Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

করোনা ভাইরাস: বাংলোদেশে হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু কেন লাগামহীন

করোনা ভাইরাস: বাংলোদেশে হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু কেন লাগামহীন

বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে এখন আইসিইউ বেড রোগীতে পরিপূর্ণ
Getty Images
বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে এখন আইসিইউ বেড রোগীতে পরিপূর্ণ

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত নয় দিনেই মারা গেছে ৭১৯ জন, যার মধ্যে ৬৯৩ জনই মারা গেছে হাসপাতালে। চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন দ্রুত ফুসফুস সংক্রমণ ছাড়াও বছরের শুরুতে রোগটির প্রতি অবহেলার কারণেই অনেকে এখন সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগের হিসেবে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ১০ হাজার ৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এক সপ্তাহে বেশ কয়েকবার ভঙ্গ হয়েছে একদিনে মৃত্যুর রেকর্ড। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টাতে মারা গেছে ৯৪ জন।

ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়র আইসিইউ বিভাগের কনসালটেন্ট সাজ্জাদ হোসেন বলছেন, এখন শুরুতেই দ্রুত সংকটাপন্ন হওয়ার পরে হাসপাতালে আসছেন অনেক রোগী। আবার হাসপাতালে এসেও অনেকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব করছেন।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, "আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্তদের ফুসফুস দ্রুত সংক্রমণ হচ্ছে ফলে খুব দ্রুত ড্যামেজ হচ্ছে। ফুসফুস ফুটবলের মতো হয়ে যায়। আমাদের এখানে যত রোগী আসছে প্রায় সবার একই অবস্থা। আমরা চেষ্টা করছি সবদিক দিয়ে। অনেকে আবার দ্রুত লাইফ সাপোর্ট সুবিধা নিতে রাজী হয়না।"

বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

হাসপাতালে ভর্তির জন্য রোগীরা বিভিন্ন জায়গায় ছোটাছুটি করছেন
Getty Images
হাসপাতালে ভর্তির জন্য রোগীরা বিভিন্ন জায়গায় ছোটাছুটি করছেন

অর্থাৎ শুরুতেই ফুসফুসের অবস্থা চরমভাবে খারাপ হয়ে হাসপাতালে আসার পর চিকিৎসার ক্ষেত্রে আবার রোগীর দিক থেকে নানা সিদ্ধান্তহীনতাও হাসপাতালে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে।

অথচ গত বছর মার্চেও করোনা সংক্রমণ শুরুর পর স্বাস্থ্য বিভাগ থেকেই আক্রান্তদের বাসায় চিকিৎসা নিতে উৎসাহিত করা হয়েছিলো। তখন জটিল রোগীদেরই হাসপাতালে আনার পরামর্শ দেয়া হতো।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাওসার আফসানা বলছেন, এবার সেকেন্ড ওয়েভ শুরুর আগে দু'মাস মানুষ যেমন গুরুত্ব দেয়নি তেমনি কর্তৃপক্ষের দিক থেকেও সেকেন্ড ওয়েভ বা দ্বিতীয় ঢেউয়ের যথাযথ প্রস্তুতি নেয়া হয়নি।

"গতবার ধীরে ধীরে সংক্রমণ বাড়ছিলো। রোগটিতো চলে যায়নি। একটু কমে গিয়েছিলো। কিন্তু রোগটা আবার যখন মাথাচাড়া দিবে তখন তো এমনিই হবে। জনগণেরও যেমন অবহেলা আছে আবার যাদের প্রস্তুতি নেয়ার দরকার ছিলো পাবলিক হেলথ থেকে সেটিও আমরা করিনি।"

বাংলাদেশে আইসিডিডিআরবি'র গবেষণা করোনা ভাইরাসে দক্ষিণ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্টের অস্তিত্ব পাওয়ার পর জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকরা এটিকে আরও বেশি সংক্রামক ও জটিল বলে বর্ণনা করেছেন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে
Getty Images
করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে

এবার দ্বিতীয় দফার সংক্রমণ শুরুর পর রোগীদের অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে যাওয়ার প্রবণতা পাচ্ছেন চিকিৎসকরা। ফলে অনেকে হাসপাতালে এসেও অক্সিজেন, আইসিইউ, এমনকি লাইফ সাপোর্ট সুবিধা পেলেও শেষ পর্যন্ত হেরে যাচ্ছেন ভাইরাসের কাছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে গত সাতই এপ্রিল যে ৬৩ জন ও দশ এপ্রিল যে ৭৭ জন মারা গেছে তাদের সবাই হাসপাতালেই মারা গেছে।

আবার গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৯৪ জনের মধ্যে ৯০ জন, বুধবার মারা যাওয়া ৯৬ জনের মধ্যে ৯৪ জনই হাসপাতালে মারা গেছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন বলছেন, বছরের শুরুতে চরম অবহেলার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

"জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে যারা সংক্রমিত হয়েছেন তারা মনেই করেননি যে এটা করোনা। তারা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভেবে চুপ ছিলেন। প্রথম থেকে গুরুত্ব দিলে গুরুতর অবস্থায় যাওয়ার আগেই প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু হতো। তাহলে এ অবস্থা হতো না"।

তবে এবার দ্বিতীয় দফার সংক্রমণে ঢাকার বাইরেও সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার তথ্য আসছে। সে অনুপাতে চিকিৎসা সুবিধা অপ্রতুল হওয়ায় জেলা ও উপজেলায় চিকিৎসা নিয়েও অবস্থা ভালো না হওয়ায় অনেকে ঢাকায় আসছেন।

ঢাকার কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের কর্মকর্তারা বলছেন এসব বিলম্বে আসা রোগীদের পরে সারিয়ে তোলা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে ঢাকার হাসপাতালগুলো এখন রোগীতে সয়লাব। আইসিইউ সুবিধা প্রায় দুর্লভ।

ফলে সংকটাপন্ন অবস্থায় এসে রোগী সময়মত হাসপাতালে ভর্তি হতে পারছেন না।

আর হাসপাতালে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এসব বিষয়ই ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর:

BBC
More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+