বাংলাদেশকে সামরিক অস্ত্র সরবরাহ চিনের, প্রকাশ্যে এল চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট
ভারত বাংলাদেশ অশান্তি এখন খানিকটা স্থিত হয়েছে। তবে ধিকিধিকি আগুন জ্বলছে বাংলাদেশের অন্দরে। যা নিয়ে চিন্তিত দিল্লি। তবে এর মধ্যেও সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা এক গবেষণা রিপোর্ট আরও দুশ্চিন্তার মাত্রা বাড়িয়েছে।
চিন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশের ভৌগোলিক চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম হস্তান্তর করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে রাইফেল, রকেট লঞ্চার, ম্যানপ্যাড, হালকা ইউটিলিটি যানবাহন এবং টহল দেওয়া জাহাজ।

বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরও চিন-বাংলাদেশ সামরিক সম্পর্ক অব্যাহত রয়েছে। গবেষণাপত্র অনুযায়ী, অক্টোবরে পিপলস লিবারেশন আর্মি নৌবাহিনী তাদের দুটি যুদ্ধজাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে শুভেচ্ছা সফরের জন্য পাঠিয়েছিল, যা দুই দেশের সামরিক সহযোগিতার স্থায়িত্বের প্রতীক।
এই গবেষণাপত্রের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক ও গবেষক ইমতিয়াজ আহমেদ, বাংলাদেশে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং সেন্টার ফর অল্টারনেটিভস-এর বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি
চিনের সহায়তায় বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি এবং বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেডে দেশীয় অস্ত্র উৎপাদনের প্রযুক্তি হস্তান্তর করা হয়েছে, যা প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০১২ সালে চিনের সহায়তায় খুলনা শিপইয়ার্ডে প্রথম দেশীয় টহল জাহাজ নির্মাণ করা হয়, যা বাংলাদেশের সামরিক ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।
চিনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার পরিকল্পনা
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চিনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায়। বিদেশ মন্ত্রকের উপদেষ্টা মহম্মদ তৌহিদ হোসেন সম্প্রতি এক সেমিনারে বলেছেন, বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে এবং ভবিষ্যতেও চিনের সঙ্গে এই সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।
দুই দেশের মধ্যে ২০০২ সালে একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার আওতায় সামরিক প্রশিক্ষণ ও প্রতিরক্ষা উৎপাদনে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ ও চিনের এই সামরিক সম্পর্ক ভারতের জন্য একটি কৌশলগত সমস্যা তৈরি করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তবে বাংলাদেশ সরকার এটিকে জাতীয় প্রতিরক্ষা ক্ষমতা বৃদ্ধির কৌশল হিসেবে দেখছে। কিন্তু সবকিছুর পরেও একটা দুশ্চিন্তা যেন থেকেই যাচ্ছে, যা ভারতকে ভাবাচ্ছে অনেক বেশি।












Click it and Unblock the Notifications