১৯৩৯ সালের পর সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প তুরস্কে, একই দিনে কেঁপেছিল গ্রিনল্যান্ডও
ভূমিকম্প প্রবণ এলাকায় রয়েছে তুরস্ক, সেকারণেই এই ভয়াবহতা প্রশ্ন উঠছে গবেষণায়
তুরস্কের তিন শহর এখন যেন মৃত্যুপুরী। ভূমিকম্পের করাল গ্রাসে ধুলিসাৎ একের পর এক শহর। ভয়াবহ পরিস্থিতি। যদিও গবেষকরা দাবি করেছেন তুরস্ক ভূমিকম্প প্রবণ এলাকার উপরেই অবস্থিত। সেকারণেই এই ভয়াবহতা। ১৯৩৯ সালে একবার এইরকম ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছিল তুরস্কে। সেসময় ৩৩,০০০ মানুষ মারা গিয়েছিলেন। এবার তুরস্ক এবং সিরিয়া মিলিয়ে ভূমিকম্পে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মানুষ মারা গিয়েছেন।

১৯৩৯ সালের পর তীব্র ভূমিকম্প তুরস্কে
ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পে গুঁড়িয়ে গিয়েছে তুরস্কের দক্ষিণ দিকের তিনটি শহর। গতকাল ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ তীব্র ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে তুরস্কের দক্ষিণ ভাগের একাধিক জায়গা। রিখটার স্কেলে কম্পনের তীব্রতা ছিল ৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একাধিক বাড়ি ঘর তাসের ঘরের মত গুঁড়িয়ে পড়ে। এক দিনের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা ২০০০ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। শুধু তুরস্ক নয় সিরিয়া, লেবানন, ইরাকেও তীব্র ভূমিকম্প হয়। সিরিয়াও ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভূমিকম্পে।

১৯৩৯ সালে তীব্র ভূমিকম্প
১৯৩৯ সালে একবার তীব্র কম্পন হয়েছিল তুরস্কে। সেসময় প্রায় ৩৩,০০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ইস্তানবুলের টেকনিকাল বিশ্ববিদ্যালেয়ের গবেষকরা রেকর্ড ঘেঁটে বের করেছেন সেই তথ্য। সেবার নাকি তুরস্কের এরজিনক্যান প্রদেশে তীহ্র ভূমিকম্প হয়েছিল। গুঁড়িয়ে গিয়েছিল গোটা শহর। প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল সেটি। সিরিয়াতেও ১৯৯৫ সালের পর এত তীব্র ভূমিকম্প হয়নি। গতকাল সিিরয়ার লাটাকিয়া থেকে দামাস্কাস পর্যন্ত ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চল
ভূবিজ্ঞানীরা জানিয়েছে যে তীব্রতার কম্পন অনুভূত হয়েছে তাতে এত মানুষের মৃত্যু হওয়ার কথা নয়। রিখটার স্কেলে ৭.৯ ছিল কম্পনের তীব্রতা। কিন্তু সেই তীব্রতায় এতটা ভয়াবহ পরিস্থিতি হওয়ার কথা নয়। কিন্তু তারপরেও মৃত্যু মিছিল যেন থামছে না তুরস্কে। ভূবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন প্রথম থেকেই ভূমিকম্প প্রবণ এলাকায় অবস্থিত তুরস্ক। কয়েক মাস আগে একবার তুরস্কে একই রকম কম্পন অনুভূত হয়েিছল। সেটা ছিল রিখটার স্কেলে ৬.৯। কিন্তু তাতে এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা আর সিসেমিক প্লেটের উপরে অবস্থান হওয়ার কারণেই গতকালের ভূমিকম্পে সেই ভয়াবহ পরিস্থিতি হয়েছিল।

কেঁপেছে গ্রিনল্যান্ড
তুরস্ক, সিরিয়া, লেবানন, ইজরায়েল, ইরাক, ইরান। কম্পনের বিস্তার পৌঁছে গিয়েছিল গ্রিনল্যান্ডেও। পৃথিবীর শীতলতম স্থান গ্রিনল্যান্ড। সেখানেও গতকাল ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শুধু ভূমিকম্প নয় তুরস্কে আফটার শকের তীব্রতাও ছিল ভয়াবহ। সকালের কম্পনের রেশ কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই রাতে আবার কেঁপে উঠেছিল তুরস্ক। সেই আফটার শকের তীব্রতাও নেহাত কম ছিল না। রিখটার স্কেলে কম্পনের তীব্রতা ছিল ৭.৮। ভূবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন তুরস্কের ভূমিকম্পের ৮ মিনিট পরেই কম্পন অনুভূত হয়েছে গ্রিনল্যান্ডে। এমনকী ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডে আফটার শকও একাধিকবার অনুভূত হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications