আসামীদের মুক্তির বিরুদ্ধে বিলকিস বানোর আবেদনের শুনানি করবে সুপ্রিম কোর্ট! মামলা থেকে সরলেন এক বিচারপতি
আসামীদের মুক্তির বিরুদ্ধে বিলকিস বানোর আবেদনের শুনানি করবে সুপ্রিম কোর্ট! মামলা থেকে সরলেন এক বিচারপতি
গুজরাতে ২০০২ সালের গোধরা দাঙ্গার সময় তাঁকে গণধর্ষণ এবং পরিবারের সাত সদস্যের হত্যাকারী ১১ আসামীর সাজা মকুবের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে বিলকিস বানোর আবেদনের শুনানি করবে সর্বোচ্চ আদালত। এ সংক্রান্ত অপর একটি মামলায় গঠিত বেঞ্চের অন্য বিচারপতি অজয়কুমার রাস্তোগি জানান, বিচারপতি ত্রিবেদী এই মামলা শুনতে চান না।

ভুক্তভোগীর আবেদনই প্রধান বিষয়
চারপতি অজয়কুমার রাস্তোগি জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী দোষ মকুবের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে এসেছেন, তার জন্যই আবেদনটিকে প্রধান বিষয় হিসেবে নেওয়া হবে। বিচারপতি রাস্তোগি বিলকিস বানোর আইনজীবীকে বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টে বানোর আবেদনের কথা নোট করা হয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, একই ধরনের আবেদনের শুনানি পরবর্তী তারিখে বানোর আবেদনের সঙ্গে ট্যাগ করা হবে।

মামলা থেকে সরেছেন বিচারপতি
বিলকিস বানোর ধর্ষকদের মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন সিপিআইএম নেত্রী সুভাষিণী আলি, সাংবাদিক রেবতী লাউল, লখনৌ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য রূপরেখা ভার্মা, তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্ররা। এদিন সেই মামলায় শুনানি থেকে অত্যাহতি নিয়েছেন বিচারপতি ত্রিবেদী। সেই কারণে নতুন করে বেঞ্চ গঠন না হওয়া পর্যন্ত শুনানি স্থগিত হয়ে গেল।

দুই বিচারপতির কেউই থাকবেন না
এদিন বিচারপতি অজয়কুমার রাস্তোগি জানান, বিচারপতি ত্রিবেদী বিলকিস বানো সংক্রান্ত মামলা শুনতে চান না। তারপরে তিনি নির্দেশ দেন, মামলাটি এমন বেঞ্চে পাঠানো হোক, যেখানে তাঁদের দুজনের কেউ থাকবেন না। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করা প্রয়োজন, গত ১৭ ডিসেম্বর বিলকিস বানো ১১ জন ধর্ষক ও খুনির মুক্তি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন। সেই বেঞ্চেও দুই বিচারপতি ছিলেন বিচারপতি রাস্তোগি এবং বিচারপতি ত্রিবেদী। সেদিনও সেই মামলা থেকে অব্যাহতি নিয়েছিলেন বিচারপতি ত্রিবেদী। যার জেরে শুনানি স্থগিত হয়ে যায়। প্রসঙ্গ ক্রমে আরও উল্লেখ করা প্রয়োজন, বিচারপতি বেলা এম ত্রিবেদী ২০০৪-২০০৬ সাল পর্যন্ত গুজরাত সরকারের ল সেক্রেটারি ছিলেন।

১৫ অগাস্ট মুক্তি পায় আসামীরা
গুজরাত আদালতের নির্দেশে গত বছরের ১৫ অগাস্ট বিলকিস বানোর ধর্ষক এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের খুনিরা মুক্তি পায়। সাজা মকুবের আবেদন জানিয়ে মামলা দায়ের করেছিলেন এক অভিযুক্ত। বিচারপতি অজয় রাস্তোগির নেতৃত্বে থাকা বেঞ্চে সেই মামলার শুনানি হয়। সেই সময় সুপ্রিম কোর্ট জানায়, বিলকিস বানোর ধর্ষকদের মুক্তির বিষয়টি গুজরাত সরকারের আওতায়।গুজরাতের বিজেপি সরকার জানিয়েছিল, সুআচার-ব্যবহারের কারণে বিলকিস বানো মামলায় মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ১১ অপরাধীকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications