শুরু প্রাপ্তবয়স্কদের টিকা কর্মসূচি, দেখে নিন কোন কোন রাজ্যে এখনই হচ্ছে না টিকাকরণ
শুরু প্রাপ্তবয়স্কদের টিকা কর্মসূচি, দেখে নিন কোন কোন রাজ্যে এখনই হচ্ছে না টিকাকরণ
করোনা ভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায়ের টিকাকরণ শনিবার ১ মে থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বেশ কিছু রাজ্য ভ্যাকসিনের ঘাটতি হওয়ার ফলে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে প্রাপ্তবয়স্কদের টিকাকরণের ক্ষেত্রে অক্ষমতা প্রকাশ করেছে। অনেক রাজ্য সরকারই জানিয়েছে যে তারা ১ মে থেকে টিকাকরণ শুরু করতে অসক্ষম। এই রাজ্যগুলির মধ্যে রয়েছে বিজেপি শাসিত রাজ্য মধ্যপ্রদেশ, কর্নাটক ও গোয়াও।
বৃহস্পতিবার, টিকাকরণের ২দিন আগে, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছিল যে রাজ্যগুলিতে ১ কোটিরও বেশি ভ্যাকসিন ডোজ এখনও উপলব্ধ রয়েছে এবং তারা বেশ কিছুদিনের মধ্যে আরও ২০ লক্ষ ভ্যাকসিন ডোজ পাবে। মন্ত্রক এও জানিয়েছে যে কেন্দ্র ইতিমধ্যেই ১৬.১৬ কোটি ভ্যাকসিন বিনামূল্যে রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলগুলিকে দিয়েছে। এর মধ্যে অপচয় সহ মোট ১৫,১০,৭৭,৯৩৩টি ডোজ খরচ হয়েছে। যদিও ২.৪৫ কোটির বেশি সুবিধাভোগীরা নিজেদের নাম নথিভুক্ত করেছেন কোউইন প্ল্যাটফর্মে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত। বুধবার থেকেই তৃতীয় পর্যায়ের টিকাকরণের কর্মসূচির জন্য নাম নথিভুক্তের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছিল। সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া বর্তমানে ৬–৭ কোটি ডোজ প্রত্যেক মাসে উৎপাদন করছে অন্যদিকে ভারত বায়োটেকের পক্ষ থেকে এপ্রিলে ২ কোটি ডোজ ও মার্চে ১.৫ কোটি ডোজ উৎপাদন করা হয়েছে। দেশের বেশ কিছু রাজ্যের অনুমান তৃতীয় পর্যায়ের টিকাকরণে একটু হলেও দেরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কর্নাটক
তৃতীয় পর্যায়ের টিকাকরণ শুরু হতে কর্নাটকে একটু হলেও দেরি লাগবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রী কে সুধাকর জানিয়েছেন যে শনিবার থেকে টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু হওয়ার জন্য ভ্যাকসিন মজুত নেই রাজ্যে। তিনি শুক্রবার বলেন, 'কর্নাটক ১ কোটিরও বেশি ডোজের অর্ডার দিয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত সময় অনুযায়ী তারা আগামীকাল সরবরাহ করার জন্য প্রস্তুত নয়। আমরা ১৮-৪৫ বছর বয়সী নাগরিকদের অনুরোধ করেছি যে হাসপাতালে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে এটা ভেবে সেখানে যাওয়ার থেকে বিরত থাককতে হবে।' স্বাস্থ্য মন্ত্রী এও জানিয়েছে যে সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করা হলে তা নাগরিকদের জানিয়ে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, 'আমি অনুরোধ করব সব যোগ্য নাগরিকদের নাম নথিভুক্ত করতে। আমরা আমাদের সেরাটা দিতে চাই টিকাকরণের ক্ষেত্রে এবং কেন্দ্রকে অনুরোধ করব রাজ্যে করোনা কেস যেহেতু বাড়ছে তাই তারা যেন তাতে হস্তক্ষেপ ও সমর্থন করে আমাদের।'

