একের পর এক বুলডোজার অভিযান কলকাতায়, ভাঙা পড়ছে অবৈধ নির্মাণ, খুশি স্থানীয়রা
শুভেন্দু অধিকারী বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পর কলকাতায় শুরু হয়েছে বুলডোজার অভিযান। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার ভাঙা হয় গড়িয়ার মিতালি সংঘের মাঠের পাশের অবৈধ ক্লক টাওয়ার। পুরসভার কর্মী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় চলে এই ভাঙার কাজ।
এর আগে বুধবার তিলজলার অগ্নিদগ্ধ বহুতলের আংশিক ভাঙা হয়। বাকি অংশ ভাঙতে বৃহস্পতিবার বুলডোজার যায় ওই এলাকায়। মূলত অবৈধ নির্মাণগুলির বিরুদ্ধেই এই অভিযান চলছে। এই ধারাবাহিক অভিযানে শহরের বেশ কিছু অবৈধ কাঠামো চিহ্নিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটনাস্থলে যান আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। তবে তাকে ঘটনাস্থল থেকে বেশ খানিকটা দূরে আটকে দেয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। পরে অবশ্য তিনি এলাকা শান্ত করেন। নওশাদ বলেন, "আমি বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে। কিন্তু সকালে বলল, আর রাতে বুলডোজার চলে গেল সেটা যেন না হয়। প্রশাসন ও স্থানীয় কাউন্সিলরেরও দোষ রয়েছে। শুধুমাত্র গরিবদের উপর বুলডোজার চলতে পারে না।"
২০২৩ সালে তৎকালীন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের উদ্যোগে গড়িয়ার এই ক্লক টাওয়ার তৈরি হয় বলে স্থানীয়দের দাবি, যার ছবি আজও টাওয়ারে রয়েছে। বেআইনিভাবে গায়ের জোরে তৈরি হওয়ায় তখন এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। অসন্তোষ গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে, যা এটি ভাঙার নির্দেশ দেয়।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ তখন অমান্য করা হয়, এমনকী কাউন্সিলরের নির্দেশে মহিলারা আন্দোলনেও শামিল হন। কিন্তু সরকারের পালাবদলের পর রাজ্যে 'বুলডোজার অ্যাকশন’ চালু হতেই গড়িয়ার ক্লক টাওয়ার ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিতর্ক অবশেষে শেষ হচ্ছে।
এদিন কলকাতা হাই কোর্টের এজলাসে আইনজীবীর পোশাকে সওয়াল করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই তিনি বলেন, "এটা বুলডোজার রাজ্য নয়। বাংলার মানুষকে বাঁচান। এটা বাংলা, উত্তরপ্রদেশ নয়।" তাঁর মন্তব্যের পরও অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ অব্যাহত ছিল। গড়িয়ার মিতালি সংঘের পাশে ক্লক টাওয়ার ভাঙার সিদ্ধান্তে স্থানীয়রা খুশি।












Click it and Unblock the Notifications