কৃষক বিক্ষোভে রাজ্যের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন, পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দরের সঙ্গে কথা প্রধানমন্ত্রী মোদীর
কৃষক বিক্ষোভে রাজ্যের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন, পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দরের সঙ্গে কথা প্রধানমন্ত্রী মোদীর
দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর (narendra modi) সঙ্গে দেখা করলেন পঞ্জাবের প্রধানমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং (amarinder singh)। দুজনের মধ্যে বৈঠকে পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী তিন কৃষি আইন (farm laws) প্রত্যাহারের দাবি করেছেন। এব্যাপারে তিনি কৃষকদের প্রায় একবছর ধরে চালানো আন্দোলনের কথা উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি কৃষকরা যাতে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা পেতে পারে তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আইন সংশোধনের দাবি করেছেন।

মোদী-অমরিন্দর সাক্ষাত
এদিন বিকেলে পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করেন। প্রধানমন্ত্রীর হাতে দুটি চিঠি তুলে দেন তিনি। পঞ্জাব-সহ বিভিন্ন রাজ্যে তিন কৃষি আইন নিয়ে কৃষকদের মধ্যে যে বিক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তার জন্য রিভিউ করে তিন আই প্রত্যাহারে দাবি করেছেন তিনি। গতবছরের নভেম্বর মাস থেকে কৃষকরা দিল্লি সীমান্তে বিক্ষোভে সামিল হয়েছে। পাশাপাশি দ্বিতীয় চিঠিতে যেসব মানুষ বিনামূল্যে সরকারি আইনি পরিষেবা পান, সেই তালিকায় কৃষকদের অন্তর্ভুক্তির দাবি করেছেন তিনি।

৪০০ বেশি কৃষকের মৃত্যু
এদিন পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, দীর্ঘদিনের এই বিক্ষোভে এখনও পর্যন্ত ৪০০-র বেশি কৃষকের প্রাণ গিয়েছে। কৃষকদের বিক্ষোভের জেরে পঞ্জাবের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেননা পাকিস্তানের মদতপুষ্ট শক্তি কৃষকদের ভুল বোঝাচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে পঞ্জাব সরকারের তরফে।
পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, দিনের পর দিন ধরে যে বিক্ষোভ চলছে, তাতে শুধু পঞ্জাবের অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ছে না, সামাজিক এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
সরকার ইতিমধ্যেই আন্দোলনরত কৃষক সংগঠনগুলির সঙ্গে বেশ কয়েক দফা কথা বলেছে। সরকার কৃষি আইন প্রত্যাহার করে নিতে অস্বীকার করেছে। তবে আইনে সংশোধন করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে সরকারের তরফ থেকে।
অন্যদিকে কৃষকরা সাফ জানিয়েছে, কৃষি আইন প্রত্যাহার করা ছাড়া তাঁরা অন্য কিছু গ্রহণ করবেন না। কেননা কৃষকরা মনে করছেন, এই আইনে তাঁদের নিশ্চিত আয় কমে যাবে। পাশাপাশি তা ব্যবসায়ীদের সুবিধা করবে বলেও মনে করছেন কৃষকরা। পাশাপাশি তাঁরা সরকারের এই দাবিও মেনে নিতে প্রস্তুত নন, যে কৃষি ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের যে সংস্কার প্রয়োজন ছিল, মধ্যসত্তভএাগীদের সরিয়ে তা এই আইনের দ্বারা সম্ভব হয়েছে, কষকরা এখন সরাসরি দেশের যে কোনও জায়গায় তাঁদের ফসল বিক্রি করতে পারবেন।
পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী দ্বিতীয় চিঠিতে বলেছেন, জমি ভাগ হয়ে যাওয়া এবং লিজ-এ সমস্যা তৈরি হওয়ায় কৃষকরা আইনি জালে জর্জরিত। তাঁরা অর্থনৈতিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

বিনামূল্য আইনি পরিষেবা পেতে আইন আছে
সারা দেশে সেন্ট্রাল লিগাল সার্ভিস অথরিটিস অ্যাক্ট ১৯৮৭-র মাধ্যমে দেশের নির্দিষ্ট সংখ্যাক মানুষকে বিনামূল্যে আইনি পরিষেবা দেওয়া হয়। মূলত সমাজের দুর্বল অংশকেই এই সুযোগ দেওয়া হয়। অমরিন্দর সিং-এর দাবি কৃষকরাও এই মুহূর্তে এই দলে পড়েন। আর্থিক সমস্যায় কৃষকরা আত্মহত্যা পর্যন্ত করছেন। সেই কারণে লিগাল সার্ভিস অথরিটিস অ্যাক্ট ১৯৮৭-র ১২ নম্বর ধারা সংশোধন করে কৃষ্কদের অন্তর্ভুক্তির দাবি করেছেন তিনি।

আগে সোনিয়ার সঙ্গেও সাক্ষাত
এর আগে মঙ্গলবার অমরিন্দর সিং দলের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গেও দেখা করেন। সেখানে সোনিয়া গান্ধী অমরিন্দর সিংকে বলে দিয়েছেন, সরকার এবং দল যেন একসঙ্গে কাজ করে। রাজ্য দলের সভাপতি হিসেবে নভজ্যোত সিং সিধুকে নিয়োগের পরে প্রথমবার ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং দলের সভাপতির সঙ্গে দেখা করলেন। সূত্রের খবর অনুযায়ী, পঞ্জাবে ক্যাবিনেটে পরিবর্তন নিয়ে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে অমরিন্দর সিং-এর সঙ্গে কথা হয়েছে সোনিয়ার। এই বৈঠকে কংগ্রেস হাইকমান্ডের তরফে পঞ্জাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত হরিশ রাওয়াত উপস্থিত ছিলেন। সূত্রের খবর অনুযায়ী, এআইসিসির তরফে ১৮ টি ইস্যুতে রাজ্য সরকার কী ব্যবস্থা নিয়ে তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন অমরিন্দর সিং। অন্যদিকে নভজ্যোত সিং দলের রাজ্য সভাপতি হওয়ার পরেই যেভাবে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করে চলেছে, সেই বিষয়টি অমরিন্দর সিং দলের সভাপতির সামনে তুলে ধরেন। প্রসঙ্গত ড্রাগ পাচারে অভিযুক্ত অকালি নেতা বিক্রিম সিং মাঝিথিয়াসহ অন্যদের বিরুদ্ধে সরকার কেন ব্যবস্থা নিতে দেরি করছে সেই প্রশ্ন তুলেছেন নভজ্যোত সিধু। পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গেও দেখা করেন। দিন কয়েক আগে প্রশান্ত কিশোর মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শদাতার পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন।












Click it and Unblock the Notifications