গোয়ায় সবাই জিততে চায় নির্দিষ্ট কারণে! আরব সাগরের তীরের ছোট রাজ্যে আগে ব্যর্থ যেসব তাবড় রাজনৈতিক দল
গোয়ায় সবাই জিততে নির্দিষ্ট কারণে! আরব সাগরের তীরের ছোট রাজ্যে আগে ব্যর্থ যেসব তাবড় রাজনৈতিক দল
গোয়া (Goa)। আরব সাগরের উপকূলের ছোট রাজ্যে সবাই জিততে চায়। সংলগ্ন মহারাষ্ট্রে প্রবল প্রতাপশালী শারদ পাওয়ারের এনসিপি কিংবা শিবসেনাও গোয়ায় পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়েছে। সেখানে তারা খুব কমই সাফল্য পেয়েছে। যদিও গত বিধানসভা নির্বাচ প্রবলভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েও ব্যর্থ হয়েছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি। এবার পরীক্ষা তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress)।

কেন গোয়ায় নজর?
ছোট রাজ্য। রয়েছে দুটি লোকসভার আসন। আর বিধানসভার আসন রয়েছে ৪০ টি। যেগুলির লোকসংখ্যাও খুব কম। যা খুব সহজেই কোনও রাজনৈতিক দল দখল করতে পারে। তবে নিশ্চয়ই পিছনে কিছু কারণ রয়েছে, যার জন্য আঞ্চলিক দলগুলি এই রাজ্য দখলে ঝাঁপিয়ে পড়ে। গোয়ায় দুই প্রধান রাজনৈতিক দল বিজেপি এবং কংগ্রেস ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলেই রয়েছে ছোট ছোট গ্রুপ। তবে আঞ্চলিক দল মহারাষ্ট্রবাদী গোমন্তক পার্টির মতো সাফল্য খুব কম দলই পেয়েছে এই রাজ্যে। যারা এই রাজ্যে শাসন করেছে প্রায় দুদশকের মতো।
মহারাষ্ট্রবাদী গোমন্তক পার্টি মূলত উচ্চবর্ণ নয় এমন এবং গরিব হিন্দুদের দল হিসেবেই পরিচিত ছিল। এরপর কংগ্রেস এবং পরবর্তী সময়ে বিজেপি সেখানকার খ্রিস্টান, সংখ্যালঘু এবং হিন্দুদের ভোট নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। তারপর থেকেই লড়াই হয়ে দাঁড়ায় দুপক্ষের।

মানুষ চেয়েছে স্বতন্ত্রতা বজায় রাখতে
গোয়ায় একটা সময়ে পর্তুগিজদের শাসন ছিল। মহারাষ্ট্রবাদী গোমন্তক পার্টি চেয়েছিল গোয়া পর্তুগিজ মুক্ত হওয়ার পরে তাকে মহারাষ্ট্রের সঙ্গে মিলিয়ে দিতে। কিন্তু সেখানকার খ্রিস্টানরা এর প্রতিবাদ করেন। গোয়ার দুটি লোকসভা আসন মিলিয়ে সম্ভবত মহারাষ্ট্রের ছোট বিধানসভা আসন হবে না। সেই পরিস্থিতিতে সেখানকার মানুষ চেয়েছেন নিজেদের সংস্কৃতি বজায় রাখতে।

ব্যর্থ হয়েছে শিবসেনা, এনসিপি
মহারাষ্ট্রের প্রবল প্রতাপশালী শিবসেনা। কোঙ্কনের জেলাগুলিতে তাদের প্রভাব রয়েছে। গোয়ার মানুষদের সঙ্গে ভাষাও একই। যদিও তারা গোয়ায় লড়াই করে আসন জিততে পারেনি। অন্যদিকে কংগ্রেসের জোটসঙ্গী হয়ে এনসিপি কোনও কোনও সময় দুই-একটি আসন দখল করেছে।

জতীয় দলের তকমা রাখতেই লড়াই
আঞ্চলিক দল হয়ে লড়াই। কিন্তু জাতীয় দলের তকমা পেতে চায় অনেক দলই। সংবিধানগতভাবে একটি রাজনৈতিক দলকে জাতীয় দল হতে গেলে চারটি রাজ্য থেকে লোকসভায় দুই শতাংশ প্রতিনিধিত্ব লাগবে, অন্তত চারটি রাজ্য থেকে লোকসভা কিংবা বিধানসভা নির্বাচনে মোট বৈধ ভোটের ছয় শতাংশ পেতে হবে। এছাড়াও কোনও রাজ্য থেকে অন্তত চারজন সাংসদ থাকতে হবে।
রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে এনসিপি অন্যতম রাজনৈতিক দল, যারা এইভাবেই জাতীয় দলের মর্যাদা পেয়েছে। কেননা তারা উত্তরপূর্বের একাধিক রাজ্য, কেরল, গুজরাত, গোয়ায় স্থানীয় দলগুলির সঙ্গে জোট করে লড়াই করে আসন দখল করেছে।

কিছু আসন জিততে পারে তৃণমূল
গোয়ায় ভাষাগত কোনও অসুবিধা নেই। বেশিরভাগ গোয়াবাসী ইংরেজিতে কথা বলতে পারেন। হিন্দি বুঝতে পারেন। সেখানে অনেকে এখনও পর্তুগিজ ভাষাও কথা বলেন। এছাড়াও মারাঠি, কোঙ্কনী তাদের মাতৃভাষা। সেই পরিস্থিতিতে অপর দুই দলশাসিত রাজ্য গুজরাতে আপ লড়াই করেও ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল গোয়ায় নিজেদের অবস্থান জানান দিতে চায়। সেই পরিস্থিতিতে কলকাতায় গিয়ে তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন গোয়ার সাতবারের কংগ্রেস বিধায়ক তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লুইজিনো ফেলেইরো। সূত্রের খবর অনুযায়ী, তিনি বিশ্বাস করেন, তৃণমূল সেখানে বেশ কয়েকটি আসন জিততে পারে।

তৃণমূল সুবিধা করে দেবে বিজেপিকে
যেসব রাজনৈতিক দল গোয়াকে টার্গেট করেছে, তাদের প্রথম লক্ষই হয়েছে নিজেদেরকে জাতীয় দলের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। সেখানে তা সহজও, কেননা রাজ্যটি ছোট। সেরকম কোনও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। নেই ভাষাগত বিভেদ। তবে তৃণমূল সেখানে লড়াই করলে, তা কংগ্রেসের ঘর ভেঙেই করতে হবে। আর তাতে সুবিধা হবে বিজেপি। এমনটাই বলছে সেখানকার রাজনৈতিক মহল।

তবে কাজটা সহজ নয়
বেশ কিছু সুবিধা থাকলেও, বাইরের কোনও রাজনৈতিক দল গোয়া এসে সুবিধা করে নেওয়াও ততটা সহ নয়। বিজেপি সেই রাজ্যে হারিয়েছে মনোহর পারিকরের মতো ক্যারিম্মাটিক নেতাকে। অন্যদিকে কংগ্রেস অপর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দিগম্বর কামাথের মতো নেতাকে নিয়েই সন্তুষ্ট থেকেছে। গতবারের নির্বাচনে কংগ্রেস বিজেপির থেকে আসন সংখ্যায় এগিয়ে থেকেই সরকার গড়তে ব্যর্থ হয়েছে। অন্য রাজ্যের মতোই গোয়ায়ও রয়েছে সমস্যা। সাধারণ মানুষ চায় সেইসব সমস্যার সমাধান হোক।












Click it and Unblock the Notifications