমপন্থী ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড ও তার পরবর্তী দেশজুড়ে অশান্তি বর্তমান সরকারের অক্ষমতাকেই স্পষ্ট করে তুলেছে। তাঁর বক্তব্য, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশের পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। এর প্রভাব শুধু দেশের অভ্যন্তরেই সীমাবদ্ধ নয়, প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্কেও টানাপোড়েন বাড়ছে.বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে।

হাসিনার কথায়, "এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে দেশে কী মাত্রার আইনহীনতা চলছে। ইউনূসের আমলে হিংসাই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। অন্তর্বর্তী সরকার হয় বাস্তবতা অস্বীকার করছে, নয়তো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষমতাই তাদের নেই। এর ফলে বাংলাদেশ যেমন ভিতর থেকে দুর্বল হচ্ছে, তেমনই আন্তর্জাতিক মহলেও বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে।"

প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগর এলাকায় রিকশায় যাওয়ার সময় খুব কাছ থেকে গুলি করা হয় শরিফ ওসমান হাদিকে। মাথায় গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। এই মৃত্যুর পরই শাহবাগ সহ দেশের নানা প্রান্তে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, বিচার চেয়ে পথে নামেন বহু মানুষ।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আরও অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার চরমপন্থী ইসলামপন্থী শক্তিকে প্রশাসনের ভেতরে ঢুকতে দিয়েছে। তাঁর দাবি, দণ্ডিত জঙ্গিদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীগুলিকে প্রকাশ্য জীবনে সক্রিয় ভূমিকা নিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এমনকি মন্ত্রিসভাতেও চরমপন্থীদের জায়গা করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।

হাসিনার মতে, "বিদেশের সামনে সংযত ও মধ্যপন্থী মুখ দেখাতে ইউনুসকে ব্যবহার করা হচ্ছে, অথচ দেশের ভেতরে চলছে কট্টরপন্থী এজেন্ডা। এটা শুধু ভারতের নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্যই বিপজ্জনক।" তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ধর্মনিরপেক্ষতাই ছিল বাংলাদেশের অন্যতম শক্ত ভিত।
ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত বিরোধী বিক্ষোভ, সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা এবং হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকেই দায়ী করেন। অভিযোগ, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসন।

উল্লেখ্য, ১৮ ডিসেম্বর ধর্ম অবমাননার অভিযোগে উত্তেজিত জনতার হাতে পিটিয়ে খুন করা হয় ২৭ বছরের দীপু দাসকে, পরে দেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
চট্টগ্রামে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রের পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ভারতের উদ্বেগ অমূলক নয়। তাঁর দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের মদতে উৎসাহিত চরমপন্থীরা সংখ্যালঘু, সংবাদমাধ্যমের অফিস ও কূটনৈতিক মিশনকেও নিশানা করছে। "দায়িত্বশীল সরকার হলে দূতাবাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করত এবং হামলাকারীদের কঠোর শাস্তি দিত। কিন্তু এখানে উল্টোটা হচ্ছে," বলেন তিনি।

তবে ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ জুড়ে প্রতিবাদ, ভাঙচুর ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও গভীর হচ্ছে বলেই মত পর্যবেক্ষকদের।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+