৩০টি আসন পেয়েও সরকার গঠনে নির্ণায়ক হবে না তৃণমূল কংগ্রেস

এনডিটিভি এবং হংস রিসার্চ ইনস্টিটিউট যৌথভাবে সমীক্ষাটি চালিয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে এখনও মানুষ ভরসা করছে তৃণমূল কংগ্রেসকেই। সিপিএম যতই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রচার চালাক, মানুষ তাতে ভুলতে নারাজ। বরং ভোটের পর বামফ্রন্ট তথা সিপিএমের অবস্থা আরও খারাপ হবে বলেই দাবি করা হয়েছে সমীক্ষায়।
এই সমীক্ষা কিছুটা আশ্চর্যজনক এই কারণেই যে, পশ্চিমবঙ্গে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এখন নানা সঙ্কটে জর্জরিত। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, চিটফান্ড কেলেঙ্কারি, শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি, শিল্পায়নে মন্দা ইত্যাদির জেরে বিরোধীরা বিঁধছে রাজ্য সরকারকে। বোঝা যাচ্ছে, যতই তা বলা হোক, রাজ্যে এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-বিরোধী হাওয়া ওঠেনি সেইভাবে। নইলে ২০০৯ সালের লোকসভা ভোটেও যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছিল ১৯টি আসন, সেখানে তারা এবার পেতে পারে ৩০টি আসন। গতবার বামফ্রন্ট পেয়েছিল ১৫টি আসন। এবার হয়তো তাদের সন্তুষ্ট থাকতে হবে ৯-১০টি আসন পেয়েই! কেরল, ত্রিপুরা ধরলে বামেরা পেতে পারে ২২টি আসন।
এনডিটিভি জনমত সমীক্ষায় পাওয়া গেল এমনই ইঙ্গিত
এদিকে, এই সমীক্ষায় এই প্রথম বার দেখানো হল, নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা পেতে চলেছে এনডিএ। ২৭৫টি আসন পেতে পারে তারা। বিজেপি একাই পেতে পারে ২২৬টি। তাই যদি হয়, তা হলে বলতে হবে অটলবিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বেও এতটা ভালো ফল করেনি বিজেপি। যে রাজ্যগুলিতে বিজেপি এবার চোখ ধাঁধানো ফল করতে চলেছে, সেইগুলি হল উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, বিহার ও মধ্যপ্রদেশ। আর কর্নাটক ও পশ্চিমবঙ্গে খারাপ ফল হবে বিজেপি-র। সেটা অবশ্য স্বাভাবিক। কারণ কর্নাটকে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জর্জরিত তারা। আর পশ্চিমবঙ্গে সংগঠন তেমন মজবুত নয়। তবুও মোদী-হাওয়ায় বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ থেকে একটি আসন পেয়ে যেতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে সমীক্ষায়।
বিজেপি তথা এনডিএ-র পক্ষে ইঙ্গিত যতটা ইতিবাচক, কংগ্রেস তথা ইউপিএ-র পক্ষে ততটাই নেতিবাচক। কর্নাটক আর ছত্তিশগড় ছাড়া আর কোথাও ভালো ফল করতে পারবে না কংগ্রেস। অন্তত এমনই দাবি এনডিটিভি-র সমীক্ষায়। ইউপিএ পেতে চলেছে ১১১টি আসন। আর কংগ্রেস পেতে পারে ৯২টি আসন। বড় রাজ্যগুলির মধ্যে কংগ্রেসের সবচেয়ে খারাপ অবস্থা হবে অন্ধ্রপ্রদেশে। কারণ আলাদা তেলেঙ্গানা তৈরির সিদ্ধান্তের জেরে সীমান্ধ্রের মানুষ খাপ্পা হয়ে রয়েছেন। আবার তেলেঙ্গানায় কংগ্রেসের সঙ্গে জোট হয়নি টিআরএসের। ফলে সেখানেও তাদের ভরাডুবি হবে। ২০০৯ সালে অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে তারা পেয়েছিল ৩৩টি আসন। এবার তারা ছ'টি বা তার কম আসন পাবে বলে দাবি করা হয়েছে সমীক্ষায়।
সমীক্ষার দাবি যদি সত্যিই বাস্তবে প্রতিফলিত হয়, তা হলে বেশি আসন পেয়েও কেন্দ্রে সরকার গড়ার ক্ষেত্রে নির্ণায়ক হবে না তৃণমূল কংগ্রেস। এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, শুভেন্দু অধিকারী প্রমুখ দাবি করেছিলেন, কেন্দ্রে সরকার গঠনের চাবিকাঠি থাকবে তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে। কিন্তু এনডিএ যদি ২৭৫টি আসন পেয়ে যায়, তা হলে কোনও ভূমিকা পালন করার জায়গায় থাকছে না তারা। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লাগাতার গাল পাড়লেও অনায়াসে প্রধানমন্ত্রীর পদে বসতে চলেছেন নরেন্দ্র মোদী।












Click it and Unblock the Notifications