Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

ইউনেস্কোর তালিকা মতে জগত-সভায় শ্রেষ্ঠ আসন লাভ করেছে ভারতের যেসব স্থান

ইউনেস্কোর তালিকায় ভারতের স্থাপত্য

বাংলার মুকুটে সোনার পালক যুক্ত করে ইউনেস্কোর 'ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ' স্বীকৃতি পেল বাঙালীর শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গোৎসব। দেশের সঙ্গে গোটা বিশ্বে এবার পূজিতা হবেন মা শক্তি। কিন্তু এই প্রথম নয়। এর আগেও গোটা বিশ্বের এক একটি জায়গাকে বিশেষ মানদণ্ডের ভিত্তিতে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান বা বিষয়ের তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে মহান ভারতের একাধিক স্থাপত্য অ স্থানকে। কলকাতার দুর্গাপুজোকে সম্প্রতি হেরিটেজের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও ভারতের বেশকিছু জায়গা ইউনেস্কোর হেরিটেজ তালিকায় রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম আগ্রা ফোর্ট, অজন্তা গুহা, ইলোরা গুহা, তাজমহল সহ আরো বিখ্যাত স্থান। দেখে নেওয়া যাক জগত-সভায় শ্রেষ্ঠ আসন লাভ করেছে ভারতের এমনই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থান।


তাজমহল

তাজমহল

বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের একটি আশ্চর্য এই তাজমহল। তাজমহলকে প্রেমের উদাহরণ হিসেবে ধরা হয়। মুঘল সম্রাট শাহজাহান পত্নী মমতাজের স্মৃতিতে তৈরি করেছিলেন এই সৌধ। আগ্রার প্রায় ১৭ হেক্টর জমির ওপর যমুনা নদীর ডান দিকে এই স্মৃতিসৌধ তৈরি করা হয়েছিল। মুমতাজে মৃত্যুর পর ১৬৩২ খ্রিস্টাব্দ থেকে এই সৌধ তৈরীর কাজ শুরু হয়েছিল। সৌধের কাজ শেষ হয়েছিল ১৬৪৮ খ্রিস্টাব্দে। ওস্তাদ-আহমদ লাহোরি ছিলেন তাজমহলের প্রধান স্থপতি।

আগ্রা ফোর্ট

আগ্রা ফোর্ট

ভারতের আগ্রায় অবস্থিত এই ফোর্টটি ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কোর দ্বারা হেরিটেজের তকমা পায়। তাজমহল থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত আগ্রা ফোর্ট। আগ্রার লাল কেল্লা মুঘল স্থাপত্যের অনবদ্য নিদর্শন এটি। আকবরের রাজত্বকালে তৈরি হয়েছিল। দূর্গটি যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত।

লালকেল্লা

লালকেল্লা

১৬৩৮ সালে শাহজাহান আগ্রা থেকে দিল্লিতে তার রাজধানী স্থানান্তর করেন।সম্রাট শাহজাহানের নির্মাণ করা দিল্লির লালকেল্লা ছিল দিল্লির সপ্তম নগরী বা শাহজাহানের নতুন রাজধানী শাহজাহানাবাদের রাজপ্রাসাদ। এ কেল্লায় বসবাস করা শেষ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর। ২০০৭ সালে লালকেল্লা ইউনেস্কো বিশ্বঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে নির্বাচিত হয়।

ফতেপুর সিক্রি

ফতেপুর সিক্রি

ষোড়শ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে সম্রাট আকবর তৈরি করেন ফতেপুর সিক্রি। ফতেহপুর সিক্রি মাত্র ১০ বছর মুঘল সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল। ১৯৮৬ সিলেট এটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের তকমা পায়।আকবর সুফি সাধক শেখ সেলিম চিশতীকে সম্মান জানাতে আগ্রা থেকে সিক্রিতে তাঁর বাসভবন এবং আদালত স্থানান্তর করেছিলেন।

কুতুবমিনার

কুতুবমিনার

কুতুব মিনার ১৩ শতকের গোড়ার দিকে দিল্লির কয়েক কিলোমিটার দক্ষিণে নির্মিত হয়েছিল। প্রায় ৭৫ বছর ধরে এটি তৈরি হয়েছিল।কুতুবুদ্দিন আইবক এর নির্মাণ শুরু করেন এবং ইলতুৎমিশ শেষ করেন।এটি দিল্লির পর্যটক দের জন্য একটি আকর্ষণ কেন্দ্র । এর কারুকার্য দেখার জন্য প্রতি বছর দেশ বিদেশ থেকে বহু ঘুরতে আসে।১৯৮৩ সালে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজে স্থান পায়।

অজন্তা গুহা

অজন্তা গুহা

অজন্তা গুহা ভারতের মহারাষ্ট্রে গভীর খাড়া গিরিখাতের পাথর কেটে খোদাই করা হয়েছে প্রায় ৩০টি গুহা-স্তম্ভ। খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দী থেকে খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীর মধ্যে নির্মিত হয়েছিল বলে মনে করা হয়েছে। ৩১ পাথরখোদিত গুহা স্মারক রয়েছে। এগুলো বৌদ্ধদের ধর্মীয় চিত্রকলার অন্যান্য নিদর্শন।

