আধ্যাত্মিক গুরুর পরামর্শে গ্রেফতার খুনের ঘটনার সন্দেহভাজন, সাসপেন্ড পুলিশ
কোনও ঘটনা ঘটলে সাধারণ মানুষ তার অভিযোগ পুলিশের কাছে করে এবং পুলিশ সেই ঘটনার তদন্ত শুরু করে মীমাংসায় পৌঁছায়। সেরকমই একটি ঘটনা ঘটেছিল মধ্যপ্রদেশে, যেখানে এক ১৭ বছরের কিশোরীকে খুন করা হয় ও তার দেহ উদ্ধার হয় কুয়ো থেকে। এই ঘটনার তদন্তের ভার যে পুলিশ আধিকারিকের ওপর ছিল, তিনি সেটা সমাধান করার জন্য স্ব-ঘোষিত আধ্যাত্মিক গুরুর কাছে যান, যাতে তিনি খুনের ঘটনা সমাধান করে। আর এই অপরাধে রাজ্যের ছত্তরপুর জেলার পুলিশ অফিসারকে সাসপেন্ড করে দেওয়া হল।

এই ঘটনাটি জানাজানি হয় যখন বামিথা পুলিশ থানার এএসআই অনিল শর্মা মৃত কিশোরীর কাকাকে গ্রেফতার করে। এরপর যখন তার আত্মীয়রা পুলিশের সামনে আসে তখন ওই পুলিশ অফিসারের ঊর্ধ্বতন, টাউন ইনস্পেক্টর পঙ্কজ শর্মা তাদের অনিল শর্মা ও স্ব-ঘোষিত আধ্যাত্মিক গুরু পাণ্ডোখার সরকারের কথোপকথনের ভিডিও দেখান।
জানা গিয়েছে, গত ২৮ জুলাই ওতাপূর্ব গ্রামের একটি কুয়ো থেকে ১৭ বছরের এক মেয়ের দেহ উদ্ধার হয়। কিশোরীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তিনজনকে আটক করে কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছিল না তাই তাদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ। এরপর ঘটনার তদন্তের কুলকিনারা খুঁজে না পেয়ে পুলিশ অফিসার মামলাটি নিয়ে আধ্যাত্মিক গুরুর দ্বারস্থ হন। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, পাণ্ডোখার সরকার পুলিশ অফিসারকে সাদা কাগজে এই ঘটনার সন্দেহজনকদের নাম লেখার নির্দেশ দিচ্ছে এবং সন্দেহভাজন ছাড়া সবার নাম বলবে। এটাই হবে অভিযুক্তের পরিচয় সম্পর্কে তাঁর সূত্র। এই ভিডিও খুব দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।
ছত্তরপুরের এসপি শচীন শর্মা জানান যে অনিল শর্মাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং টাউন ইনস্পেক্টর পঙ্কজ শর্মাকে পুলিশ লাইনে স্থানান্তর করা হয়েছে। যদিও তিনি দাবী করেছেন যে মৃত কিশোরীর কাকা তীরথ আহিরওয়ারকে প্রমাণের ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হয় এবং পাণ্ডোখারের উপদেশ মেনে নয়। ছত্তরপুরের এসপি বলেন, 'অভিযুক্ত তীরথ আহিরওয়ারকে প্রমাণের ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হয়। এএসআই আধ্যাত্মিক গুরু পাণ্ডোকর সরকারের কর্মসূচিতে অন্য কারণের জন্য যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তাঁকে সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়।' তবে এই পুরো ঘটনা নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে জেলা পুলিশ প্রধান।












Click it and Unblock the Notifications