ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার পরই তৎপর বিজেপি, প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে বৈঠক
রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই নির্বাচনী প্রস্তুতিতে জোর দিল বিজেপি। রবিবার বিকেলেই নিউ টাউনের একটি হোটেলে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বসে। মূলত বাকি আসনগুলির প্রার্থী চূড়ান্ত করা ও নির্বাচনী কৌশল নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয় সেখানে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। পাশাপাশি সংগঠনের সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল, ভূপেন্দ্র যাদব, অমিত মালব্য ও বিপ্লব দেবও বৈঠকে যোগ দেন। প্রায় চার ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে এই আলোচনা।

সূত্রের খবর, বৈঠক চলাকালীনই দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সেই ঘোষণার ওপর নজর রেখেই বিজেপি নেতারা নিজেদের আলোচনাকে চূড়ান্ত রূপ দিতে শুরু করেন। নির্বাচন ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই ভোটপর্বের কৌশল, প্রচার ও প্রার্থী বাছাই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হয়।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই জনসংযোগ কর্মসূচি নিয়ে মাঠে সক্রিয় ছিল বিজেপি। ১ মে থেকে শুরু হওয়া 'পরিবর্তন যাত্রা' কর্মসূচি ১০ মে পর্যন্ত চলে ও ১৪ মে ব্রিগেড সমাবেশের মাধ্যমে তার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়। ওই সমাবেশে ব্যাপক ভিড়কে সংগঠনের সাফল্য হিসেবে দেখছে বিজেপি নেতৃত্ব। সেই উৎসাহকেই পুঁজি করে এবার ভোটের প্রস্তুতিকে আরও জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ১২ মার্চ দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনে বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনের মধ্যে প্রায় ১৫৫টি আসনের প্রার্থী নিয়ে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। বাকি ১৩৯টি আসনের প্রার্থী তালিকাও দ্রুত চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নিয়েছে দল।
এই পরিস্থিতিতে রবিবারের বৈঠকে রাজ্যস্তরে প্রয়োজনীয় আলোচনা সেরে নেওয়া হয়। অধিকাংশ আসন নিয়ে মতানৈক্য হলেও কয়েকটি আসন নিয়ে এখনও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনা বাকি রয়েছে।
বৈঠক শেষ করেই রবিবার রাতেই দিল্লি রওনা দেন সুকান্ত মজুমদার। সোমবার সকালে দিল্লি যাওয়ার কথা রয়েছে শমীক ভট্টাচার্যেরও। রাষ্ট্রপতি ভবনে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর আমন্ত্রণে সাংসদদের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর সংসদের অধিবেশনে যোগ দেবেন তাঁরা। এরপর ফের পশ্চিমবঙ্গের নেতাদের নিয়ে দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বৈঠক করতে পারে বলে খবর।
এদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে মোট ২৯৪টি আসনে দু'দফায় ভোটগ্রহণ হবে। প্রথম দফায় ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোট হবে। দ্বিতীয় দফায় দক্ষিণবঙ্গের সাতটি জেলার ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ করা হবে। ভোটের ফল ঘোষণা করা হবে আগামী ৪ মে।
-
১৯২ আসনে বামফ্রন্টের প্রার্থী ঘোষণা, তালিকায় নবীন প্রবীণের মেলবন্ধন -
এবার নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর! ২০২৬ ভোটে আবারও মমতার প্রধান চ্যালেঞ্জার শুভেন্দু? কী পরিকল্পনা বিজেপির? -
ভোট ঘোষণার পরই তৎপরতা, মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্র ভবানীপুরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল শুরু -
নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপের সমালোচনায় তৃণমূল, স্বাগত জানাল বাম-বিজেপি -
তিন রাজ্যে এক আসনে বহু প্রার্থী, রাজ্যসভা ভোটে শুরু রিসর্ট রাজনীতি -
ছাব্বিশের ভোটে ২২৬-এর বেশি আসনে জিতবে তৃণমূল, আত্মবিশ্বাসী মমতা -
উত্তরবঙ্গে তিন আসনে লড়বে না তৃণমূল, গৌতম দেব শিলিগুড়িতে, প্রার্থী হলেন শিবশঙ্কর, স্বপ্না -
বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা! মমতা ভবানীপুরেই, নন্দীগ্রাম-সহ দক্ষিণবঙ্গে চমক কোন আসনগুলিতে? -
রাজ্যে আমলা ও পুলিশের শীর্ষ স্তরে বদল আনল কমিশন, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা -
তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় চমক থাকতে পারে! বাদ পড়তে পারেন হেভিওয়েটরা -
কমিশন ও বিজেপি নারীবিরোধী, বাংলা-বিরোধী, মন্তব্য মমতার -
ভোররাতে আইসিইউ-তে আগুন! ১০ রোগীর মৃত্যু, আহত বহু স্বাস্থ্যকর্মী, প্রশ্নের মুখে হাসপাতালের নিরাপত্তা









Click it and Unblock the Notifications