আমাদের অঙ্গীকার রক্ষা: ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক মহড়ার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বড় আকারের দীর্ঘদিন ব্যাপী সামরিক মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেনাবাহিনীর নবম এয়ার ফোর্স বা এয়ার ফোর্সেস সেন্ট্রাল (এএফসিইএনটি) এই মহড়া পরিচালনা করবে, যা মূলত সেন্টকমের বিমান শাখা হিসেবে কাজ করে।
মার্কিন নৌবাহিনীর এয়ারক্র্যাফট ক্যারিয়ার 'আব্রাহাম লিংকন' স্ট্রাইক গ্রুপ ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে, ফলে আঞ্চলিক সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদার হল। এএফসিইএনটি এর মতে, এবারের মহড়ার মূল লক্ষ্য দ্রুত সেনা ও যুদ্ধবিমান মোতায়েনের সক্ষমতা বাড়ানো, আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা ও জটিল পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক সামরিক প্রতিক্রিয়া প্রদানের প্রস্তুতি নিশ্চিত করা।

এএফসিইএনটি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডেরেক ফ্রান্স বলেন, "আমাদের বিমানযোদ্ধারা কঠিন পরিস্থিতিতেও নিরাপদে ও দক্ষতার সঙ্গে যুদ্ধ মিশন পরিচালনার সক্ষমতা প্রমাণ করছে। আকাশ শক্তি যেখানে যেভাবে প্রয়োজন, সেখানে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকা আমাদের অঙ্গীকার।"
মার্কিন সামরিক কর্তারা জানান, মহড়ায় ট্যাকটিক্যাল গতিশীলতা, বহুমুখী ঘাঁটি থেকে অভিযান চালানোর সক্ষমতা ও সীমিত লজিস্টিক সহায়তায় যুদ্ধ মিশন টিকিয়ে রাখার ক্ষমতা পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি বহুজাতিক কমান্ড ও কন্ট্রোল ব্যবস্থাও যাচাই করা হবে।
মহড়ার অংশ হিসেবে দ্রুত অবতরণ, উড্ডয়ন ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম অনুশীলনের জন্য বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট দল মোতায়েন করা হয়েছে। সব কার্যক্রমই স্বাগতিক দেশগুলোর অনুমতি ও বেসামরিক ও সামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, এই সামরিক প্রস্তুতিমূলক প্রদর্শন চলছে এমন সময়ে যখন ইরানজুড়ে দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও প্রতিবাদ ক্রমেই বিক্ষোভে রূপ নিচ্ছে। অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া ক্ষোভ এখন সরকারবিরোধী দাবিতে বিস্তৃত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একাধিক মানবাধিকার সংগঠন বলছে, এই অস্থিরতায় ইতিমধ্যেই হাজারো বেসামরিক প্রাণহানি ঘটেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে মারাত্মক বলপ্রয়োগের ব্যাপারে তেহরানকে সতর্ক করলেও সাম্প্রতিক সময়ে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ প্রসঙ্গে কিছুটা মৃদু সুরে কথা বলছে ওয়াশিংটন।












Click it and Unblock the Notifications