৮ দিন বলে গিয়ে ৯ মাস থাকলেন সুনীতারা, কেন এতটা সময় মহাকাশেই থাকতে হল তাঁদেরকে?
নয় মাসের দীর্ঘ মিশন শেষে নাসার নভোচারী সুনীতা উইলিয়ামস ও বুচ উইলমোর অবশেষে পৃথিবীতে ফিরে আসছেন। বোয়িংয়ের ব্যর্থ উড়ানের কারণে তাদের প্রত্যাবর্তন দীর্ঘায়িত হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত স্পেসএক্স-এর ক্রু-৯-এর মাধ্যমে সমাপ্ত হতে চলেছে।
সুনীতা উইলিয়ামস ও বুচ উইলমোর মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনকে (ISS) বিদায় জানিয়ে পৃথিবীর দিকে আসছেন, যেখানে তারা গত ৯ মাস ধরে অবস্থান করছিলেন। তাদের সঙ্গে নাসার মহাকাশচারী নিক হেগ ও রাশিয়ান মহাকাশচারী আলেকজান্ডার গর্বুনভও পৃথিবীতে ফিরছেন। ক্রু-৯ এই চার মহাকাশচারীকে নিয়ে ফ্লোরিডা উপকূলে সন্ধ্যায় স্প্ল্যাশডাউন করার কথা। ভারতীয় সময় অনুযায়ী, যা ভোররাত ৩টের কিছু পর।

মাত্র ৮ দিনের জন্যে গিয়েছিলেন সুনীতারা। কিন্তু কেন ৯ মাস তারা সেখানেই রয়ে গেল?, আসলে প্রথমে পরিকল্পনা ছিল ৫ জুন বোয়িংয়ের স্টারলাইনার ক্যাপসুলে দুই নভোচারী আট দিনের জন্য আইএসএস-এ যাবেন, কিন্তু মহাকাশযাত্রার সময় থ্রাস্টার ত্রুটি ধরা পড়ে।
পরবর্তী তদন্তে টেফলন সিলের ত্রুটি শনাক্ত হয়, যা মহাকাশযানকে অবতরণের জন্য অনিরাপদ বলে প্রমাণিত করে। ফলে, নাসা সিদ্ধান্ত নেয় তাদের স্পেসএক্স ক্যাপসুলে ফিরিয়ে আনার, যা ক্রমশ দেরী হতে থাকে। স্পেসএক্সের ক্রু-১০ মিশনের উৎক্ষেপণ বিলম্বিত হওয়ায় উইলিয়ামস ও উইলমোর আরও কিছুদিন মহাকাশে থাকতে বাধ্য হন। অবশেষে ১২ মার্চ থেকে ১৪ মার্চ, ২০২৫-এর মধ্যে ফেরার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়।
মিশনটি রাজনৈতিক বিতর্কেও জড়িয়ে পড়ে, যখন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইলন মাস্ক অভিযোগ করেন যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন রাজনৈতিক কারণে উইলিয়ামস ও উইলমোরকে মহাকাশে ফেলে রেখেছিলেন। যদিও দুই মহাকাশচারী এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
নভোচারীরা দীর্ঘ সময় মহাকাশে থাকলেও উইলিয়ামস ও উইলমোরের মতো অনিশ্চয়তার মুখোমুখি কখনোই হতে হয়নি। তারা অতিথি নভোচারী থেকে পূর্ণ স্টেশন ক্রুতে রূপান্তরিত হন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান, সরঞ্জাম মেরামত করেন এবং একসঙ্গে মহাকাশে হাঁটার রেকর্ড করেন। উইলিয়ামস মহাকাশে ৯টি স্পেসওয়াকে ৬২ ঘণ্টা ব্যয় করে নারী নভোচারীদের মধ্যে সর্বাধিক মহাকাশে হাঁটার রেকর্ড গড়লেন।
নাসার মতে, রবিবার স্পেসএক্স ক্রু-১০ দল পৌঁছানোর পর উইলিয়ামস ও উইলমোরের বিদায় চূড়ান্ত হয়। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় তাদের তাড়াতাড়ি ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ অনিশ্চয়তা শেষে, এই দুই সাহসী নভোচারী অবশেষে পৃথিবীতে ফিরে আসছেন, যা বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞান ও মহাকাশপ্রেমীদের জন্য এক স্বস্তির খবর।












Click it and Unblock the Notifications