বাংলাদেশ নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে গেল, কোন রেকর্ড গড়বে এই ভোট?
বাংলাদেশের ১৩তম সাধারণ নির্বাচন ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার এই ঘোষণা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ.এমএম নাসির উদ্দিন। এই নির্বাচন গত বছর প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রথম জাতীয় নির্বাচন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ঘোষণা অনুযায়ী, এটি একইসঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই চার্টার গণভোট—এই দুটি বিষয় নিয়ে সংগঠিত হবে।
দেশের অন্তর্বর্তীকালীন নেতা মহম্মদ ইউনূস বারবার বলেছেন যে, আসন্ন এই নির্বাচন অবশ্যই একটি অবাধ ও সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। গত বছরের অস্থিরতা এবং শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে এই নির্বাচনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির এই ভোটগ্রহণে প্রথমবারের মতো দুই ধরনের নির্বাচন একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই চার্টার গণভোট। জুলাই চার্টার আসলে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সই করা একটি নথি, যার প্রধান উদ্দেশ্য হল বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিশ্চিত করা।
গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার আনার প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মধ্যে নির্বাহী ক্ষমতা হ্রাস এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা শক্তিশালী করার মতো বিষয়গুলো রয়েছে। দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনেই একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম দ্বৈত নির্বাচন।
নির্বাচনী সময়সূচি অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর। এরপর ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের তথ্য অনুযায়ী, মনোনয়ন প্রত্যাহারের চূড়ান্ত তারিখ ২০ জানুয়ারি। প্রতীক বরাদ্দ এবং চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে ২১ জানুয়ারি।
প্রার্থীরা ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাদের নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারবেন, যা নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে বন্ধ হয়ে যাবে। নির্বাচন কমিশন প্রায় ১২ কোটি ৭৬ লক্ষ ভোটারের জন্য ৪২,৭৬১টি ভোটকেন্দ্র এবং ২ লক্ষ ৪৪ হাজার ৭৩৯টি বুথ প্রস্তুত করার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টে পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।
২০২৪ সালের অগাস্টে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন হিংস্র আন্দোলনের মাধ্যমে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে এটিই প্রথম জাতীয় নির্বাচন। সেই সময় থেকে প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন দেশের শাসনভার পরিচালনা করছে।
অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে এবং নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত রেখেছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশন এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করলে আওয়ামী লীগ আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। দলটির অনেক নেতাই বর্তমানে পলাতক অথবা কারাগারে রয়েছেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এক বিবৃতিতে নির্বাচনের ঘোষিত সময়সূচি প্রত্যাখ্যান করেছে, এটিকে 'পক্ষপাতদুষ্ট' এবং দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের প্রতিনিধিদের বাদ দিয়ে করা হয়েছে বলে অভিহিত করেছে। বিবৃতিতে তারা জানায়, "অবৈধ, দখলদার, খুনি-ফ্যাসিবাদী ইউনূস চক্রের অবৈধ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত নির্বাচনী তফসিল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এখন এটা স্পষ্ট যে, বর্তমান দখলদার কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ পক্ষপাতদুষ্ট এবং তাদের নিয়ন্ত্রণে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন নিশ্চিত করা অসম্ভব।"
