Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

ডিএ মামলায় সুপ্রিম রায়ে স্বস্তি রাজ্য সরকারি কর্মীদের, ধর্মতলায় মিষ্টিমুখে আন্দোলনের উচ্ছ্বাস

সুপ্রিম কোর্টের রায় প্রকাশ্যে আসতেই যেন এক ঝটকায় বদলে গেল ধর্মতলার শহিদ মিনারের ছবি। দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান বিক্ষোভে থাকা সরকারি কর্মচারীদের মুখে ফুটে উঠল স্বস্তির হাসি। রায় শোনার পরই শুরু হয়ে গেল মিষ্টিমুখ, লাড্ডু বিলির সঙ্গে সঙ্গে উঠল জয়ধ্বনি, গর্জে উঠল অবস্থানমঞ্চ।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০০৮ সালের অগাস্ট থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের যে বকেয়া ডিএ রয়েছে, তার ২৫ শতাংশ আগামী মার্চ মাসের মধ্যেই মিটিয়ে দিতে হবে। তবে কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ-র মধ্যে যে প্রায় ৪০ শতাংশ ব্যবধান, সেই বিষয়টি নিয়ে কোনও চূড়ান্ত নির্দেশ দেয়নি আদালত।

এই বিষয়টিকেই সামনে রেখে সিপিএমের সরকারি কর্মচারী সংগঠন কো অর্ডিনেশন কমিটির নেতা বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরীর বক্তব্য, "এই রায়ে আমাদের লড়াইয়ের একটা ধাপ সম্পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু এখনও কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ-র যে ৪০ শতাংশ ফারাক, তা আমাদের প্রাপ্য হিসেবেই রয়ে গিয়েছে। সেই ন্যায্য অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।"

ডিএ মামলার অন্যতম পক্ষ সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের অবস্থানও একই রকম কড়া। সংগঠনের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেন,
"সরকারের আর্থিক পরিস্থিতি খারাপ এই যুক্তি ঠিক নয়। আমরা তথ্য প্রমাণ দিয়ে দেখাতে চাই যে ডিএ দেওয়া সম্ভব। তবে অভিজ্ঞতা বলছে, আন্দোলন জারি না রাখলে এই ২৫ শতাংশও বাস্তবে পাওয়া যাবে না। ৩১ মার্চের মধ্যে সরকারকে বাধ্য করতেই হবে।"

এর আগেও আদালত ২৫ শতাংশ ডিএ মেটানোর অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছিল, কিন্তু তা কার্যকর হয়নি, এই অভিজ্ঞতা থেকেই রাজ্য সরকারের ওপর পুরোপুরি ভরসা রাখতে পারছেন না আন্দোলনকারীরা।

এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের রায়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়ে গিয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি রাজ্য সরকারকে নিশানা করে বলেন, "এই রায়ে প্রমাণ হয়ে গেল, ডিএ কোনও অনুগ্রহ নয়, এটা সরকারি কর্মচারীদের আইনসিদ্ধ অধিকার। মুখ্যমন্ত্রী বারবার বলেছিলেন ডিএ অধিকার নয়, আজ দেশের সর্বোচ্চ আদালত সেই বক্তব্যকে ভুল প্রমাণ করল।"

শুভেন্দুর আরও অভিযোগ, রাজ্য সরকার কর্মচারীদের প্রাপ্য টাকা না দিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে কোটি কোটি টাকা খরচ করেছে।

রায়কে স্বাগত জানিয়েছে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতিও। সংগঠনের নেতা স্বপন মণ্ডলের কথায়, "এটা শুধু পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক ও কর্মচারীদের জয় নয়, গোটা দেশের কর্মচারী সমাজের জয়। এই রায়ের পর আর কোনও রাজ্য সরকার কর্মচারী বিরোধী পথে হাঁটার সাহস পাবে না।"

তবে তৃণমূল সমর্থিত পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের সুর আলাদা। সংগঠনের আহ্বায়ক প্রতাপ নায়েক বলেন,
"মুখ্যমন্ত্রী কখনও বলেননি যে সরকারি কর্মচারীরা ডিএ পাবেন না। সময় ও পরিস্থিতি বুঝেই তিনি দাবি পূরণ করতেন। আদালতের নির্দেশ নিয়ে আমরা কোনও মন্তব্য করছি না, তবে রাজ্য সরকার যে প্রক্রিয়ায় এই নির্দেশ পালন করবে, তার পাশে থাকব।"

সব মিলিয়ে মোটের ওপর সুপ্রিম কোর্টের রায় রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলনে নতুন অক্সিজেন জুগিয়েছে। মিষ্টিমুখে আপাতত আনন্দ, কিন্তু ডিএ-র সম্পূর্ণ ফারাক মেটানো না পর্যন্ত লড়াই থামছে না, এ কথা স্পষ্ট করে দিয়েছে আন্দোলনরত কর্মচারী মহল।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+