Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

হাল ছেড়ো না বন্ধু, ইমরান খানের জীবন কাহিনি জানলে অনেক কিছু শিখে যেতে পারেন

এক মাথা ঝাঁকড়া চুল। মাথার ফেট্টি দিয়ে তা সামলানোর চেষ্টা। দুধ-সাধা জামা প্যান্ট আর হাতে একটা লাল বল এই নিয়ে ছুটে চলেন ইমরান। চেহারা জুড়ে হিন্দুকূশ পার্বত্য অঞ্চলের মানুষদের গড়ন।

এক মাথা ঝাঁকড়া চুল। মাথার ফেট্টি দিয়ে তা সামলানোর চেষ্টা। দুধ-সাধা জামা প্যান্ট আর হাতে একটা লাল বল এই নিয়ে ছুটে চলেন ইমরান। চেহারা জুড়ে হিন্দুকূশ পার্বত্য অঞ্চলের মানুষদের গড়ন। লম্বা-ছিপছিপে ফরসা সেই চেহারার মানুষটার জন্য হার্টবিট যেন থেমে যেতে চায় তামাম মহিলা ভক্তের।

লক্ষ্যে না পৌঁছনো পর্যন্ত থামতে জানেন না ইমরান

আবার ব্যাট হাতে যখন নামেন ছিপছিপে চেহারার মাথায় থাকে কাউন্টি ক্যাপ, কাঁধে তুলে ধরা ব্যাট। যেন হলিউডের কোনও নায়ককে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে ২২ গজে। ৭০ দশক থেকে ৮০-র দশকে এশিয় ক্রিকেটে ইমরানের থেকে সুপুরুষ আর কে ছিলেন? মনসুর আলি খান পতৌদি এশিয় ক্রিকেটে যে আভিজাত্য আর মাচো ইমেজের সিংহাসনটা ফাঁকা রেখে অবসর নিয়েছিলেন অক্সফোর্ড স্নাতক ইমরান তাতে যেন সফলভাবে চেপে পড়েছিলেন।

লক্ষ্যে না পৌঁছনো পর্যন্ত থামতে জানেন না ইমরান

ইমরানের সাহেবিয়ানা দেখতেই তখন যেন মাঠে ভীড় উপচে পড়ত। মনে হত যেন কোনও বিলাতী সাহেব এমনি যেতে যেতে ক্রিকেট ময়দানে নেমে পড়েছেন। কিন্তু এই সাহেব যে ক্রিকেট প্লেয়ার হিসাবে প্রবল দক্ষ তা খেলা দেখার পর মালুম হত সকলের। আর তেমনি তাঁর নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা। সমস্ত দোর্দণ্ড প্রতাপ ক্রিকেটার যেন ইমরানের ব্যক্তিত্বের সামনে এক্কেবারে জুজু হয়ে যেতেন। এই ব্যক্তিত্বে ভর করেই তো বিশ্ব ক্রিকেটে ইতিহাস তৈরি করেছিল ইমরান ও তাঁর ছেলেরা। পাকিস্তান হয়েছিল বিশ্ব ক্রিকেট চ্যাম্পিয়ন।

লক্ষ্যে না পৌঁছনো পর্যন্ত থামতে জানেন না ইমরান

এই আভিজাত্য আর টানটান ব্যাক্তিত্বে ভর করে রাজনৈতিক বিদ্বেষে দীর্ণ পাকিস্তানে ইমরান নেমে পড়েছিলেন রাজনৈতিক দল গড়তে। ইমরান যখন তেহরিক-ই ইনসাফ তৈরি করেছিলেন তখন ক্রিকেট বিশ্ব ভেবেছিল এই বুঝি তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেলেন! না ক্রিকেটে ময়দানে যে ইমরান নিজের হাতে খেলা ঘোরাতে পারতেন সেই তিনি রাজনৈতিক জীবনের শুরুতেই প্রায় মাটি হারাতে বসেছিলেন।

