Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

প্রধানমন্ত্রী মোদীর একের পর এক কৌশলী পদক্ষেপ! ভারতকে পরবর্তী বাংলাদেশ হওয়া থেকে রক্ষা

প্রথমে কোটা সংস্কারের দাবির পরে প্রধানমন্ত্রী হাসিনার পদত্যাগ দাবি। এই দুই দাবি মেটার পরেও বাংলাদেশে হিংসা অব্যাহত। সোমবারে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের পরেও হিংসায় জ্বলছে বাংলাদেশে। তারপর থেকে প্রায় তিনশোজনের মৃত্যু হয়েছে। সাধারণ মানুষই শুধু নয়, শিল্পী-সাহিত্যিক, অবসরপ্রাপ্ত সেনা আধিকারিক সবাই আক্রান্ত, তাঁদের বাড়ি হামলাকারীরা তছনছ করে আগুন ধরিয়েছে।

১৯৭১-এ পাকিস্তানের থেকে স্বাধীনতার লাভের পরেও বিভিন্ন সময়ে ইসলামিক কট্টরপন্থীরা তাদের রক্তচক্ষু দেখিয়েছে। তবে ২০২৪-এর জুলাই-অগাস্টের এই ঘটনা এখনও পর্যন্ত সর্বাধিক দাগ কেটেছে সাধারণ মানুষের মনে। কারণ যে মানুষটি পাকিস্তানের থেকে দেশ স্বাধীন করেছেন, তাঁরই মূর্তি ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। সেখানেই প্রশ্ন উঠছে ছাত্রদের সামনে রেখে এরা কারা। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্দোলনের রাশ এখন ছাত্রদের হাত থেকে বেরিয়ে ইসলামিক কট্টরপন্থীদের হাতে চলে গিয়েছে।

narendra modi

আন্দোলন হয়েছে ভারতেও
এবছরের জানুয়ারিতে পঞ্চমবারের জন্য দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন শেখ হাসিনা। এর মধ্যে ২০০৯ সাল থেকে পরপর চার বার। ২০১৮তে শেখ হাসিনাই কোটা সংস্কার করেছিলেন। কিন্তু হাইকোর্টের রায়ে তার ওপরে স্থগিতাদেশ হয়ে যায়। তারপর সেই কোটা সংস্কার নিয়েই জুলাইতে ছাত্র-আন্দোলন। কোটা সংস্কার নিয়ে জুলাই ২০২৪-এ যে আন্দোলন বাংলাদেশে হয়েছে, তা গত শতকের আশির দশকের একেবারে শেষের দিকে মণ্ডল কমিশনের সুপারিশ লাগুর সময়ের কথা মনে করিয়ে দেয়।

কৌশলের সঙ্গে মোকাবিলা মোদীর
দুই হাজার চোদ্দো সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রথমবার ক্ষমতায় আসেন। প্রথমবারের মেয়াদেই নোটবাতিল নিয়ে অসন্তোষের পাশাপাশি কৃষকরা আন্দোলন করেছে। দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেও কৃষি আইনের প্রতিবাদ করে আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন কৃষকরা। দেশের জনসংখ্যার একটা বড় অংশ সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করে পথে নেমেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেইসব অসন্তোষের মোকাবিলা করেছেন এবং সাফল্য অর্জন করেছেন।

ব্র্যান্ড মোদীতে সাফল্য
উল্লেখ করা প্রয়োজন, ২০১৪-তে নরেন্দ্র মোদী যখন ক্ষমতায় আসেন, সেই সময় ভোটাররা ব্র্যান্ড মোদীতে আস্থা রেখেছিলেন। তারপর থেকে বিভিন্ন রাজ্য এমন কী ২০১৯ এবং ২০২৪-এর নির্বাচনেও দেশের একটা বড় অংশের মানুষ সেই ব্র্যান্ড মোদীতে আস্থা রেখেছেন। আর নরেন্দ্র মোদীও চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করে যাচ্ছেন।

জনসমর্থন নিয়েই মোকাবিলা
মোদী সরকারের বেশ কিছু সিদ্ধান্তে দেশ জুড়ে ব্যাপক বিরোধিতা হয়েছে। জনগণ আন্দোলনে নেমেছে। তারপরেও জনসমর্থনের মাধ্যমেই সেইসব আন্দোলনকে মোকাবিলা করেছেন নরেন্দ্র মোদী।

