আব্দুল মালেক: স্বাস্থ্য দপ্তরের একজন আলোচিত ড্রাইভারকে অস্ত্র পাওয়ার দায়ে ৩০ বছরের কারাদণ্ড
আব্দুল মালেক: স্বাস্থ্য দপ্তরের একজন আলোচিত ড্রাইভারকে অস্ত্র পাওয়ার দায়ে ৩০ বছরের কারাদণ্ড
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়িচালক আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে করা মামলায় ১৫ বছর করে মোট ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে মি. মালেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ হয় এবং একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হয়েও কীভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন মি. মালেক তা নিয়ে বাংলাদেশের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে দিনের পর দিন রিপোর্ট প্রকাশিত হয়।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো বেশ কয়েকদিন জুড়ে সরগরম ছিল।
এক পর্যায়ে র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে এবং তার বাড়িতে অবৈধ অস্ত্র, জালনোট ইত্যাদি পাওয়া গেছে বলে জানায় এবং এ সংক্রান্ত মামলা দায়ের করা হয়।
অবৈধ অস্ত্রের সেই মামলাতেই এখন মি. মালেককে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হল।
জাল মুদ্রা রাখা ও ব্যবসা করার অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে একটি মামলা এখনো চলমান আছে। এছাড়া অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনও তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে।
আরো পড়ুন:
- 'করোনাভাইরাস মহামারিকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির মহোৎসব'
- বাংলাদেশে তিনটি খাতে দুর্নীতির অভিযোগ বেড়েছে
- দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের আরো অবনতি, একমত নয় দুদক
রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আবু এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আব্দুল মালেকের কাছে যে অস্ত্র ও গুলি পাওয়া গেছে তার জন্য দুটি আলাদা ধারায় তার বিরুদ্ধে আলাদা রায় ঘোষণা করা হয়েছে। দুটি ধারাতেই আলাদা করে ১৫ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
মি. আবু জানান, এই দুটি রায় একসাথেই কার্যকর করা হবে এবং চলবে। এ কারণে ৩০ বছরের কারাদণ্ড হলেও তাকে মোট ১৫ বছর কারাভোগ করতে হবে।
দুটি ধারার মধ্যে একটিতে তার কাছে আগ্নেয়াস্ত্র বা পিস্তল পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। অন্যটিতে ম্যাগাজিনসহ দুটি গুলি পাওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে জানাচ্ছেন কৌসুঁলীরা।
২০২০ সালের ২০শে সেপ্টেম্বর রাজধানী ঢাকার তুরাগের কামারপাড়া এলাকা থেকে গাড়িচালক মি. মালেককে গ্রেফতার করে র্যাব।
সেসময় তার বাসা থেকে অবৈধ অস্ত্র, কয়েক রাউন্ড গুলি এবং বিপুল পরিমাণ জাল টাকার নোট উদ্ধারের কথা জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সেসময় এ ঘটনাটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং ফেসবুকে ব্যাপক আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
মি. আবু বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পারায় এই সাজা দিয়েছে আদালত।
তিনি বলেন, এই মামলায় মোট ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। তারা সবাই নিশ্চিত করেছেন যে, আব্দুল মালেকের বাসায় অভিযানের সময় তার শয়নকক্ষ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
আব্দুল্লাহ আবু জানান, অস্ত্র আইনের অধীনে সোমবার যে রায় ঘোষণা করা হয়েছে তাতে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।
এদিকে রায় ঘোষণার দিন আব্দুল মালেকের স্বজনরা আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোতে সরাসরি প্রচারিত ভিডিওতে তাদের এ মামলা সাজানো বলে চিৎকার করে অভিযোগ করতে শোনা গেছে।
এছাড়া সাজা ঘোষণার পর আব্দুল মালেককে প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় তিনিও দাবি করেছেন যে, তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে করা মামলাটির সাথে তার সম্পৃক্ততা নেই।













Click it and Unblock the Notifications