যুদ্ধবিরতির ছায়া সরে গেল গাজা থেকে, ফের ইজরায়েলি বোমাবর্ষণ, তীব্র হুঁশিয়ারি নেতানিয়াহু সরকারের
গাজার আকাশে ফের আগুনের ছায়া। কিছুদিন আগেই আমেরিকার মধ্যস্থতায় যে শান্তির স্বপ্ন দেখা গিয়েছিল, সেই স্বপ্ন আজ ছারখার। যুদ্ধবিরতির আশ্বাসে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছিলেন গাজাবাসী, অনেকেই ফিরছিলেন ভগ্ন শহরে, খুলছিল দোকানপাট, বাচ্চারা নামছিল রাস্তায় খেলতে। কিন্তু রবিবার সকালেই সেই আশা ভেঙে চুরমার হয়ে ইজরায়েল ফের শুরু করল বিমানহামলা।
আল জাজিরা সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পশ্চিমে আল মাওয়াসি এলাকায় একটি ত্রাণ শিবিরেই মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৩ জনের। উত্তর ও মধ্য গাজায় আরও বহু জায়গায় বিস্ফোরণে প্রাণ গেছে অন্তত ১৯ জনের, যার মধ্যে রয়েছেন এক সাংবাদিকও। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সকাল থেকেই টানা বিমানহামলায় কেঁপে উঠেছে গাজা উপত্যকা। ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি, এই হামলা শুধুমাত্র হামাসের ঘাঁটি লক্ষ্য করেই চালানো হয়েছে।

কিন্তু শুধু বোমাবর্ষণেই থেমে থাকেনি তেল আভিভ। ইজরায়েল সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গাজায় কোনও ত্রাণ বা মানবিক সাহায্য প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এপি সংবাদসংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইজরায়েল প্রশাসন বলেছে হামাসের কার্যকলাপের কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনিশ্চিত, তাই ত্রাণ প্রবেশ আপাতত স্থগিত।
ইজরায়েলের বিদেশমন্ত্রী ইজরায়েল কাট্জ প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, "আমাদের সেনাদের সুরক্ষা সর্বাগ্রে। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য হামাসকে কঠোর মূল্য দিতে হবে।"
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে হামাস ও ইজরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। বিশ্বজুড়ে সেটিকে শান্তির সম্ভাবনা বলে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু রবিবারই মার্কিন গোয়েন্দাদের দাবি হামাস নতুন করে হামলার ছক কষছে। যদিও হামাস সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবুও সেই সন্দেহের জেরেই ফের হামলার পথে গেছে ইজরায়েল, এমনটাই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
গাজার মানুষদের কাছে আবারও নামল অন্ধকারের ছায়া, যেখানে শান্তির আলো ফোটার আগেই যুদ্ধের আগুনে জ্বলে উঠল আকাশ।












Click it and Unblock the Notifications