স্বাধীনতা দিবসে ভূলুণ্ঠিত জাতীয় পতাকা, আফগান মহিলাদের কাতর আর্তি নাড়িয়ে দিচ্ছে গোটা বিশ্বকে
কাঁটাতারের উপর দিয়ে কোলের বাচ্চাকে ছুঁড়ছেন অসহায় মা, তালিবানি নাগপাশে আফগান মাটি
রবিবারই গোটা আফগানিস্তানের দখল নিয়েছে তালিবানেরা। এদিকে তার ৩ দিন পরেই স্বাধীনতা দিবসে লাগাতার রক্ত ঝরল একাধিক প্রদেশে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে প্রতিবারই এই দিন আফগানিস্তান জুড়ে থাকে ছুটির মেজাজ। যদিও তালিবান হানায় শুধু উদ্বেগের মেঘ গোটা দেশজুড়ে। এদিকে গোটা দেশেই জাতীয় পতাকা নামিয়ে এদিন সারাদিন তালিবানি পতাকা তুলেছে এই উগ্রপন্থীরা। বাধা দিতে গেলেই রক্ত ঝরেছে সাধারণ মানুষের।

জালালাবাদেও গুলি
সূত্রের খবর, এদিন সকালেই জালালাবাদ শহরের রাস্তায় একটি তালিবানি সাদা কালো পতাকা উড়তে দেখা যায়। কিন্তু এক স্বদেশপ্রেমী তা খুলে আফগানিস্তানের পুরনো তেরঙা পতাকা উড়িয়ে দিলে শুরু হয় তালিবানদের তাণ্ডবলীলা। নির্বিচারে গুলি চালানো হয় সাধারণ মানুষের উপর। মারা যান দু জন। আহত ১২ জনেরও বেশি। এদিকে একই ঘটনা ঘটেছে আসাদাবাদ প্রদেশে।

স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা নিয়ে উত্তপ্ত আফগানিস্তান
সূত্রের খবর, জাতীয় পতাকাকে ঘিরে সকাল থেকেই উত্তেজনা ছড়ায় আসাদাবাদে। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে স্থানীয়রা জাতীয় পতাকা তুলতে গেলে তাদের উপর তাণ্ডবলীলা চালায় তালিবানিরা। আর সেই সময়েই পদপিষ্ট হয়ে বহু মানুষ আহত হয়েছে বলে জানা যায়। এই প্রসঙ্গে মহম্মদ সালিম নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, শত শত মানুষ এদিন জাতীয় পতাকা হাতে রাস্তায় বেরিয়ে এসেছিল। আমি যদিও প্রথমে ওই মিছিলে যোগ দিইনি। কিন্তু যখন দেখলাম আমার প্রতিবেশীরাও জাতীয় পতাকা হাতে ওই মিছিলে যোগ দিচ্ছেন তখন আর নিজেকে আটকে রাখতে পারিনি।

কোন কোন প্রদেশে হানাহানির খবর শোনা যাচ্ছে ?
এই সময়েই জাতীয় পতাকা নিয়ে রাস্তা নেমে আসা মানুষদের উপর তালিবানিরা নির্বাচারে গুলি চালায় বলে জানা যাচ্ছে। তালিবানদের হাত থেকে বাঁচতে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় সাধারণ মানুষের মধ্যে। তখনও পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় অনেকের। যদিও এই ঘটনা প্রসঙ্গে এখনও বিশেষ কোনও বক্তব্য রাখতে দেখা যায়নি তালিবানদের। অন্যদিকে জালালাবাদ ও আসাদাবাদ ছাড়াও পাকতিয়া প্রদেশেও এই ধরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যাচ্ছে।

কাঁটাতারের উপর দিয়েই শিশুদের ছুঁড়ে দিচ্ছেন অসহায় মহিলারা
অন্যদিকে তালিবানি আগ্রাসন বাড়ার সাথে সাথেই দেশ ছেড়ে পালানোর জন্য ক্রমেই ভীড় বাড়ছে কাবুল বিমানবন্দরে। দুদিন ধরেই উঠে আসছে মানুষের দুর্দশার ভয়াবহ কিছু ছবি। সেনার মার্কিন ও ব্রিটিশ সেনার জন্য তৈরি কাঁটাতারের উপর দিয়েই ছোট ছোট শিশুদের ছুঁড়ে দিচ্ছেন মায়েরা। সেনাকে অনুরোধ করছেন বাচ্চাগুলিকে যে কোনও প্রকারে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। কাবুল বিমানবন্দরে তালিবানি অত্যাচার নিয়ে বিভিন্ন ছবি আর ভিডিও ভাইরাল হচ্ছে ক্রমাগত।

আফগান মহিলাদের এই ক্রন্দন দৃশ্য নাড়িয়ে দিচ্ছে গোটা বিশ্বকে
এদিকে গতকালও আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের বিমানবন্দরে দেশ ছাড়তে যাওয়া মহিলা আর বাচ্চাদের উপর হামলা করতে দেখা গিয়েছিল তালিবানি জঙ্গিদের। পাশাপাশি বোরখা না পরে বেরোনোয় খুন করা হয় এক মহিলাকে। এরমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভাইরাল ভিডিওতে মার্কিন সেনার প্রাণ বাঁচানোর কাত আর্তি করতে দেখা গিয়েছে আফগান মহিলাদের। বন্ধ গেটের ওপারে থাকা অসহায় আফগান মহিলাদের এই ক্রন্দন দৃশ্য নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা বিশ্বকে।












Click it and Unblock the Notifications