মোদীকে নিশানা করে রাজনৈতিক মন্তব্য
বাংলাদেশে হিংসাত্মক পরিস্থিতির মধ্যেই মোদীকে নিশানা করে বিরোধী নেতারা নানান বিবৃতি দিয়েছেন। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা সলমন খুরশিদ বলেছেন, বাংলাদেশে যা হচ্ছে, তা এখানেও হতে পারে। অন্যদিকে ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ফারুক আবদুল্লা বলেছেন, ছাত্রছাত্রীরা এমন আন্দোলন শুরু করেছেন যা কারও দ্বারা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এর থেকে শিক্ষা নিতে হবে। তিনি আরও বলেছেন, এটা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, প্রতিটি স্বৈরাচারী শাসকের জন্য।

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আন্দোলনের মোকাবিলা

  • দিল্লির কোচিং সেন্টারে মৃত্যু নিয়ে বিক্ষোভ

জুলাইয়ে যখন বাংলাদেশে কোটা সংস্কার নিয়ে ছাত্রছাত্রীরা আন্দোলন চালাচ্ছেন, সেই সময় দিল্লিতে এক মর্মান্তিক ঘটনায় তিন ছাত্রছাত্রীর মৃত্যু হয়। ইউপিএসসি কোচিং সেন্টারে জনবন্দি হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়। তারপরেই দিল্লিতে প্রতিবাদ আন্দোলনে নামেন ছাত্রছাত্রীরা। সেই সময় দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর কোচিং সেন্টারগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করতে নির্দেশিকা তৈরি করার জন্য একটি প্যানেল গঠন করেন। এছাড়া কোচিং ইনস্টিটিউটগুলিকে একটি জায়গায় স্থানান্তর করে শিক্ষা কেন্দ্র তৈরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারের সময়োপযোগী ব্যবস্থা ছাত্রদের রাগকে প্রশমিত করেছে।

  • অগ্নিবীর নিয়ে অবস্থান

কেন্দ্রীয় সরকার ২০২২-এ ভারতীয় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীতে আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে অগ্নিবীর প্রকল্প চালু করে। যেখানে বলা হয় নিয়োগের চার বছর পরে ৭৫ শতাংশের জন্য বড় প্যাকেজের মাধ্যমে অবসর নিতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিবাদ ও চ্যালেঞ্জের পরেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সফলভাবে অগ্নিবীর নিয়ে অস্থিরতা প্রশমিত করেছেন।

  • ৩৭০ ধারা বাতিল

দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর ২০১৯-এর ৫ অগাস্ট মোদী সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা বাতিল করে দেয়। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহল ও জম্মু ও কাশ্মীরে সাময়িক অস্থিরতা তৈরি হয়। সেই সময় মোদী সরকার কাশ্মীরিদের শান্ত করতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালকে সেখানে পাঠায়। তারপরে ধীরে ধীরে সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

  • নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন

২০১৯-এ জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিলের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকার যে বড় সিদ্ধান্তটি নিয়েছিল তা হল নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন চালু করা। শুরুতেই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বিরোধী আন্দোলন হিংসাত্মক হয়ে ওঠে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় রেললাইন উপড়ে ফেলা হয়। যানবাহনে আগুন লাগানো হয়। তারপরে সরকারের অবস্থানে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় শান্তি ফিরে আসে।

  • বাবরি মসজিদ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়

২০১৯-এর নয় নভেম্বর রাম জন্মভূমি নিয়ে ঐতিহাসিক রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট। বিষয়টি নিয়ে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা তৈরি হলেও, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সবাই তা গ্রহণ করেন।

  • কৃষক বিক্ষোভের মোকাবিলা

কোভিড মহামারী চলার সময় দেশের বিভিন্ন কৃষক সংগঠন তিনটি কৃষি আইনের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে। শুরু হয় দেশের দীর্ঘতম সড়ক বিক্ষোভ। ২০২১-এর জানুয়ারিতে লালকেল্লায় হিংসা উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ব্যাপারে সময় নিয়ে সরকার সফলভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করে।

  • আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়াদের জন্য সংরক্ষণ

২০১৯-এ মোদী সরকার আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়াদের জন্য সরকারি চাকরি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১০ শতাংশ সংরক্ষণ চালু করে। এব্যাপারে প্রথমের দিকে আশঙ্কা তৈরি হলেও, মোদী সরকার সব দলকে সঙ্গে নিয়ে সফলভাবে এর বাস্তবায়ন করে।

  • নোটবাতিল

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রথম পাঁচ বছরের শাসনকালে বড় সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে একটি ছিল নোটবাতিল। যা দেশের কোটি কোটি মানুষকে প্রাভাবিত করেছিল। কিছু দিনের জন্য তীব্র অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছিলেন সাধারণ মানুষ। তারপরেও সরকার ও প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রতি আস্থার কারণে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+