লক্ষ্যে না পৌঁছনো পর্যন্ত থামতে জানেন না ইমরান

রাজনীতির মঞ্চে খেলাটা যে অন্যরকম তা বুঝতে বুঝতেই ইমরানের কেটে গিয়েছিল প্রায় দেড় দশক। এই খাবি খাওয়া রাজনৈতিক জীবনে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে প্রতিনিধি হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন বটে কিন্তু তাতে তেহরিক-ই ইনসাফ-এর লাভ হয়নি। ষড়যন্ত্র, কাদা ছোঁড়াছোড়ি, সন্ত্রাস, মৌলবাদে ভরা পাকিস্তানের রাজনীতিতে খেলোয়াড় হতে গেলে স্ট্র্যাটেজি যে বদলাতে হবে তা মানতেন না ইমরান। সারাক্ষণই তাঁর গলায় পাকিস্তানের সংস্কার ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের কথা। গণতান্ত্রিক সরকারে কেন সেনাবাহিনী, আইএসআই-এর প্রভাব থাকবে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলতেন ইমরান। কিছু মুষ্ঠিমেয় মানুষ ইমরানের এই কথাকে পাত্তা দিলেও মৌলবাদীর হাতে নিয়ন্ত্রিত জনগোষ্ঠী এবং দুর্নীতিপরায়ণ রাজনীতিতে অভ্যস্ত দলগুলির সমর্থকরা বারবার ইমরানের মুণ্ডুপাত করতেন।

লক্ষ্যে না পৌঁছনো পর্যন্ত থামতে জানেন না ইমরান

এত বৈপরিত্য-র সত্ত্বেও হাল ছাড়েননি ইমরান। তখনও জেমাইমার সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়নি। লন্ডনে সপরিবারে চলে যাওয়ার জন্য নানা চাপ আসত। লন্ডন থেকেই মা-এর স্মৃতিতে তৈরি ক্যানসার হাসপাতালের কাজ পরিচালনারও পরামর্শ পেয়েছিলেন ইমরান। আসলে স্পোর্টসম্যান তিনি। হার মানতে শেখেননি। তাই হাজারো পরামর্শ তাঁকে প্রভাবিত করতে পারেনি। ফল জেমাইমার সঙ্গে বিচ্ছেদ। দেশ ও দেশের মানুষের জন্য তাও মেনে নিয়েছিলেন ইমরান। এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন জেমাইমার সঙ্গে বিচ্ছেদের আগের ছ'মাস এবং বিচ্ছেদের পরের ছ'মাস তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়।

লক্ষ্যে না পৌঁছনো পর্যন্ত থামতে জানেন না ইমরান

জেমাইমার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ইমরানের জীবনে আরও উত্থান-পতন হয়। রেহমান খান নামে বিবিসির এক প্রাক্তন সাংবাদিককেও বিয়ে করেন। কিন্তু ৯ মাসের বেশি টেকেনি সেই বিয়ে। এরপর ধর্মগুরু বুশারা মানেকাকে বিয়ে করেছেন। কিন্তু, সরকারিভাবে বিচ্ছেদ না হলেও দু'জনে এখন আলাদা থাকেন।

লক্ষ্যে না পৌঁছনো পর্যন্ত থামতে জানেন না ইমরান

এতসত্ত্বেও ভেঙে পড়েননি ইমরান। দুঃসময়ে টিকে থাকার লড়াই তো তাঁর মজ্জায়। পাকিস্তানের রাজনীতির খেলাটা একটু একটু করে যে ঘুরছে তা এবার বুঝতে পেরেছিলেন ইমরান। দরকার ছিল শুধু কৌশল তৈরির। তাই সেনাবাহিনী ও আইএসআই-এর সঙ্গে নওয়াজ শরিফের সরকারের দ্বন্দ্বের ফায়দা তুলতে নেমে পড়েন তিনি। তারমধ্যে নওয়াজ শরিফের দল ইমরানের রাজনৈতিক জীবন শেষ করতে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিল। কিন্তু মামলায় ইমরানেরই জয় হয়। এই মামলার জেরে সেনাবাহিনী ও আইএসআই-এর আরও কাছে আসেন ইমরান।

লক্ষ্যে না পৌঁছনো পর্যন্ত থামতে জানেন না ইমরান

দুধে খেলোয়াড়ের মতোই রাজনীতির পিচটাকে দুই দশকের অভিজ্ঞতায় চিনে নিতে অসুবিধা হয়নি তাঁর। পিপিপি বা পিএমএল-এন নয় সেনাবাহিনী পিটিআই-কেই হাতিয়ার করতে তায় তা বুঝে গিয়েছিলেন ইমরান। আর তাই মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই সেনাবাহিনী ও আইএসআই-কে নিজের দিকে চলে নিয়ে আসতে সমর্থ হন ইমরান। এর ফলে পাকিস্তানে প্রধানমন্ত্রীর তখতে বসার প্রধান দাবিদারদের তালিকায় সবথেকে জোরালো নামটি হল ইমরান খান।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+