জামাতের সঙ্গে জোট ঘিরে ছাত্রনেতৃত্বাধীন এনসিপিতে অন্তর্দ্বন্দ্ব, পদত্যাগ একাধিক শীর্ষ নেতার
বাংলাদেশের রাজনীতিতে সদ্য আত্মপ্রকাশ করা ছাত্রনেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি (এনসিপি) এখন গভীর অন্তর্দ্বন্দ্বের মুখে। আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট বাঁধার সিদ্ধান্ত ঘিরে দলটির অন্দরেই তৈরি হয়েছে তীব্র মতবিরোধ। সেই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে একের পর এক শীর্ষ নেতার পদত্যাগে কার্যত অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েছে এনসিপি নেতৃত্ব।
দলীয় সূত্রের খবর, জামাতের সঙ্গে জোটে আপত্তি জানিয়ে প্রায় ৩০ জন নেতা নেত্রী যৌথভাবে একটি চিঠি দেন। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই মহিলা নেতা। জোট রাজনীতির এই পথচলাকে দলীয় আদর্শের পরিপন্থী বলে দাবি করে তাঁরা নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন।

রবিবার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, যখন জুলাই ২০২৪ এর ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ মাহফুজ আলম প্রকাশ্যে এনসিপি নেতৃত্ব থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেন। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি স্পষ্ট করে জানান, জামাতের সঙ্গে জোটের সিদ্ধান্ত তিনি সমর্থন করেন না। আলম লেখেন, "বর্তমান পরিস্থিতিতে আমার জুলাইয়ের সহযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্ব অটুট থাকবে। কিন্তু আমি এনসিপির অংশ হচ্ছি না।"
তিনি আরও দাবি করেন, জামাত এনসিপি জোটের তরফে তাঁকে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এই খবর সঠিক নয়। তাঁর কথায়, "কোনও ঢাকা কেন্দ্র থেকে জোট প্রার্থী হওয়ার চেয়ে নিজের দীর্ঘদিনের অবস্থান ধরে রাখাই আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।"
উল্লেখ্য, মাহফুজ আলম ছিলেন ২০২৪ সালের 'জুলাই অভ্যুত্থান' এর অন্যতম প্রধান সংগঠক। 'স্টুডেন্টস অ্যাগেনস্ট ডিসক্রিমিনেশন' (এসএডি) ব্যানারে হওয়া সেই আন্দোলনই শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনার আওয়ামি লিগ সরকারের পতনের পথ তৈরি করে। চলতি বছরের শুরুতে এসএডি প্ল্যাটফর্মের একাংশ ভেঙে গড়ে ওঠে ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি, যার আত্মপ্রকাশ ঘটে ফেব্রুয়ারিতে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূসের সমর্থনেই নতুন দলের যাত্রা শুরু হয়।
গত বছর আমেরিকা সফরে ইউনূস মাহফুজ আলমকে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন ও তাঁকে 'পুরো জুলাই বিপ্লবের মস্তিষ্ক' হিসেবে তুলে ধরেন। সে সময় ইউনুস আন্দোলনটিকে পরিকল্পিত ও কৌশলগত বলে বর্ণনা করে এর দিকনির্দেশনায় আলমের ভূমিকাকে বিশেষভাবে স্বীকৃতি দেন।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্রদের নেতৃত্বে হওয়া গণআন্দোলন সহিংস রূপ নেয় ও শেষ পর্যন্ত আওয়ামি লিগ সরকারের পতন ঘটে। ক্ষমতার পালাবদলের পর অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামি লিগের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়। চলতি বছর একটি নির্বাহী নির্দেশ জারি করে দলটিকে ভেঙে দেওয়া হয় এবং ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
এনসিপির ভিতরে মাহফুজ আলমকে অনেকেই দলের 'গুরু' বা আদর্শিক দিশারি হিসেবে দেখেন, যদিও তিনি কোনও সরকারি পদে নেই ও প্রকাশ্য রাজনীতিতেও তুলনামূলকভাবে নীরব। তাঁর সরে দাঁড়ানো ও দলীয় বিদ্রোহ মিলিয়ে এখন বড় প্রশ্ন জামাত জোটের সিদ্ধান্ত কি আদৌ টিকবে, না কি এই বিভাজনই নির্বাচনের মুখে এনসিপিকে দুর্বল করে দেবে?
-
ভোট প্রচারে উত্তরবঙ্গে আসছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রস্তুত রাজনৈতিক মঞ্চ -
ফের অসুস্থ সোনিয়া গান্ধী, দিল্লির হাসপাতালে ভর্তি, চিকিৎসকদের নজরে শারীরিক অবস্থা -
ভোটের আগে বড়সড় সাফল্য, বিহার থেকে বাংলায় অস্ত্র পাচার রুখল পুলিশ -
ভোটার তালিকায় ‘অদৃশ্য' নাম! কমিশনকে তোপ দাগলেন মমতা, উত্তরবঙ্গের মঞ্চে চড়ল রাজনৈতিক পারদ -
সব কেড়ে নিলেও মানুষ আমার পাশে, ময়নাগুড়ি থেকে বিজেপি ও কমিশনকে একসুরে নিশানা মমতার -
ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র! রিখটার স্কেলে কম্পনমাত্রা ৭.৬, জারি সুনামির সতর্কতা -
ভোটের আগে বড় ইঙ্গিত! জনমত সমীক্ষায় এগিয়ে তৃণমূল, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতাই প্রথম পছন্দ -
SIR: রাতে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার লিস্ট প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন, কীভাবে দেখতে পাবেন অনলাইনে? -
কলম্বিয়া বিমান দুর্ঘটনা: উদ্ধার ৭৭, এখনও নিখোঁজ বহু, হত আপাতত ১ -
মধ্যপ্রাচ্যে সঙ্কট! অবশেষে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ফোন করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প -
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় নতুন সমীকরণ, ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরান বৈঠক ঘিরে জল্পনা -
সপ্তাহান্তে আবহাওয়ার বড় পালাবদল! এই দিন থেকে বাড়বে ঝড়বৃষ্টি, চড়বে পারদও









Click it and Unblock the Notifications