১৮.৩ কোটি ইমেল লগইন তথ্য ফাঁস!আপনার জিমেইল কি নিরাপদ? খুঁটিনাটি জেনে নিয়ে এখনই চেক করুন
গোটা বিশ্বজুড়ে জিমেইল ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা গবেষকদের হাতে ধরা পড়েছে এক অভূতপূর্ব তথ্য ফাঁসের ঘটনা। যেখানে প্রায় ১৮.৩ কোটি ইমেল আইডি ও পাসওয়ার্ড উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে ঘটে যাওয়া এই বিশাল সাইবার কেলেঙ্কারি সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ তথ্যচুরির ঘটনা বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ট্রয় হান্ট জানিয়েছেন, সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা সিনথিয়েন্টের গবেষক বেনজামিন ব্রানডেজ বিভিন্ন উৎস থেকে এই বিপুল তথ্য সংগ্রহ করেন, যার মধ্যে ছিল অপরাধীদের ডার্ক ওয়েব মার্কেটপ্লেস, সোশ্যাল মিডিয়া, ফোরাম, এমনকি টেলিগ্রাম গ্রুপ। মোট ডেটার পরিমাণ ছিল প্রায় ৩.৫ টেরাবাইট, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় ফাইলটির আকার ২.৬ টেরাবাইট, তাতে ছিল প্রায় ২৩ বিলিয়ন তথ্য!

এই বিপুল তথ্যভান্ডারের মধ্যেই পাওয়া গেছে ১৮.৩ কোটি ইউনিক অ্যাকাউন্ট, যার মধ্যে প্রায় ১৬.৪ কোটি আগে কখনও কোনও তথ্যফাঁসে ধরা পড়েনি। অর্থাৎ, সম্পূর্ণ নতুনভাবে হ্যাক হয়েছে এই ইমেলগুলি।
গবেষকরা জানিয়েছেন, এই ফাঁস মূলত স্টিলার ম্যালওয়্যার নামের এক বিশেষ সফটওয়্যারের সাহায্যে ঘটে। আক্রান্ত কম্পিউটার থেকে ব্যবহারকারী যখন কোনও ওয়েবসাইটে লগইন করেন, তখন ম্যালওয়্যার সেই ইউজারনেম, পাসওয়ার্ড ও ওয়েবসাইটের ঠিকানা সংগ্রহ করে রাখে। পরবর্তীতে সেই তথ্য বিক্রি হয় বিভিন্ন হ্যাকার মার্কেটপ্লেসে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তথ্যগুলি শুধু ইমেল নয়, আরও নানা প্ল্যাটফর্ম যেমন সোশ্যাল মিডিয়া, অনলাইন ব্যাংকিং বা ক্লাউড সার্ভিসে প্রবেশের চাবিকাঠি। কারণ অনেক ব্যবহারকারী একই পাসওয়ার্ড একাধিক জায়গায় ব্যবহার করেন। হ্যাকাররা এই স্টাফিং লিস্ট ব্যবহার করে এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে অনায়াসে ঢুকে পড়ে, তৈরি হয় আরও বড় ডেটা ব্রিচের আশঙ্কা।
লিক হওয়া এই তথ্য পাঠানো হয়েছে জনপ্রিয় সাইবার নিরাপত্তা সাইটে। সেখানে গিয়ে যে কেউ নিজের ইমেল আইডি সার্চ করে জানতে পারবেন, তাঁর তথ্য কোনও ফাঁসের ঘটনায় জড়িত কি না। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ তৎক্ষণাৎ পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন। দ্বিতীয় পদক্ষেপ যাচাইকরণ চালু করুন।
একই পাসওয়ার্ড একাধিক সাইটে ব্যবহার করা থেকে বিরত থথাকার পরামর্শও দিয়েছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্বজুড়ে এই তথ্যফাঁসকে বিশেষজ্ঞরা সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখছেন, ডিজিটাল যুগে যতই প্রযুক্তি উন্নত হয়ে উঠুক না কেন, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে খামতি রাখা একেবারেই ঠিক নয়।












Click it and Unblock the Notifications