নিম্নমানের নির্মাণ হয়েছিল বাঁধে, তিস্তার বিপর্যয়ে বিতর্ক উসকে দিলেন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী
তিস্তার বিপর্যয় নিয়ে বিধ্বস্ত সিকিম। উদ্ধারকাজ সেই অর্থে শুক্রবার সকালেও শুরু করা সম্ভব হয়নি। তার মধ্যেই বিতর্ক উসকে গেল। সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করলেন, বাঁধ সঠিকভাবে নির্মাণ হয়নি। সে কারণেই এই বিপুল জলরাশি বাঁধকে ফাটিয়ে গোটা উত্তর সিকিম ভাসিয়ে দিয়েছে। কেন এই দুর্ঘটনা ঘটল? তাই নিয়ে বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা। নির্দিষ্ট কোনও কারণ সঠিকভাবে এখনও পাওয়া যায়নি।
সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং বেশ কিছু জায়গা ঘুরেছেন। পরিস্থিতির দিকে তিনি সম্পূর্ণ নজর রাখছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গেও প্রেম সিং তামাংয়ের কথাবার্তা হচ্ছে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী অত্যন্ত বিপর্যস্ত এলাকাতে বৃহস্পতিবারও নামতে পারেনি। অন্য একটি সূত্র থেকে এই কথা জানা যাচ্ছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এবার বিতর্ক উসকে দিলেন। উন্নতমানের জিনিসপত্র দিয়ে এই চুংথাং বাঁধ তৈরি করা হয়নি।

এই বাঁধে নিম্নমানের নির্মাণকাজ হয়েছে। অভিযোগ করেছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। ফলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। লোনক হ্রদ থেকে বিশাল পরিমাণ জল এসে এই বাঁধে পড়ে। বাঁধের জলধারণ ক্ষমতা আর ছিল না। বিশাল জলের ধাক্কায় বাঁধের পাঁচিল ভেঙে যায়। তারপরেই বিপুল জল উপর থেকে নেমে আসে।
এর আগে এই দুর্ঘটনার জন্য ভূমিকম্পের কারণ উঠে আসছিল। গত ১৫ দিনে ছোট ও মাঝারি মিলিয়ে চারটি ভূমিকম্প হয়েছে। অতি সম্প্রতি নেপাল ও মিজোরামে দুটি ভূমিকম্প হয়। নেপালের ভূমিকম্পতেও জলের ধাক্কায় বাঁধের পাঁচিলের একাংশ ভেঙে যেতে পারে। আশঙ্কা করা হয়েছে।
সিকিমের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, এই বাঁধের নির্মাণ কাজ সঠিকভাবে করা হয়নি। নিম্নমানের কাজ হয়েছিল বাঁধ তৈরির সময়। সে কারণেই জলের ধাক্কায় এটি ভেঙে গিয়েছে। এই বিপর্যয়ের কারণে উত্তর সিকিম সম্পূর্ণভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
২৩ জন সেনা জওয়ানকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। শেষখবর পাওয়া পর্যন্ত সাতজনের দেহ পাওয়া গিয়েছে। জলের তোড়ে তারা বহুদূর ভেসে গিয়েছিলেন। বাকি ১৫ জন এখনও নিখোঁজ। তাদের জন্য তল্লাশি চালাচ্ছে সেনাবাহিনীর জওয়ানরা।
উত্তর সিকিমের এই বিপর্যয়ে ২২ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে খবর। বহু পরিবার তাদের সর্বস্ব খুঁইয়েছেন। আপদকালীনভাবে উদ্ধার করে বহু মানুষকে ত্রাণশিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত পাওয়া খবরে ২৪১১ জনকে উদ্ধার করে ত্রাণশিবিরে পাঠানো হয়েছে। বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ। তিস্তা নদীর জলস্তর কমছে। ভয়াবহ সব দৃশ্য ভেসে উঠছে সামনে। জলকাদা মাটির মধ্যে সম্পূর্ণ আটকে গিয়েছে বাড়িঘর।
দুই, তিনতলা বাড়ি কোথাও আবার সম্পূর্ণ জলের তলায় রয়েছে। কাদামাটির মধ্যে বহু গাড়ি আটকে রয়েছে। গ্রামগুলি সম্পূর্ণ ভেসে গিয়েছে তিস্তার জলস্রোতে। বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধার হচ্ছে নিথর দেহ। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠবে। এই আশঙ্কা আগেই করা হয়েছিল৷ ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক বলে আর কিছুই নেই। নতুন করে বহু জায়গায় রাস্তায় ধস নামছে।












Click it and Unblock the Notifications