Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

বাড়ছে উষ্ণায়ন, গলছে বরফ, আইসল্যান্ডে খোঁজ মিলল মশার, আশঙ্কায় বিজ্ঞানীরা

আইসল্যান্ড, বিশ্বের কয়েকটি মশা-মুক্ত অঞ্চলের মধ্যে অন্যতম একটি দেশ। তবে এই তকমা এবার ঘুচে গেল। কারণ সেখানে এই প্রথম মশার সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। রাজধানী রেইকিয়াভিক থেকে প্রায় ২০ মাইল উত্তরে, পশ্চিম আইসল্যান্ডের কিয়োস এলাকার কিডাফেলে বিয়র্ন হাল্টাসন এই মশা উদ্ধার হয়েছে।

আইসল্যান্ডের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাল্টাসন একটি ফেসবুক গ্রুপে পোকা-মাকড় সংক্রান্ত পোস্টে উল্লেখ করেছেন, “গত ১৬ অক্টোবর গোধূলি বেলায় আমি একটি অদ্ভুত মাছি দেখতে পাই। এবং দ্রুত মাছিটি ধরে ফেলি।”

এরপর তিনি আইসল্যান্ডের প্রাকৃতিক বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের কীটতত্ত্ববিদ মাথিয়াস আলফ্রেডসন-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আলফ্রেডসন পরের দিন হাল্টাসনের বাড়িতে গিয়ে মোট তিনটি মশা ধরেন—দুটি স্ত্রী ও একটি পুরুষ। আলফ্রেডসন মশাগুলিকে কুলিসেটা অ্যানুলাটা (Culiseta annulata) প্রজাতির বলে শনাক্ত করেছেন।

এই প্রজাতিটি ঠান্ডা প্রতিরোধক এবং শীতকালে বেসমেন্ট ও শস্যাগারে আশ্রয় নিয়ে আইসল্যান্ডের প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বেঁচে থাকতে পারে। কুলিসেটা অ্যানুলাটা সাধারণত বৃষ্টির ড্রাম, বালতি, জলাধার, ফুলের টব এবং ফেলে দেওয়া টায়ারের মতো কৃত্রিম পাত্রে ডিম পাড়ে।

কীভাবে এই মশা আইসল্যান্ডে পৌঁছাল তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে জাহাজ বা কন্টেইনারের মাধ্যমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আলফ্রেডসন জানিয়েছেন, মশাগুলো শীতকাল কাটিয়ে "সত্যিই আইসল্যান্ডে স্থায়ী হতে পারে কিনা", তা দেখার জন্য বসন্তকালে আরও পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হবে।

ইয়েল ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ পাবলিক হেলথের এপিডেমিওলজির সহকারী অধ্যাপক কলিন জে কার্লসন বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ছাড়াও আইসল্যান্ড এই মশার জন্য উপযুক্ত হতে পারতো। সিএনএন-কে তিনি বলেন, স্ক্যান্ডিনেভিয়ার অনেক উত্তরের অঞ্চলেও মশা পাওয়া গিয়েছে।

কার্লসন আরও বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এটি আরও বেশি সম্ভব হতে পারে, তবে এটি সরাসরি এবং স্পষ্ট প্রভাব ফেলছে বলে আমি নিশ্চিত নই।" তিনি যোগ করেন, "সত্যি বলতে, স্থানীয় মশার বিস্তার সম্পর্কে আমরা খুব বেশি কিছু জানি না।"

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, আইসল্যান্ডের জলাভূমি এবং পুকুরের মতো প্রজনন আবাসস্থলগুলির কারণে সেখানে মশা স্থায়ী হতে পারে। আইসল্যান্ডে মশার আগমন বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

আইসল্যান্ডের উষ্ণতা উত্তর গোলার্ধের বাকি অংশের গড় উষ্ণতার চেয়ে চারগুণ দ্রুত বাড়ছে, যা পরিবেশগত ব্যাপক পরিবর্তন ঘটিয়েছে। হিমবাহ গলে যাওয়া এবং আইসল্যান্ডের জলে ম্যাকেরেলের মতো দক্ষিণের মাছের প্রজাতির উপস্থিতি এই দ্রুত উষ্ণায়নের প্রমাণ।

চলতি বছরের মে মাসে আইসল্যান্ডে একাধিক রেকর্ড-ভাঙা উচ্চ তাপমাত্রা পরিলক্ষিত হয়েছে। সাধারণত, মে মাসে ২-৩ দিন তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৬৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট) এর বেশি থাকে, কিন্তু এই বছর বিভিন্ন স্থানে টানা ১০ দিন ধরে এই সীমা অতিক্রম করেছে।

এছাড়াও, এগিলসস্টাডিয়র বিমানবন্দরে আইসল্যান্ডের ইতিহাসে উষ্ণতম মে মাসের দিন রেকর্ড করা হয়েছে, যেখানে তাপমাত্রা ২৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৭৯.৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পৌঁছেছিল। পৃথিবী উষ্ণ হওয়ার সাথে সাথে সারা বিশ্বে আরও বেশি প্রজাতির মশা পাওয়া যাচ্ছে।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+