ভ্যাকসিনের দৌড়ে আশা জোগাচ্ছে দেশে গবেষণাধীন তিনটি করোনা টিকা! ১৭৫০ জনের শরীরে ট্রায়াল
ভ্যাকসিনের দৌড়ে আশা জোগাচ্ছে দেশে গবেষণাধীন তিনটি করোনা টিকা! ১৭৫০ জনের শরীরে ট্রায়াল
আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেছিলেন ১৫ই আগস্টের মধ্যেই ভ্যাকসিন আসছে দেশে, কিন্তু আগস্টের প্রায় শেষ হতে চললেও দেশে ভ্যাকসিন না মেলায় একপ্রকার নিরাশ হয়ে পড়েছিলেন দেশবাসী। ইতিমধ্যেই গোটা বিশ্বে প্রায় ২৬ টি ভ্যাকসিন ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শেষ করেছে। পাশাপাশি, আরও ১৩৬ টা ভ্যাকসিন রয়েছে প্রি-ক্লিনিক্যাল পর্যায়ে। অন্যদিকে, তড়িঘড়ি রাশিয়ার ভ্যাকসিন 'স্পুটনিক ভি' বাজারে আসলেও অন্তিম ট্রায়াল না হওয়াতে থেকেই যাচ্ছে কিছু প্রশ্ন। এই দমবন্ধকর পরিস্থিতিতেই নতুন আশা দেখাচ্ছে দেশে গবেষণারত তিনটি করোনার ভ্যাকসিন।

দ্রুত সাফল্যের দিকে এগোচ্ছে দেশের তিন ভ্যাকসিন
দেশে করোনা পরিস্থিতি মোটেও সুখকর নয়, বরং উত্তরোত্তর বাড়ছে আশঙ্কা। রোজ নয়া রেকর্ড গড়ছে আক্রান্ত সংখ্যা৷ এমতাবস্থায়, মঙ্গলবার আইসিএমআর সূত্রে খবর, দেশে গবেষণারত তিনটি ভ্যাকসিন ইতিমধ্যেই দ্রুত সাফল্যের সঙ্গে চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে। ইতিমধ্যেই, ভ্যাকসিন তিনটি বিভিন্ন পরীক্ষামূলক পর্যায় সফল ভাবেই অতিক্রম করেছে বলে জানা যাচ্ছে।

ভ্যাকসিনের দৌড়ে এগিয়ে কোন তিনটি ভ্যাকসিন?
এদিন কোভিড-১৯ সংক্রান্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে আইসিএমআরের ডিজি ডঃ বলরাম ভার্গব জানান,ভরসা জোগাচ্ছে দেশীয় দুটি ভ্যাকসিন সহ ভারতে পরীক্ষারত মোট তিনটি ভ্যাকসিন। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য, ভারতের সিরাম ইন্সটিটিউটের সহায়তায় প্রস্তুত অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন, ভারত বায়োটেকে ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ও আইসিএমআরের যৌথউদ্যোগে পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজিতে প্রস্তুত কো-ভ্যাক্সিন, এবং জাইডাস ক্যাডিলার নির্মিত জাইকোভি-ডি ।

দেশের ১৭৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক অংশ নিয়েছেন ৩টি ভ্যাকসিনের হিউম্যান ট্রায়ালে
ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক পদ্ধতি সম্পর্কে আরও একটু খোলসা করে ডাঃ ভার্গভ জানান, ইতিমধ্যেই সিরাম ইন্সটিটিউটের করোনা টিকা দ্বিতীয় পর্যায়ের 'বি' ধাপে রয়েছে, এবং তৃতীয় পর্যায়ের প্রথম ধাপের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন প্রায় ১৭০০ জন স্বেচ্ছাসেবক। শীঘ্রই ভারত বায়োটেকের ভ্যাকসিন দ্বিতীয় পর্বের ট্রায়াল শুরু করতে চলেছে। এদিকে জাইডাস ক্যাডিলার ভ্যাকসিন ইতিমধ্যেই ৫০ জনকে নিয়ে তাদের দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল সম্পন্ন করেছে বলে জানা যাচ্ছে। অর্থাৎ, দেশজুড়ে কমপক্ষে ১৭৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক এই তিন ভ্যাকসিনের হিউম্যান ট্রায়ালে অংশ নিয়েছেন।

ভ্যাকসিন প্রস্তুতিতে তিনটি পর্যায়ের পরীক্ষাই সমান গুরুত্ব রাখে
ভ্যাকসিন প্রস্তুতির পরীক্ষামূলক পদ্ধতিটি তিন-পর্যায়ের সম্পন্ন হয়। প্রথম ধাপে অল্প সময়ে, অল্প সংখ্যাক মানুষের মধ্যে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে, ক্লিনিকাল ট্রায়ালটি আরেকটু প্রসারিত করা হয় এবং ভ্যাকসিন প্রয়োগের ক্ষেত্রে বয়স,শারীরিক অবস্থার উপর নজর দেওয়া হয়। তৃতীয় পর্যায়ে, ভ্যাকসিনটি কয়েক হাজার মানুষকে দেওয়া হয় এবং তার কার্যকারিতা এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার পরীক্ষা করা হয়। যদিও, এই সমস্ত ধাপের পরীক্ষার আগেই রাশিয়ায় ছাড়পত্র পেয়েছে 'স্পুটনিক ভি'।












Click it and Unblock the Notifications