মহামারি পরিস্থিতিতে বাড়ছে বেকারত্ব, বিশ্বজুড়ে বৃদ্ধি পেতে পারে আত্মহত্যার সংখ্যা
মহামারি পরিস্থিতিতে বাড়ছে বেকারত্ব, বিশ্বজুড়ে বৃদ্ধি পেতে পারে আত্মহত্যার সংখ্যা
কোভিড–১৯ মহামারির জেরে বিভিন্ন দেশে বেড়েছে বেকারত্ব। তার কারণ প্রতিটি দেশেই অর্থনৈতিক সঙ্কট চরমভাবে দেখা দিয়েছে। ক্রমাগত লকডাউনের কারণে মানুষের জীবন ও জীবিকা বিপর্যস্ত হচ্ছে, আর তার জন্য যে মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে, তা কোনওভাবেই অস্বীকার করা যায় না। নতুন এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে কোভিড–১৯ এর কারণে চাকরি হারানোর ফলে এক বছরে স্বাভাবিকের চেয়ে বিশ্বব্যাপী ৯,৫৭০ জন বেশি আত্মহত্যা করতে পারে।

বৃদ্ধি পেতে পারে বেকরত্ব
এই পরিসংখ্যান তৈরি করেছেন সুইস গবেষক ওলফ্রাম কায়োল ও কার্লোস নর্ডিট। তাঁরা আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠনের পরিসংখ্যান ব্যবহার করে জানিয়েছেন, কোভিড-১৯-এর পরিস্থিতির পর ৪.৯ শতাংশ থেকে বেকারত্ব বৃদ্ধি পেতে পারে ৫.৬ শতাংশ এবং সর্বোত্তম ক্ষেত্রে ৫.১ শতাংশে উঠতে পারে। যার ফল স্বরূপ আত্মহত্যার ঘটনাও একবছরে প্রথম ক্ষেত্রে বাড়বে ৯,৫৭০ ও পরে তা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ২,১৩৫-তে। কোভিড-১৯-এর জন্য বিশ্বজুড়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তার জন্য ৫.৩ মিলিয়ন থেকে শুরু করে ২৪.৭ মিলিয়ন চাকরি হারাতে পারে।
বিশ্লেষকরা আরও বিশদে তথ্য সংগ্রহ করার জন্য ২০০০ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে কাজ হারানোর জন্য আত্মহত্যার পরিসংখ্যানটি ব্যবহার করেছিলেন। তাঁরা লক্ষ্য করেছেন, সেই সময়কালে বিশেষ করে ২০০৮ সালের আর্থিক সঙ্কটের সময় আত্মহত্যার ঝুঁকি বেড়ে গিয়েছিল ২০-৩০ শতাংশ, যা বেকারত্বের সঙ্গে যুক্ত।

প্রতিটি আত্মহত্যার পেছনে ২০টি করে প্রচেষ্টা
গবেষকরা জানিয়েছেন, হু-এর মতে প্রত্যেকটি আত্মহত্যার ক্ষেত্রে ২০টি করে প্রচেষ্টা রয়েছে। হু সতর্ক করে জানিয়েছে যে ২০০৮ সালের তথ্য বলছে বেকার হওয়ার আগে থেকেই আত্মহত্যার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর অর্থ মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে এবং এই মহামারি-আর্থিক সঙ্কটের সময় মানুষের বেশি করে সাহায্যের প্রয়োজন রয়েছে এবং মানসিক স্বাস্থ্য পদ্ধতির ওপর অতিরিক্ত বোঝা চাপতে পারে।

মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নজর
গবেষকরা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে ডুবে যাওয়া অর্থনীতি ও কোভিড-১৯-এর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর মনোনিবেশের ফলে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত অসুস্থদের জন্য ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে। কারণ চাকরি না থাকার কারণে ওই পরিস্থিতিকে না মেনে নেওয়ার জন্য আত্মঘাতী হওয়ার ভাবনা-চিন্তা অনেকেই করতে পারেন। তাই এই সঙ্কটের সময় মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে গবেষকরা।

কর্মী ছাঁটাই
প্রসঙ্গত, কোভিড-১৯ মহামারির জন্য গোটা বিশ্বে শুরু হয়েছে বিশাল অর্থনৈতিক সঙ্কট। বিভিন্ন বড় বড় সংস্থাও এই পরিস্থিতির সামনে অসহায় বোধ করছেন। কর্মীদের পুরো বেতন দেওয়া ও সংস্থার সমস্ত কিছু বজায় রাখার চাপ না নিতে পেরে অনেকেই কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছেন বাধ্য হয়ে। ওলা, উবার, জোম্যাটো, সুইগি সহ বেশ কিছু টেক সংস্থাও কর্মী ছাঁটাই করেছে।












Click it and Unblock the Notifications