চিন-তালিবান কি ঘনিষ্ঠতার পথে! আফগান মুলুকে 'উন্নয়নের' লক্ষ্যে বেজিংকে বড় বার্তা সংগঠনের নেতার

১৫ অগাস্ট ২০২১ সালে কাবুল পতনের পরই আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরফ গনি পদ ছাড়েন। শুধু পদই নয়, দেশ ছেড়েও বেরিয়ে যান তিনি। আপাতত গনি রয়েছেন আমিরশাহীতে। এমন অবস্থায় কাবুল তালিবানের হাতে যেতেই চিন জানিয়েছিল যে, তারা তালিবানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে আগ্রহী। এরপরই তালিবানের তরফে দেওয়া হল বড় বার্তা।

চিনকে চাইছে তালিবান!

চিনকে চাইছে তালিবান!

তালিবানের মুখপাত্র সুহেল শাহিন জানিয়েছেন, বিশ্ব জুড়ে শান্তি রক্ষায় বড়সড় পদক্ষেপ নিয়েছে চিন। বহু বড়সড় সমঝোতায় চিনের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি। এর সঙ্গেই তালিবান জানিয়েছে, সাফ ভাষায় যে, আফগানিস্তানের উন্নয়নে তারা চিনকে পাশে পেতে চাইছে। গত সপ্তাহান্তেই আফগানিস্তানের প্রায় ৯৮ শতাংস দখল করে আপাতত কাবুলের তখতে তালিবানের শাসন শুরুর পথে। এই পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানের কূটনৈতিক পদক্ষেপ কী হতে পারে, তা নিয়ে রয়েছে বহু জল্পনা। সেই জায়গা থেকে খোদ তালিবান নেতার মুখে এবার বড়সড় বার্তা এসেছে বেজিংয়ের প্রতি।

কেন চিনকে পছন্দ তালিবানদের?

কেন চিনকে পছন্দ তালিবানদের?

তালিবানি নেতা সুহেল শাহিন জানিয়েছেন যে , রাশিয়া বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানের মাটিতে নেমে লড়াইয়ের ইতিহাসের ছাপ রেখে গিয়েছে। তবে চিনের সঙ্গে আফগানিস্তানের ইতিহাসে এমন একবারও হয়নি। আফগান মাটিতে চিন কখনও যুদ্ধ করেনি। ফলে সেই জায়গা থেকে তালিবানের 'গুড বুকে' রয়েছে বেজিং। আর সখ্যতার এই ক্যানভাস থেকেই তালিবানরা আফগানিস্তানের বুকে চিনকে চাইছে উন্নয়নমূলক বিভিন্ন প্রজেক্টের জন্য। এর আগে আশরফ গনি প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন, ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলিকে নিয়ে চিন বহু বৈঠক করে। সেখানে আফগানিস্তানে উন্নয়নমূলক একাধিক প্রজেক্টের প্রসঙ্গ তোলে চিন। সেই জায়গা থেকে এখন আফগানিস্তানে মসনদ বদল হলেও, উন্নয়নের স্বার্থে চিনের দিকে তাকিয়ে নয়া তালিবানরা।

 'চিনের অর্থনৈতিক ক্ষমতা ভালো'

'চিনের অর্থনৈতিক ক্ষমতা ভালো'

আফগানিস্তানে তালিবান মুখপাত্রের বক্তব্য, 'চিন বড় দেশ। ওদের বড় অর্থনীতি ও ক্ষমতা রয়েছে। আমার মনে হয় ওরা আফগানিস্তানকে পুনর্গঠনে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।' তাঁর মতে আফগানিস্তানের উন্নয়ন, পরিকাঠামো গঠন, ফের একবার নাগরিককদের জীবনের মান উন্নয়নে চিন বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। চিনের আর্থিক ক্ষমতার কথা তিনি বারবার নিজের বক্তব্যে তুলে ধরেছেন। এর আগে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে বৈঠকে বসে তালিবানের প্রতিনিধি দল। উত্তর চিনের তিয়ানজিনে এই বৈঠক সম্পন্ন হয়। তারপরই চিনের প্রতি এই বড় বার্তা দিয়েছেন তালিবান নেতা। তবে সেই বৈঠকে চিন জানিয়েছে যে , আফগানিস্তানে যেন মধ্যপন্থার ইসলামের শাসন থাকে। তারপরই তালিবানের এই বার্তা ।

 তালিবানকে দেওয়া বার্তায় চিন কী জানিয়েছিল?

তালিবানকে দেওয়া বার্তায় চিন কী জানিয়েছিল?

চিন ও তালিবানের প্রতিনিধিদের মধ্যে যে বৈঠক হয়েছে, তাতে বেজিং সাফ জানিয়েছে, ধর্মীয় উগ্রপন্থা যেন কোনও মতেই আফগানিস্তানে বড়আকার না ধারণ করে। এরফলে পার্শ্ববর্তী চিনের জিনজিয়াং প্রভিন্সে প্রবল প্রভাব পড়ে। বহুদিন ধরে তালিবানের দাপটে থাকা এই এলাকায় বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি আস্ফালন বাড়াতে শুরু করেছে। সেই প্রসঙ্গও উত্থাপন করে তালিবানকে কার্যত চিন সতর্ক করেছিল।

তালিবানি হানা

তালিবানি হানা

এদিকে, ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কের বার্তা দিলেও, হেরাত ও কান্দাহারে আফগানিস্তানের বুকে তালিবানিরা ভারতীয় দূতাবাস ঘিরে রীতিমতো তাণ্ডব চালাতে শুরু করে দিয়েছে। হেরাত ও কান্দাহারে ভারতীয় দবতাবাসের ভিতর ঢুকে সেখানের যাবতীয় নথি চুরি করেছে তালিবানিরা। নারকীয়তা থেমে থাকেনি এখানেই। দূতাবাস থেকে গাড়ি চুরি করে নিয়ে চলে গিয়েছে তালিবানিরা। তবে কাবুলের বুকে ভারতীয় দূতাবাসের মূল অফিসে তালিবান কোনও তাণ্ডব চালিয়েছে কি না, সে সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। শোনা গিয়েছে হেরাত কান্দাহারের ভারতীয় দবতাবাসে তালিবানিরা তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। তালিবান জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে এটি করা হয়েছে, পরে ভারতীয় কূটনীতিকরা ফিরলে তাঁদের কাছে চাবি হস্তান্তর করে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। এদিকে, গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে হাক্কানি নেটওয়ার্কের ৬০০ এর বেশি জঙ্গি কাবুলের ভিতর প্রবেশ করেছে। গোটা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে শুরু করে দিয়েছে দিল্লি। ক্রমেই কাবুলকে ফোকাস করে এগোচ্ছে দিল্লির কূটনীতি।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+