নতুন রাজ্যপালকে তুমুল আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রীর, আনন্দ বোসকে ভয় দেখিয়ে সরানোর অভিযোগ মমতার
পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের আকস্মিক পদত্যাগ এবং সেই পদে আরএন রবির নিয়োগকে কেন্দ্র করে সরাসরি সংঘাতে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে তৃণমূল নেত্রী বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, আনন্দ বোসকে ভয় দেখিয়ে সরানো হয়েছে এবং রাজভবনকে এখন বিজেপির দলীয় কার্যালয় তৈরির চক্রান্ত হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন রাজ্যপাল আর এন রবিকে 'বিজেপি ক্যাডার' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি এদিন মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলেন, "নতুন যিনি আসছেন, তিনি বিজেপির প্যারেড করা ক্যাডার। জেনে রাখুন, বাংলা কিন্তু অন্য জায়গা।" এই পদক্ষেপকে তিনি বিজেপির রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছেন, যার উদ্দেশ্য হলো রাজ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করা।

প্রাক্তন রাজ্যপালের বিদায় প্রসঙ্গে টেনে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, "আনন্দ বোসকে কেন সরানো হল, আমি সব জানি। তাঁকে থ্রেট করা হয়েছে। সবাই তো আর রাজভবনকে দলীয় অফিস বানাতে চায় না।" তাঁর ইঙ্গিত, রাজভবনকে যেন কোনো রাজনৈতিক দলের 'টাকা বিলোনোর জায়গা' হিসেবে ব্যবহার করা না হয়, যা বাংলার গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের সঙ্গে আর এন রবির সংঘাতের উদাহরণ টেনে মমতা স্মরণ করিয়ে দেন, সেখানেও স্ট্যালিনকে একইরকম পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, ধনকড় জমানার মতো 'কড়া’ মেজাজের একজন প্রাক্তন পুলিশকর্তাকে রাজভবনে বসানো নিছকই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং সংঘাতের চেনা আবহ ফিরিয়ে আনার কৌশল।
বাংলার নতুন রাজ্যপাল হিসেবে আর এন রবির নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই তাঁর বর্ণময় কর্মজীবন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পাটনায় জন্ম নেওয়া রবি ১৯৭৬ ব্যাচের একজন আইপিএস অফিসার। ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি) এবং সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)-তে কাজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
বিশেষত, নাগাল্যান্ডের বিচ্ছিন্নতাবাদী সমস্যা সমাধানে তার ভূমিকা কেন্দ্রের কাছে বেশ প্রশংসিত হয়েছিল। ২০১৮ সালে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের ডেপুটি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন, যা তার কর্মজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক। এই অভিজ্ঞতা তাকে কেন্দ্রীয় প্রশাসনে এক পরিচিত মুখ করে তোলে।
তবে, নাগাল্যান্ড এবং তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল থাকাকালীন অবিজেপি শাসিত রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে তার বারবার সংঘাত খবরের শিরোনামে এসেছে। আইন-শৃঙ্খলা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং রাজ্যের অধিকার নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে তার মতবিরোধ অনেক সময় তীব্র আকার ধারণ করেছে।
বস্তুত, সিভি আনন্দ বোসের ইস্তফার দিনই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজভবনে রাজ্যপাল নিয়োগের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন। তিনি বরাবরই এই ধরনের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে, যা ভারতের সংবিধানের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে দুর্বল করে বলে মনে করেন।
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, এমন পদক্ষেপ দেশের গণতান্ত্রিক প্রথা ও রাজ্যের মর্যাদার উপর আঘাত হানে। তাই কেন্দ্রের উচিত সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর নীতি মেনে চলা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সম্মান করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা, যা রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সহায়ক হবে।












Click it and Unblock the Notifications