ট্রাম্পের ভারতনীতি কি সত্যিই নিজের মুখে কুঠারাঘাত? কংগ্রেস উইমেনের তীব্র প্রশ্ন
ওয়াশিংটনে মার্কিন কংগ্রেসের ওয়ার রুমে যেন হঠাৎই উঠে এল দিল্লির এক ছবি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ভাইরাল সেলফি। দুই রাষ্ট্রনায়কের গাড়িতে বসে হাসিমুখে তোলা সেই ছবি এবার হয়ে উঠেছে আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতির পর্যালোচনার কেন্দ্রে।
এক উত্তপ্ত কংগ্রেস হিয়ারিং.এ দাঁড়িয়ে মার্কিন কংগ্রেস উইমেন সিডনি ক্যামলাজার ডোভ স্পষ্ট ভাষায় জানালেন ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নষ্ট করছে ওয়াশিংটনই। নিজের হাতে ছবি তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করলেন, "ট্রাম্পের ভারতের প্রতি নীতি যেন নিজেদের মুখে নিজেরাই কুঠারাঘাত।"

তিনি সতর্ক করলেন, হোয়াইট হাউসের অতিরিক্ত চাপপ্রয়োগ, হুঁশিয়ারি আর অনবরত শর্ত আরোপ এসবই নষ্ট করছে বহু দশকের আস্থা। তাঁর কথায়, "এভাবে চললে আমেরিকা ভারতকে তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এতে শান্তির পুরস্কার নয়, কূটনৈতিক ক্ষতির বোঝাই বাড়বে।"
ডোভের মতে, ভাইরাল মোদী পুতিন সেলফিটি কেবল বন্ধুত্বের প্রমাণ নয়, এটি এক স্পষ্ট বার্তা ওয়াশিংটনের নীতি ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি বলেন, "এই পোস্টার হাজার শব্দের সমান। যে দেশকে কৌশলগত অংশীদার বলি, তাকেই যদি চাপের রাজনীতিতে ঠেলে দিই, তবে লাভ কার?"
কংগ্রেস উইমেন আরও বলেন, "বাধ্যবাধকতার সঙ্গী হতে গেলে চরম মূল্য দিতে হবে।" ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতির জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ডোভ দাবি করেন, উভয় দলের আইনপ্রণেতারাই পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝছেন ও দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
প্রসঙ্গত, দিল্লীতে দুই দিনের সফরে এসেছিলেন পুতিন। লাল গালিচায় অভ্যর্থনা, উষ্ণ আলিঙ্গন, ও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ডিনারের জন্য একই গাড়িতে রওনা সব মিলিয়ে দুই নেতার ব্যক্তিগত সখ্যতা আবারও সামনে এসেছে। এর আগেও সাংহাই কো অপারেশন অর্গানাইজেশন সম্মেলনে রাশিয়ান অরাস গাড়িতে একসঙ্গে সফর করেছিলেন তাঁরা।
ডোভের সাফ মন্তব্য ভারত ও রাশিয়া ঘনিষ্ঠতার পেছনে কোনও চমক নেই, আছে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত ভুল। আমেরিকা যদি চাপ ও নির্দেশের ভাষা না বদলায়, তবে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদারকে হারানোর ঝুঁকি বাড়বে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications