মেঘালয়ের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন
মেঘালয় সরকার বেসরকারি বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থার সঙ্গে একটি চুক্তি বাতিল করেছে। উমগট নদীর উপর দিয়ে প্রস্তাবিত ২১০ মেগাওয়াটের যে হাইড্রো-ইলেক্ট্রিক প্রকল্প হওয়ার কথা ছিল তা বিক্ষোভের জেরে বাতিল করা হয়েছে। একটি যৌথ অ্যাকশন কমিটি তৈরি করা হয়েছিল স্থানীয়দের নিয়ে। তাদের মনে এখন আশঙ্কা হচ্ছে যে সরকার আদৌও তাদের সিদ্ধান্তে অবিচল কিনা তা নিয়ে। কারণ প্রথমে তা বাতিল করার পরেও জনতার রায় চাওয়া হয়েছে।

অগাস্ট মাসের ৩০ তারিখ রাজ্যের বিদ্যুৎ মন্ত্রী জেমস সাংমা জানিয়েছেন, উমগট নদীর ওপর প্রস্তাবিত এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি সরকারের প্রায়োরিটি লিস্টে নেই। সৌর বিদ্যুৎ, বায়ু থেকে তৈরি শক্তি এবং অন্যান্য পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি থেকে এই ঘাটতি মেটানো হবে। পাশাপাশি তিনি এটাও বলেছেন যে, এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি আদৌও করা হবে কি না তা নিয়ে সকলের মতামত সরকার চাইবে।
ফলে এখানেই প্রশ্ন উঠছে যে একবার বাতিল করার পরেও নতুন করে বিদ্যুৎমন্ত্রীর কথায় এত ধোঁয়াশা কেন? তিনি সরাসরি কেন এই প্রকল্পটিকে বাতিল বলে ঘোষণা করলেন না, বরং ঘুরিয়ে সকলের মত চাইলেন। এবং ধোঁয়াশা রেখে দিলেন।
উমগট নদীর ওপরে তৈরি জেপি গোষ্ঠীর সঙ্গে চুক্তি ২০০৭ সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ২০২০ সালে এসে প্রকল্পটিকে বাতিল বলে ঘোষণা করে সরকার। এই বিষয়ে পূর্ব খাসি পাহাড়ের এবং পশ্চিম জয়ন্তিয়া পাহাড় জেলার পদাধিকারীদের সঙ্গে সরকার বৈঠক করেছিল। এই বিষয়ে এমনকী মেঘালয় পর্যটন উন্নয়ন গোষ্ঠীর তরফেও সরকারের কাছে আরও স্পষ্ট উত্তর চাওয়া হয়েছে।
ভারতের সবচেয়ে স্বচ্ছ নদী উমগটের উপরে এই বাঁধ তৈরি নিয়ে মেঘালয় সরকার প্রথমে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল। পরে স্থানীয়দের বিক্ষোভ শুরু হয়। কারণ তাদের দাবি ছিল, এই বাঁধ হলে পর্যটন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রসঙ্গত বলা প্রয়োজন যে, ভারতের সবচেয়ে স্বচ্ছ নদী উমগট দেখতে করোনা মহামারীর আগে সারা বছর পর্যটকেরা এখানে ভিড় জমাতেন। এখন আবার সেখানে বাঁধ দেওয়া বিষয়টি সামনে আসার নিঃসন্দেহে নতুন করে স্থানীয়দের মনে দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications