Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

পুরো বাংলাদেশ কেঁপে উঠবে, হত্যার আগের রাতে প্রেমিকাকে এমনই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ওসমান হাদির হামলাকারী

হঠাৎ করেই অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার রাত থেকে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে হিংসা, অস্থিরতা ও আতঙ্ক। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চরমপন্থী নেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর পরিস্থিতি কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। একের পর এক সংবাদমাধ্যমের দপ্তর, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ঐতিহাসিক বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার মতো নৃশংস ঘটনাও সামনে এসেছে।

এই অশান্তির কেন্দ্রে রয়েছেন শরিফ ওসমান হাদি, ভারত বিরোধী কট্টর রাজনীতির পরিচিত মুখ ও 'অ্যান্টি শেখ হাসিনা ইনকিলাব মঞ্চ' এর মুখপাত্র। ঢাকা ৮ কেন্দ্র থেকে নির্দল প্রার্থী হিসেবেও তিনি রাজনীতির ময়দানে সক্রিয় ছিলেন।

তদন্তে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বাংলাদেশি গোয়েন্দাদের দাবি, হাদিকে গুলি করার আগের রাতেই মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম যেন আগাম আঁচ পেয়েছিলেন আসন্ন ঝড়ের। ঢাকার উপকণ্ঠে সাভারের একটি রিসর্টে অবস্থানকালে নিজের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও প্রেমিকা মারিয়া আখতার লিমাকে তিনি বলেন, পরদিন এমন কিছু ঘটতে চলেছে যা "পুরো বাংলাদেশকে কাঁপিয়ে দেবে"। এমনকী, ওই সময় হাদির একটি ভিডিও ক্লিপ দেখিয়ে এই মন্তব্য করেছিলেন ফয়সাল, ঠিক এমনটাই জানা গেছে।

পরদিনই সেই ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তব রূপ নেয়। রাজধানী ঢাকার ব্যস্ত রাস্তায়, প্রকাশ্য দিবালোকে মোটরবাইকে এসে মুখোশধারী হামলাকারীরা গুলি চালায় হাদির উপর। একটি গুলি তাঁর এক কান ভেদ করে অন্য কান দিয়ে বেরিয়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে মহম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের তত্ত্বাবধানে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাঁকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। কয়েক দিনের মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের পর সেখানেই মৃত্যু হয় হাদির।

হাদির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে যে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা বাংলাদেশের আসন্ন রাজনীতিকেও গভীর সংকটে ঠেলে দিয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের আগে এই অস্থিরতা বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করছে।

তদন্তকারীদের মতে, এই হামলা ছিল সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ফল। পুলিশের দাবি, অন্তত ২০ জন এই ঘটনার সঙ্গে কোনও না কোনওভাবে যুক্ত অর্থ জোগান, অস্ত্র সংগ্রহ, হামলা চালানো থেকে শুরু করে পালিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি পর্যন্ত। সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন এক প্রাক্তন কাউন্সিলর, যাঁকে মূল পরিকল্পনাকারী বলে মনে করা হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ও পুলিশের যৌথ অভিযানে নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভিন সামিয়া, প্রেমিকা মারিয়া আখতার লিমা, শ্যালক ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা। অভিযানে উদ্ধার হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, ম্যাগাজিন ও কয়েক কোটি টাকার চেক। এমনকী, ফয়সালের বোনের বাড়ির নীচে লুকোনো অস্ত্র ও নারায়ণগঞ্জ সংলগ্ন জলাশয় থেকে বিদেশি পিস্তল উদ্ধারের কথাও জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত মোটরবাইকের নম্বরপ্লেট ছিল ভুয়ো। হামলার পর ফয়সাল ও তার সঙ্গীরা ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপন করে। অভিযোগ, পুলিশের চোখে ধুলো দিতে নম্বরপ্লেট বদলের কাজে জড়িত ছিলেন ফয়সালের বাবা।

যদিও এখনও মূল হামলাকারীরা অধরা। তারা ভারতে পালিয়ে গিয়েছে কি না, তা নিয়ে চলছে জল্পনা। কোনও কোনও সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, এক হামলাকারী গুয়াহাটি হয়ে মহারাষ্ট্রে রয়েছে। তবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত এমন কোনও প্রামাণ্য তথ্য নেই যে অভিযুক্তরা ভারতে প্রবেশ করেছে। তা সত্ত্বেও, ইউনূস সরকার ভারতের কাছে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে হস্তান্তরের আবেদন জানিয়েছে।

সব মিলিয়ে, হাদির মৃত্যুকে ঘিরে বাংলাদেশ আজ গভীর সংকটে। নির্বাচনমুখী দেশের রাজনীতিতে আতঙ্ক, হিংসা ও অনিশ্চয়তার ছায়া ক্রমশ গাঢ় হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকেই বড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+