ইলোরা গুহা

ইলোরা গুহা

ইলোরা হল মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদ শহরের উত্তর-পশ্চিমে ২৯ কিমি দূরে একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। ষষ্ঠ এবং নবম শতাব্দীর মধ্যে এই স্থাপত্যগুলো গড়ে উঠেছিল। জানা গিয়েছে রাষ্ট্রকূট রাজবংশের পক্ষ থেকে এগুলি গড়ে তোলা হয়েছে।এখানে মোট ৩৪টি গুহা রয়েছে। এখানে বৌদ্ধ ধর্মের ১২টি, হিন্দু ধর্মের ১৭টি এবং জৈন ধর্মের ৫টি মন্দির রয়েছে। এক কথায় একে ভারতের ধর্মীয় সম্প্রীতির নিদর্শন বলা যায়। ১৯৮৩ সালে এই স্থাপত্যটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজে স্থান পায়।

মহাবলীপূরম

মহাবলীপূরম

দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর চেঙ্গলপট্টু এলাকায় অবস্থিত এই জায়গাটি। ১৯৮৪ সালে এটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজে স্থান পায়। জানা গিয়েছে সপ্তম এবং অষ্টম শতাব্দীতে পল্লব রাজাদের দ্বারা এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

খাজুরাহ মন্দির

খাজুরাহ মন্দির

মহারাষ্ট্রে অবস্থিত খাজুরাহো মন্দিরগুলি দেশের সবচেয়ে সুন্দর মধ্যযুগীয় স্মৃতিস্তম্ভগুলির মধ্যে একটি। মন্দিরগুলি ৯০০ এবং ১১৩০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে চান্দেল্লা শাসকদের দ্বারা নির্মিত হয়েছিল। জানা গিয়েছে,প্রত্যেক চান্দেলা শাসক তার জীবদ্দশায় অন্তত একটি মন্দির নির্মাণ করেছেন।

সাঁচি

সাঁচি

ভারতের বৌদ্ধ পর্যটকদের জন্য সাঁচি একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান। এটি মধ্যপ্রদেশের রাইসেন জেলার সাঁচিতে অবস্থিত। সাঁচির মূল স্তূপ হল ভারতের প্রাচীনতম পাথরের কাঠামো এবং এটি মূলত খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে সম্রাট অশোক দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল। ১৯৮৯ সালে 'ইউনেস্কো' সাঁচীকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসাবে চিহ্নিত করে।

কোনার্ক সূর্য মন্দিরঃ

কোনার্ক সূর্য মন্দিরঃ

ভারতের ঐতিহ্যের একটি স্থাপত্য কোনার্ক সূর্যমন্দির। ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ওড়িশাতে অবস্থিত এবং এটি পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। এটি ব্ল্যাক প্যাগোডা নামেও পরিচিত। এটি সূর্যের চব্বিশ চক্র বিশিষ্ট রথের আকারে নির্মিত।কোনার্ক সূর্য মন্দির পুরীর উত্তর-পূর্ব কোণে অবস্থিত এবং সূর্য দেবতাকে উৎসর্গ করা হয়েছে।

কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান

কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান

আসামের নগাঁও ও গোলাঘাট জেলায় অবস্থিত কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যান।পৃথিবীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এশীয় একশৃঙ্গ গণ্ডারের আবাসস্থল হিসেবে ১৯৮৫ কাজিরাঙ্গা ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের আখ্যা পায়। বিশ্বের সংরক্ষিত এলাকার মধ্যে কাজিরাঙ্গায় বাঘের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি এবং এটিকে ২০০৬ সালে টাইগার রিজার্ভ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

কেওলাদেও জাতীয় উদ্যান

কেওলাদেও জাতীয় উদ্যান

এটি ভরতপুর পাখি অভয়ারণ্য নামে পরিচিত। কেওলাদেও জাতীয় উদ্যানটি ভারতের সবচেয়ে ঐতিহাসিক দুটি শহর আগ্রা এবং জয়পুরের মধ্যে অবস্থিত। এটিকে ১৯৮২ সালে একটি জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয় এবং তারপরে ১৯৮৫ সালে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের তকমা পায়।পার্কটিতে ৩৭০টিরও বেশি প্রজাতির পাখি রয়েছে। বাস্কিং পাইথন, পেইন্টেড সারস, হরিণ, নীলগাই এবং আরও অনেক কিছু এখানে রয়েছে।

সুন্দরবন

সুন্দরবন

সুন্দরবন, বিশ্বের বৃহত্তম ব-দ্বীপ। ভারত ও বাংলাদেশ জুড়ে ১০,২০০ বর্গ কিমি ম্যানগ্রোভ নিয়ে গঠিত। ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্যে থাকা বনের অংশটিকে সুন্দরবন জাতীয় উদ্যান বলা হয়। রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মূল আবাসস্থল বলেই জানা যায়।

