ভারত জোড়ো যাত্রা পরিণত করেছে রাহুলকে, রাজস্থান-মধ্যপ্রদেশ-ছত্তিশগড় জয়ের পরিকল্পনা পাকা
রাহুল গান্ধী আজ অনেক পরিণত। তিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর যোগ্যতম চ্যালেঞ্জার হয়ে উঠছেন পরতে পরতে। আর রাহুলকে পরিণত করেছে ভারত জোড়ো যাত্রা। ভারত পরিক্রমার আলোকে রাহুল গান্ধী হয়ে উঠেছেন কংগ্রেসের সংকটমোচন। সে সিদ্দারামাইয়া-শিবকুমার হোক বা গেহলট-পাইলট বিতর্ক। রাহুল স্পর্শে হাতে হাত সবার।
কর্নাটক জয় সম্পূর্ণ হয়েছে। বিজেপিকে পর্যুদস্ত করে কংগ্রেস নিয়েছে কর্নাটকের কুর্সির দখল। এবার কংগ্রেসের লক্ষ্য মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও ছত্তিশগড়। কংগ্রেস আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা মধ্যপ্রদেশে বিজেপিকে হারিয়ে বদলা নিতে চায়। আর তাদের লক্ষ্য রাজস্থান ও ছত্তিশগড় ধরে রাখা।

২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে বড়ো রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনগুলিতে জয়ের ধারা বজায় রাখতে চাইছে কংগ্রেস। সম্প্রতি কর্নাটক নির্বাচনের পর মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি নিয়ে সিদ্দারামাইয়া ও শিবকুমারের দ্বন্দ্ব সামলাতে হয়েছে কংগ্রেস হাইকম্যান্ডকে। এবার তাদের সামনে লক্ষ্য অশোক গেহলট বানম শচীন পাইলটের দ্বন্দ্ব মুছে বিতর্কের অবসান ঘটানো।
কর্নাটক জয় হাসিল হতেই রাজস্থানের সঙ্কটমোচন করলেন রাহুল গান্ধী। রাহুল গান্ধীর উপস্থিতিতে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট এবং সেখানকার প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী শচীন পাইলটকে ডেকে কথা বললেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। চার নেতার বৈঠক মধুরেণ সমাপয়েৎ হল।

কংগ্রেসের তরফে গেহলট এবং পাইলটের ছবি প্রকাশ করে বলা হয়েছে, সব বিতর্কের অবসান হয়েছে। তাঁরা দুজনেই একসঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে লড়াই করবেন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সঙ্গে অশোক গেহলটের বৈঠকে রাহুল গান্ধী ছাড়াও ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেনুগোপাল।
এই বৈঠকে এরপর যোগ দেন রাজস্থানের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সুজিন্দর সিং রণধাওয়া। তারপর আসেন শচীন পাইলট। রাহুল গান্ধী তাঁদের বলেন, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে আমরা সবাই অঙ্গীকারবদ্ধ। তাহলে কেন আমরা নিজেরা লড়াই করব। কেন আমরা বিজেপির হাত শক্তি করব। তিনি ভারত জোড়ো যাত্রার অভিজ্ঞকতা ব্যক্ত করেন।

অতঃপর উভয় নেতাই একসঙ্গে নির্বাচনী লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁরা তাঁদের মধ্যেকার দ্বন্দ্ব মিটিয়ে নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে জয়ের সোপান তৈরি করবেন। বিজেপিকে হারানোই তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য। তারা নিজেরা পদের দ্বন্দ্বে মাতবেন না। জনমত সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে কংগ্রেসের পক্ষে রয়েছেন অধিকাংশ মানুষ।
আবার অশোক গেহলট নাকি শচীন পাইলট- সেই লড়াইয়ে যে গেহলটের নেতৃত্বই পাল্লাভারী তারও ইঙ্গিত মিলেছে। তবে এই বিষয়ে যা হওয়ার নির্বাচনের পরে হবে। বিজেপিকে হারানোর পর কংগ্রেস ঠিক করবে মুখ্যমন্ত্রী। কর্নাটকের মতোই আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করা হবে।

রাজস্থানের মতো মধ্যপ্রদেশে নেতাদের সঙ্গেও কথা বলেন তাঁরা। মধ্যপ্রদেশের দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথ, দিগ্বিজয় সিংয়ের সঙ্গে কথা বলে রাহুল গান্ধী নির্বাচনী পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। ভোটকৌশলী সুনীল কানুগোলুও এই বৈঠকে ছিলেন। তিনি দুই রাজ্যকেই তাদের করণীয় বুঝিয়ে দিয়েছেন।
রাহুল গান্ধী রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশের নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, কে কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হবেন বা কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন, সে ভাবনা দূরে সরিয়ে ঐক্যবদ্ধভবে লড়াইয়ের আবহ তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্যে তারা সফল। দলের অন্দরে সুস্থ প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকুক, সেটাই চান তিনি।












Click it and Unblock the Notifications