Bangladesh Yearender 2024: হাসিনার পতন থেকে ইউনূসের দায়িত্বগ্রহণ, বাংলাদেশের ইতিহাসে ঘটনাবহুল হয়ে থাকল এবছর
Year Ender 2024: দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার মাধ্যমে বাংলাদেশ এই বছর একটি অস্থিরতার সম্মুখীন হয়েছে। ভারতের সাথেও সম্পর্কে দেখা দিয়েছে অধঃপতন। সত্যি বলতে এবছর একদমই ভালো যায়নি পূর্ববঙ্গের।
৭৭ বছর বয়সী হাসিনার অপসারণ সরকারী চাকরিতে একটি বিতর্কিত কোটা পদ্ধতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের লড়াইয়ের জন্যে। তাঁদের নেতৃত্বে কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভের পরে, হাসিনার ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে এবছরই। আর তারপর শুরু হয়েছে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার।

- বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ-
এবছর আগস্টে, হাজার হাজার মানুষ রাজনৈতিক দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছিল। সামরিক বাহিনী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে তা বেশিদিন স্থায়ী হয় নি। পরিস্থিতি দ্রুত বদলায়। সরকার বিরোধী বিক্ষোভের ফলে বিক্ষোভকারী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে ছাত্রসহ ১৫০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান।
৮৪ বছর বয়সী নোবেল বিজয়ী মহম্মদ ইউনূস, যিনি হাসিনা সরকারের সাথে দীর্ঘকাল দ্বন্দ্ব বজায় রেখেছিলেন, ছাত্র বিক্ষোভকারীরা অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার পক্ষে তিনিই সামনে এগিয়ে আসেন।
- ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে ভাঙন-
গত ৮ আগস্ট ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। গত কয়েক মাসে বাংলাদেশে হিন্দুসহ সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে চলেছে অবিরত। রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে একজন হিন্দু সন্ন্যাসীকে গ্রেপ্তার করে যেন তিক্ততা আরও বেড়ে গেছে।
- শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত-
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে, হাসিনা ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। ইউনূস সরকারকে হিন্দু সংখ্যালঘুদের "গণহত্যা" ঘটিয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। আর তার জন্যে পাল্টা ইউনূস সরকার হাসিনা এবং তাঁর বোনের অ্যাকাউন্ট সিজ করে দিয়েছে। একই সাথে হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দিন, এমনই জোরালো নোটিশ পাঠিয়েছে দিল্লিতে। স্বাভাবিক ভাবেই হাসিনা শুধু ক্ষমতাচ্যুত হননি, তাঁকে দেওয়া হবে কড়া শাস্তি, এমনটাই ইঙ্গিত মিলছে এবারে।
শেখ হাসিনার এক সময়ের সর্বশক্তিমান আওয়ামী লীগের ভাগ্য ভারসাম্যের মধ্যে ঝুলে আছে কারণ ছাত্র নেতারা দলটিকে "ফ্যাসিবাদী" তকমা দিয়ে আগামী নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে চান।বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি শুধুমাত্র দুটি প্রধান দল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং অতি-ডানপন্থী জামায়াত-ই-ইসলামীর অংশগ্রহণে একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের উপর প্রভাব ফেলতে পারে, যাদের বিতর্কিত ইতিহাস ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সাথে গভীরভাবে নিহিত রয়েছে। অর্থাৎ সেখানে সুযোগ পাবে না আওয়ামী লীগ, তা একপ্রকার স্পষ্ট।
- মুজিবুর রহমানের অস্তিত্ব আজ বিপন্ন-
আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী কারাবন্দি বা আত্মগোপনে থাকায় দলটি কীভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে তা অনিশ্চিত। তা ইউনূসের বিজয় দিবসের বক্তৃতায় একপ্রকার স্পষ্ট।
ইউনূস বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে প্রতিষ্ঠাতা নেতা এবং হাসিনার পিতা শেখ মুজিবুর রহমান - এবং ভারতীয় বাহিনীর কাছে প্রায় এক লাখ পাকিস্তানি সৈন্যের আত্মসমর্পণের কথা উল্লেখ করেননি। এমনকি বাংলাদেশি টাকায় মুজিবুরের ছবিও বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পরিবর্তে, নতুন নোটে ধর্মীয় কাঠামো, বাঙালি ঐতিহ্য এবং জুলাই বিদ্রোহের ছবি থাকবে বলে জানিয়েছেন। একই সাথে পাঠ্যপুস্তক থেকে বাতিল হচ্ছে মুজিবুর রহমানের গদ্য-পদ্য।
- বাংলাদেশ নির্বাচন-
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখনও সাধারণ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেনি। তবে বিজয় দিবসের ভাষণে ইউনূস বলেছিলেন যে এটি ২০২৫ সালের শেষের দিকে বা ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে হতে পারে।তবে এই ভোটের আগে বেশ কিছু ক্ষেত্রে বদল এনেছে ইউনূস সরকার। এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্ক ডিসেম্বরে দেশের জন্য তার প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দিয়েছে, যখন বিশ্বব্যাঙ্ক বলেছে যে সমস্ত অ-দরিদ্র গ্রামীণ পরিবারের অর্ধেক দারিদ্র্যের মধ্যে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতাচ্যুত শাসনের ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার, অপসারণ বা সাইডলাইন করে আমলাতন্ত্র, পুলিশ প্রশাসন এবং অন্যান্য রাষ্ট্র-চালিত সংস্থাগুলিতে বড় ধরনের রদবদল করেছে।এবছরটি কার্যত ঘটনাবহুল কাটালো বাংলাদেশ। যার রেশ থাকবে আগামী বছরেও।












Click it and Unblock the Notifications