 নন্দা দেবী জাতীয় উদ্যান

নন্দা দেবী জাতীয় উদ্যান

১৯৮২ সালে সঞ্জয় গান্ধী জাতীয় উদ্যান নামে প্রতিষ্ঠিত হয় এই উদ্যানটি। উত্তর ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে নন্দা দেবী শৃঙ্গের চারপাশে অবস্থিত এই জাতীয় উদ্যান পরে নন্দা দেবী জাতীয় উদ্যান নামে স্বীকৃতি লাভ করে। ১৯৮৮ সালে এই জাতীয় উদ্যান বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ইউনেস্কো তালিকায় যুক্ত হয়। এখানে ১৭ টি বিরল প্রজাতির প্রাণী ও ৩১২ টি ফুলের প্রজাতি পাওয়া গেছে। ফার, বার্চ, রডোডেনড্রন এবং জুনিপার এখানকার প্রধান উদ্ভিদ।

মাউন্টেন রেলওয়ে

মাউন্টেন রেলওয়ে

ভারতের মাউন্টেন রেলওয়ে তিনটি রেলপথ নিয়ে গঠিত। যার মধ্যে দার্জিলিং হিমালয় রেলওয়ে পশ্চিমবঙ্গে হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত। যার আয়তন ৫.৩৪ হেক্টর। নীলগিরি মাউন্টেন রেলওয়ে তামিলনাড়ুর নীলগিরি পাহাড়ে অবস্থিত। এর আয়তন ৪.৫৯ হেক্টর। এবং কালকা সিমলা রেলওয়ে হিমাচল প্রদেশে অবস্থিত। এর আয়তন ৭৯.০৬ হেক্টর।

 ছত্রপতি শিবাজি টার্মিনাস

ছত্রপতি শিবাজি টার্মিনাস

ছত্রপতি শিবাজি টার্মিনাসের আগের নাম ছিল ভিক্টোরিয়া টার্মিনাস। এফ ডব্লিউ স্টিভেনসের ডিজাইন করা এই ভবনটি ২.৮৫ হেক্টর এলাকা জুড়ে অবস্থিত। ১৮৭৮ থেকে ১৫৮৮ সাল পর্যন্ত এর নির্মাণকাল। বাণিজ্য নগরী মুম্বইতে অবস্থিত এই রেল টার্মিনাস মধ্য ভারতীয় রেলের সদর কার্যালয়।

রাজস্থানের দুর্গ

রাজস্থানের দুর্গ

রাজস্থান রাজ্যে অবস্থিত, চিতোরগড়ের ছয়টি মহিমান্বিত দুর্গ যথাক্রমে কুম্ভলগড়, সওয়াই মাধোপুর, ঝালাওয়ার, জয়পুর, ও জয়সলমীর। রাজপুত রাজ্যের ক্ষমতার সাক্ষ্য বহন করে।

 মহাবোধি মন্দির

মহাবোধি মন্দির

বুদ্ধগয়ায় অবস্থিত প্রথম মহাবোধি মন্দির খ্রিস্টপূর্ব ৩য় শতাব্দীতে সম্রাট অশোক কর্তৃক নির্মিত। এবং বর্তমান মন্দিরটি ৫ম-৬ষ্ঠ শতাব্দীর সময়কালে নির্মিত। এটি প্রাচীনতম বৌদ্ধ মন্দিরগুলির মধ্যে একটি যা সম্পূর্ণরূপে ইট দিয়ে নির্মিত, এখনও স্থির, গুপ্ত যুগের শেষের দিক থেকে এবং এটি বহু শতাব্দী ধরে ইট স্থাপত্যের বিকাশে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে।

 গোয়ার গির্জা এবং কনভেন্ট

গোয়ার গির্জা এবং কনভেন্ট

ভারতের পশ্চিম উপকূলে পর্তুগিজ শাসনের জন্য ভেল্হা গোয়ার গির্জা এবং কনভেন্টগুলি তাদের অস্তিত্বের ধারক ও বাহক হিসেবে চিহ্নিত। ওল্ড গোয়ায় খ্রিস্টীয় ১৬ থেকে ১৭ শতকের মধ্যে নির্মিত গির্জা এবং ক্যাথেড্রালগুলির মধ্যে সর্বাধিক খ্যাত 'ব্যাসিলিকা অফ ব্যোম জিসাস'। এছাড়াও আসিসির সেন্ট ফ্রান্সিস চার্চ এবং কনভেন্ট, সেন্ট ক্যাথরিনের চ্যাপেল, চার্চ অফ লেডি অফ রোজারি; সেন্ট অগাস্টিন চার্চ ইত্যাদি।

এছাড়াও এর বেশ কিছু জায়গা ও স্থ্যাপত্য আছে আমাদের ভারতে যা ইউনেস্কোর হেরিটেজ তালিকায় স্বমহিমায় বিরাজ করছে।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+