Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

শ্বাস নিতে পারছি না, ঢাকায় বিক্ষোভের আগুনে জ্বলল সংবাদমাধ্যম, ভিতরে আটকে সাংবাদিকরা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি ফের অশান্ত হয়ে উঠল যুবনেতা ও ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে ঘিরে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হাদির মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর শুরু হয়। সেই উত্তাল পরিস্থিতির শিকার হয় দেশের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো ও দ্যা ডেইলি স্টার।

৩২ বছর বয়সি ওসমান হাদি গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় রিকশায় যাওয়ার সময় মোটরবাইকে আসা মুখোশধারী দুষ্কৃতীদের গুলিতে আহত হন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে দ্রুত সিঙ্গাপুরে নিয়ে গিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উল্লেখযোগ্য বিষয়, হাদির উপর হামলার ঠিক একদিন আগেই বাংলাদেশে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথম নির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছিল প্রশাসন। সেই নির্বাচনে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন হাদি।

এদিকে, হাদির মৃত্যুসংবাদ ছড়াতেই তাঁর সমর্থকেরা ন্যায়বিচারের দাবিতে রাস্তায় নেমে পড়েন। রাতের অন্ধকারে ঢাকার অন্তত তিনটি জায়গায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। আগুন লাগানো হয় কাওরান বাজারে অবস্থিত প্রথম আলো ও দ্যা ডেইলি স্টারের অফিস ভবনে।

বিক্ষোভকারীরা প্রথমে সংবাদমাধ্যমের অফিসে ঢুকে ভাঙচুর চালায়, তারপর আগুন ধরিয়ে দেয়। ধোঁয়ায় ভরে যায় নিউজরুম। ভিতরে আটকে পড়েন বহু সাংবাদিক ও কর্মী।

দ্যা ডেইলি স্টারের সাংবাদিক জাইমা ইসলাম তখন জ্বলন্ত ভবনের ভিতরেই আটকে ছিলেন। ফেসবুকে আতঙ্কিত কণ্ঠে তিনি লেখেন, "আমি আর শ্বাস নিতে পারছি না। চারদিকে শুধু ধোঁয়া। আমি ভিতরে আটকে আছি। তোমরা আমাকে মেরে ফেলছ।"

রাত প্রায় ১টা ৪০ মিনিট নাগাদ আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও তখনও ভবনের ভিতরে অন্তত ২৭ জন কর্মী আটকে ছিলেন।

ডেইলি স্টারের আর এক সাংবাদিক আহমেদ দীপ্তো জানান, "আমরা ভবনের পিছনের দিকে আশ্রয় নিয়েছিলাম। বাইরে বিক্ষোভকারীদের স্লোগান শুনতে পাচ্ছিলাম।"

সূত্রের খবর, আগুন লাগার পর চার ঘণ্টার চেষ্টায় অন্তত ২৫ জন সাংবাদিককে উদ্ধার করা হয়। মই ব্যবহার করে দমকল বাহিনী উদ্ধারকাজ চালায়। পরে সেনা মোতায়েন করে এলাকা সুরক্ষিত করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রথমে প্রথম আলো অফিসে হামলা চালানো হয়, পরে ডেইলি স্টার ভবনে আগুন ধরানো হয়। কেন অন্তর্বর্তী সরকারের সমর্থক বলে পরিচিত এই দুই সংবাদমাধ্যমকে টার্গেট করা হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ঘটনার পর টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুস। শুক্রবার মসজিদে বিশেষ প্রার্থনার ডাক দেন তিনি ও শনিবার জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করেন।

ইউনুস বলেন, "ওসমান হাদির মৃত্যু দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। সকলকে শান্ত থাকার আবেদন জানাচ্ছি।"

এই অশান্তির আঁচ পড়ে কূটনৈতিক মহলেও। ঢাকায় ভারতের ডেপুটি হাই কমিশনারের বাসভবন ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় শতাধিক মানুষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে।

এছাড়াও ঢাকার বাইরে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়ক অবরোধ, চট্টগ্রামে প্রাক্তন এক মন্ত্রীর বাড়িতে হামলা ও ঢাকার সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানটে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন শাহবাগ চত্বরে হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হয়ে স্লোগান তোলেন "তুমি কে, আমি কে হাদি, হাদি!"

ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) এই বিক্ষোভে যোগ দেয়। এনসিপি নেতৃত্বের দাবি, হাদির খুনিরা ভারতে পালিয়ে গেছে। যতক্ষণ না তাদের ফিরিয়ে আনা হচ্ছে, ততক্ষণ বাংলাদেশে ভারতীয় হাই কমিশন বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দেন তারা।

এই পরিস্থিতিতে ভারতের সংসদের বিদেশ বিষয়ক স্থায়ী কমিটি সতর্ক করে জানিয়েছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর এই প্রথম বাংলাদেশে ভারতের সামনে এত বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর এর নেতৃত্বাধীন কমিটির মতে,
ইসলামপন্থী প্রভাব বৃদ্ধি, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলির দুর্বলতা ও চিন পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা ভবিষ্যতে ভারত বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+