রিজার্ভ চুরি: প্রায় তিন বছর পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের মামলা, আসামী ফিলিপিন্সের ব্যাংক ও ব্যাংকাররা

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রাখা রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলার ফেরত পেতে নিউইয়র্কের ম্যানহাটন ডিসট্রিক্ট কোর্টে মামলা দায়ের করেছে বাংলাদেশ। কী অভিযোগ আনা হয়েছে এ মামলায়?

তিন বছর আগে ঘটা বৈদেশিক মুদ্রা বা রিজার্ভ চুরির বিষয়ে শেষ পর্যন্ত মামলা করলো বাংলাদেশ।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রাখা রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলার ফেরত পেতে নিউইয়র্কের ম্যানহাটন ডিসট্রিক্ট কোর্টে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ মামলায় মূলত ফিলিপিন্সের রিজাল ব্যাংক এবং এর পদস্থ কর্মকর্তাসহ কয়েক ডজন ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে রিজার্ভের অর্থ চুরি করতে 'অনেক বছর ধরে বড় আকারের ও অত্যন্ত জটিল পরিকল্পনা'র সাথে ব্যাংক এবং এসব ব্যক্তিরা জড়িত ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে অজ্ঞাত কিছু উত্তর কোরীয় হ্যাকারদের সহযোগিতায় ওই অর্থ চুরি হয়েছে।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

রিজার্ভ চুরির আগে চাকরি চেয়েছিল হ্যাকাররা

রিজার্ভ চুরি: কেন জড়িতরা চিহ্নিত হচ্ছে না?

ইলিয়াস কাঞ্চন: জীবন যখন উপন্যাসের মতই ট্র্যাজিক

হ্যাকাররা 'নেসট্যাগ' ও 'ম্যাকট্রাক' নামক ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে নেটওয়ার্কে ঢুকতে পেরেছিলো।

অভিযোগ অনুযায়ী, চুরি হওয়া অর্থ নিউইয়র্ক ও ফিলিপিন্সে রিজাল ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে স্থানান্তর করা হয়েছে।

পরে এই অর্থ ক্যাসিনোর মাধ্যমে বেহাত হয়ে যায়।

হ্যাকাররা ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে নেটওয়ার্কে ঢুকেছিলো
BBC
হ্যাকাররা ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে নেটওয়ার্কে ঢুকেছিলো

তবে ফিলিপিন্সের রিজাল ব্যাংক বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়ের করা মামলা নিয়ে কোনো মন্তব্য এখনো করেনি।

বুধবার তারা শুধু বলেছে, মামলাকে তারা স্বাগত জানায় কারণ তারা মনে করে এটা রেকর্ড করার সুযোগ এসেছে যে বাংলাদেশে কিছু অজ্ঞাত ব্যক্তি যে কার্যক্রমের সূচনা করেছিলো তার ভিকটিম হয়েছে ওই ব্যাংক।

ঘটনাটির সূত্রপাত হয়েছিলো ২০১৬ সালে যখন নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক একটি স্বয়ংক্রিয় আদেশ পায় ৮১ মিলিয়ন ডলার ছাড় করার জন্য।

পরে এই অর্থ ফিলিপিন্সের মাকাতি শহরে রিজাল ব্যাংকের শাখায় চারটি ভুয়া অ্যাকাউন্টে যায় এবং সেখান থেকে দ্রুত অর্থ উত্তোলন করা হয়।

পরে চুরি হওয়া অর্থের মধ্যে মাত্র পনের মিলিয়ন ডলার পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের চুরি হওয়া অর্থের মধ্যে ৪৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার ফেরত দিয়েছেন মি. অং
BBC
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের চুরি হওয়া অর্থের মধ্যে ৪৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার ফেরত দিয়েছেন মি. অং

ম্যানিলা ভিত্তিক রিজাল ব্যাংক বারবারই বলেছে চুরির ঘটনাটি বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরে থেকেই হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবীর বুধবার বলেছেন নিউইয়র্ক ফেড-এর সাথে এ মামলায় সহযোগিতার বিষয়ে তারা একটি সমঝোতায় স্বাক্ষর করেছেন।

তবে নিউইয়র্ক ফেড-এর মুখপাত্র এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজী হননি।

প্রায় তিন বছর আগে রিজার্ভ থেকে হ্যাকাররা মূলত ১০ কোটি দশ লাখ ডলার সরিয়ে ফেলেছিলো, যার মধ্যে দুই কোটি ডলার শ্রীলংকার একটি অ্যাকাউন্টে পাঠানো হলেও বানান ভুলের কারণে তা আবার ফেরত আসে।

বাকী আট কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপিন্সের ক্যাসিনোতে চলে যায় ।

রিজাল ব্যাংকের সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মায়া দেগুইতো
AFP
রিজাল ব্যাংকের সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মায়া দেগুইতো

এর মধ্যে প্রায় দেড় কোটি বা পনের মিলিয়ন ডলার ফিলিপিন্স কর্তৃপক্ষ উদ্ধার করতে পারলেও বাকী অর্থের এখনো সুরাহা হয়নি।

একই সাথে রিজাল ব্যাংকের যে শাখার মাধ্যমে অর্থ সরিয়ে ফেলা হয়েছিলো সেই ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা মায়া দেগুইতোকে গত ১০ই জানুয়ারি দোষী সাব্যস্ত করে ৩২-৫৬ বছরের জেল ও ১০১ মিলিয়ন ডলার অর্থদণ্ড দিয়েছে আদালত।

এর আগে ফিলিপিন্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজাল ব্যাংককে রেকর্ড ১৯ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছিলো ব্যাংকের মাধ্যমে ওই চুরি ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য।

এখন বাংলাদেশ ব্যাংকও রিজল ব্যাংক এবং এর কর্মকর্তাদের অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করলো নিউইয়র্কের আদালতে।

BBC
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+