একইসময়ে লকডাউন, তবু দক্ষিণ আফ্রিকার চেয়ে আক্রান্তের সংখ্যা সাতগুণ বেশি ভারতে
একইসময়ে লকডাউন, তবু দক্ষিণ আফ্রিকার চেয়ে আক্রান্তের সংখ্যা সাতগুণ বেশি ভারতে
প্রায় একই সময়ে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকায় লকডাউন শুরু হয়। কিন্তু আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে মাথায় রেখে করোনা মোকাবিলায় দক্ষিণ-আফ্রিকার প্রতিটি পদক্ষেপ ও প্রতি ১০ লক্ষ মানুষের মধ্যে করোনা পরীক্ষার সংখ্যা ভারতকে ছাপিয়ে গেছে।

লকডাউনের মাঝে দুই দেশে কতজন আক্রান্ত হলেন
ভারতের ২৪শে জানুয়ারি ও দক্ষিণ আফ্রিকায় ২৬শে জানুয়ারি লকডাউন শুরু হয়। সোমবার পর্যন্ত ভারতে আক্রান্ত প্রায় ১৭,৬১৫ জন ও মৃত ৫৫৯ জন এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩১৫৮ জন ও মৃত ৫৪ জন।

লকডাউনের তৎপরতা
লকডাউন শুরুর সময়ে ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫৩৬, যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকায় ছিল ৯২৭। কিন্তু এখন আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যার হিসাবে ভারত দক্ষিণ আফ্রিকার থেকে কয়েক গুণ এগিয়ে। বর্তমানে ভারতে প্রত্যহ নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ করে বাড়লেও দক্ষিণ আফ্রিকায় সংখ্যাটি ১৫০। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর কারণ হল লকডাউনেরও প্রায় ১৫ দিন পর থেকে ভারতে ভ্রমণ ইতিহাস নেই তবে উপসর্গ আছে, এমন নাগরিকদের পরীক্ষা শুরু হয়। দক্ষিণ আফ্রিকা এর সম্পূর্ণ বিপরীতে হেঁটে লকডাউনের ১৫ দিনের মধ্যে বেসরকারি সংস্থাগুলির সহায়তায় প্রায় ৬৪,০০০ পরীক্ষা সেরে ফেলে।

দক্ষিণ আফ্রিকা কিভাবে আক্রান্তের সংখ্যা কমিয়ে আনে?
করোনা আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনার একমাত্র পথ যে লাগাতার পরীক্ষা, তা প্রমাণ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৭ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনা প্রবেশ করেনি, তখনই প্রায় ৪২টি পরীক্ষা হয়ে যায়। মধ্য-ফেব্রুয়ারিতে প্রথম করোনা আক্রান্ত ধরা পড়ার পরপরই কেন্দ্রীয় সরকার সমস্ত হাসপাতালে করোনা পরীক্ষা বিনামূল্যে করার কথা ঘোষণা করে। বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রত্যহ ৩৬,০০০ পরীক্ষা করার ক্ষমতা রাখে। করোনা প্রবেশের মাত্র ৫০ দিনের মধ্যে অর্থাৎ ২০শে এপ্রিল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রায় ১,১৪,০০০ পরীক্ষা হয়েছে এবং প্রতি ১০ লক্ষে ১৯৩৪ জনের করোনা পরীক্ষা হয়েছে। ভারতে মোট পরীক্ষার সংখ্যা ৪,০০,০০০ হলেও প্রতি ১০ লক্ষে পরীক্ষার সংখ্যা মাত্র ২৯১।

লকডাউনের কড়াকড়ি
দক্ষিণ আফ্রিকায় ২৬শে মার্চ লকডাউন শুরু হলেও রাষ্ট্রপতি সিরিল রামাফোসা ১৫ই মার্চ থেকেই ভ্রমণে বিধিনিষেধ আরোপ করেন। এরপরই ক্রমে ক্রমে পড়াশোনার সমস্ত জায়গা সহ সরকারি কর্মক্ষেত্রগুলি বন্ধ হয়। সরকারের পক্ষ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম ঠিক রাখার জন্য ও লকডাউনে যাতে কেউ বাইরে না বেরোন, তার জন্য কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সামগ্রীর মূল্য হেরফেরে জরিমানা ধার্য হয়। লকডাউনের বিধিনিষেধ ভঙ্গ করার জন্যে প্রায় ২২০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা পুলিশ ও এক মন্ত্রীকে ২ মাসের জন্য কর্মবিরতি দেওয়া হয়েছে। এদিকে ভারতীয় পুলিশের মতোই দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশি টহল নিয়েও উঠছে প্রশ্ন, কারণ পুলিশের মারে ইতিমধ্যেই দক্ষিণ আফ্রিকায় মৃতের সংখ্যা ৯।












Click it and Unblock the Notifications