আওয়ামী লীগ আরও উল্লেখ করেছে যে, তাদের বাদ দিয়ে নির্বাচন আয়োজন করা দেশকে 'গভীর সংকটে' ঠেলে দেওয়ার একটি চক্রান্ত এবং সকল নিষেধাজ্ঞা ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। তারা আবারও স্পষ্ট করে বলেছে: "দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের প্রতিনিধিদের বাদ দিয়ে ঘোষিত নির্বাচনী তফসিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রত্যাখ্যান করছে।"
এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি 'গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা' হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে গণতান্ত্রিক রীতিনীতি পুনরুদ্ধার, অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে শক্তিশালী করার মতো প্রধান বিষয়গুলি কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ভারত তার পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করেছে যে, এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক হবে।
ধারণা করা হচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং জামায়াত-ই-ইসলামির মধ্যে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া নবগঠিত ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি (এনসিপি)-ও আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেবে।
-
'মেঘের আড়ালে থেকে খেলবেন না, সামনে à¦à¦¸à§‡...'! নিরà§à¦¬à¦¾à¦šà¦¨ কমিশনকে কটাকà§à¦· মমতার, আর কী বললেন? -
১৯২ আসনে বামফà§à¦°à¦¨à§à¦Ÿà§‡à¦° পà§à¦°à¦¾à¦°à§à¦¥à§€ ঘোষণা, তালিকায় নবীন পà§à¦°à¦¬à§€à¦£à§‡à¦° মেলবনà§à¦§à¦¨ -
তৃণমূলের পà§à¦°à¦¾à¦°à§à¦¥à§€ তালিকায় চমক থাকতে পারে! বাদ পড়তে পারেন হেà¦à¦¿à¦“য়েটরা -
ননà§à¦¦à§€à¦—à§à¦°à¦¾à¦®à§‡à¦° সঙà§à¦—ে মমতার à¦à¦¬à¦¾à¦¨à§€à¦ªà§à¦°à§‡à¦“ লড়বেন শà§à¦à§‡à¦¨à§à¦¦à§, বিজেপির পà§à¦°à¦¥à¦® দফার তালিকায় পà§à¦°à¦¾à¦°à§à¦¥à§€ কারা? -
বিবেচনাধীন à¦à§‹à¦Ÿà¦¾à¦° ইসà§à¦¯à§: ২১ লকà§à¦· নামের নিষà§à¦ªà¦¤à§à¦¤à¦¿, কবে বেরবে সাপà§à¦²à¦¿à¦®à§‡à¦¨à§à¦Ÿà¦¾à¦°à¦¿ তালিকা? জানà§à¦¨ -
à¦à§‹à¦Ÿà§‡à¦° দিনকà§à¦·à¦£ ঘোষণার পরই তৎপর বিজেপি, পà§à¦°à¦¾à¦°à§à¦¥à§€ তালিকা চূড়ানà§à¦¤ করতে বৈঠক -
বাংলায় ৬০ লকà§à¦· বিচারাধীন à¦à§‹à¦Ÿà¦¾à¦°à¦¦à§‡à¦° à¦à¦¬à¦¿à¦·à§à¦¯à§Ž অনিশà§à¦šà¦¿à¦¤, নজর সà§à¦ªà§à¦°à¦¿à¦® কোরà§à¦Ÿà§‡à¦° রায়ে -
à¦à§‹à¦Ÿ ঘোষণার পরই তৎপরতা, মà§à¦–à§à¦¯à¦®à¦¨à§à¦¤à§à¦°à§€à¦° কেনà§à¦¦à§à¦° à¦à¦¬à¦¾à¦¨à§€à¦ªà§à¦°à§‡ কেনà§à¦¦à§à¦°à§€à§Ÿ বাহিনীর টহল শà§à¦°à§ -
রাজà§à¦¯à§‡ আমলা ও পà§à¦²à¦¿à¦¶à§‡à¦° শীরà§à¦· সà§à¦¤à¦°à§‡ বদল আনল কমিশন, তà§à¦™à§à¦—ে রাজনৈতিক তরজা -
তিন রাজà§à¦¯à§‡ à¦à¦• আসনে বহৠপà§à¦°à¦¾à¦°à§à¦¥à§€, রাজà§à¦¯à¦¸à¦à¦¾ à¦à§‹à¦Ÿà§‡ শà§à¦°à§ রিসরà§à¦Ÿ রাজনীতি -
à¦à§‹à¦Ÿà§‡à¦° আগে কড়া কমিশন, পাà¦à¦š রাজà§à¦¯à§‡ আদরà§à¦¶ আচরণবিধি মানতে আট দফা নিরà§à¦¦à§‡à¦¶ -
à¦à§‹à¦Ÿ ঘোষণার পর বড় রদবদল! ডিজিপি ও কলকাতার পà§à¦²à¦¿à¦¶ কমিশনার বদলাল নিরà§à¦¬à¦¾à¦šà¦¨ কমিশন, নতà§à¦¨ দায়িতà§à¦¬à§‡ কারা?












Click it and Unblock the Notifications