মহারাষ্ট্র
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে জানিয়েছেন যে রাজ্য সরকার তৃতীয় পর্যায়ের টিকাকরণ শনিবার থেকে শুরু করবে। যদিও ভ্যাকসিনের মজুত খুবই অল্প রয়েছে। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে রাজ্য সরকারকে লেখা চিঠিতে জানানো হয়েছে যে ১৮-৪৫ বছরের ঊর্ধ্বে নাগরিকদের গোটা মাসে টিকাকরণের জন্য কেন্দ্র ১৮ লক্ষ ভ্যাকসিন ডোজ বরাদ্দ করেছে। ৪৫ বছরের ঊর্ধ্বে থাকা নাগরিকদের কেন্দ্র ভ্যাকসিন দেবে। উদ্ধব ঠাকরে বলেন, 'শুক্রবার আমরা ৩ লক্ষ ভ্যাকসিন ডোজ গ্রহণ করেছি। শনিবার থেকে আমরা প্রাপ্তবয়স্কদের টিকাকরণ শুরু করব যতটা ভ্যাকসিন ডৌজ রয়েছে তা দিয়েই।' কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের মজুত কম থাকার কারণে বিএমসি মুম্বইতে টিকাকরণ স্থগিত করে রাখে। শুক্রবার বিএমসি বলেছে, 'ভ্যাকসিনের মজুত না থাকার কারণে কোনও সরকারি/বিএমসি/বেসরকারি টিকাকরণ কেন্দ্রে পরবর্তী তিনদিনের জন্য টিকা গ্রহণ বন্ধ থাকবে। ভ্যাকসিনের মজুত আসলে আবার টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু হবে। মুম্বইবাসীকে আর্জি করব বিএমসির সঙ্গে সহযোগিতা করতে।'

দিল্লি
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল অনুরোধ করেছেন দিল্লিবাসীকে শনিবার যাতে কেউ টিকাকরণ কেন্দ্রে ভিড় না করেন কারণ তৃতীয় পর্যায়ের টিকাকরণ করার মতো ভ্যাকসিন মজুত করা নেই। তিনি এও জানিয়েছেন যে ভ্যাকসিন আসলে সরকারের পক্ষ থেকে তা ঘোষমা করে জানানো হবে। একমাত্র যাঁদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট রয়েছে তাঁরাই আসতে পারেন টিকাকরণ কেন্দ্রে। কেজরিওয়াল আরও বলেন, 'আমরা এখনও কোনও ভ্যাকসিন ডোজ গ্রহণ করিনি। আমরা ক্রমাগত সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছি। আশা করছি ভ্যাকসিন শনিবার বা তার পরের দিন চলে আসবে। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছে। প্রথমে তিন লক্ষ কোভিশিল্ডের অর্ডার প্রথমে আসবে আমাদের কাছে, যেটা শনিবার বা তার পরেও হতে পারে।' দিল্লি সরকার ৬৭ লক্ষ কোভিশিল্ডের অর্ডার দিয়েছে, যার মধ্যে তিন লক্ষ ৩ মের মধ্যে আসার কথা। দিল্লি সরকার তিনমাসের মধ্যে গোটা দিল্লিবাসীকে টিকাকরণ করাতে চায়।

গোয়া
বিজেপি শাসিত রাজ্য গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন যে ভ্যাকসিন উপলব্ধ হওয়ার পরই সরকার ১৮-৪৫ বছরের নাগরিকদের টিকা দিতে সক্ষম হবে। সাওয়ান্ত জানিয়েছে, গোয়া সরকার সিরামের কাছ থেকে ৫ লক্ষ কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন অর্জার করেছে।

মধ্যপ্রদেশ
মধ্যপ্রদেশেও শনিবার তৃতীয় পর্যায়ের টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে না। মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান জানিয়েছেন যে ভ্যাকসিন উৎপাদনকারীরা সময়ে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন ডোজ দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই। তবে ৪৫ বছরের ঊর্ধ্বে থাকা নাগরিকদের টিকাকরণ হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গ
১৮ বছরের বেশি নাগরিকদের টিকাকরণ চালিয়ে যাওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রকে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের জন্য ৩ কোটি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য বলেছে।

পাঞ্জাব
পাঞ্জাবের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলবীর সিং সিধু জানিয়েছেন যে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত মজুতের অভাবে তৃতীয় পর্যায়ের টিকাকরণ শুরু হতে একটু দেরি হবে।

তেলঙ্গানা
তেলঙ্গানার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইটেলা রাজেন্দ্র বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত রাজ্যে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন সরবরাহ করা। এই রাজ্যও এখনও তাদের পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন পায়নি বলে টিকাকরণ কর্মসূচি শনাবার শুরু করতে পারেনি।

ঝাড়খণ্ড
ঝাড়খণ্ডে ১ মে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে নাগরিকদের টিকা দেওয়ার সম্ভাবনা কম। রাজ্য সরকার সিরাম এবং ভারত বায়োটেককে ২৫ লক্ষ কোভিড-১৯ টি ভ্যাকসিন অর্ডার দিয়েছে। তবে, ভ্যাকসিনের ডোজগুলি এখনও ঝাড়খণ্ডে সরবরাহ করা হয়নি।

গুজরাত
গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানি জানিয়েছেন রাজ্য সরকার শনিবার থেকে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে নাগরিকদের জন্য তৃতীয় পর্যায়ের টিকা শুরু করবে। এর আগে, মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, সরকার ১৫ মে এর আগে এই অভিযান শুরু করার মতো অবস্থানে নেই।
তবে শুক্রবার সন্ধ্যায় সরকার তিন লক্ষ টিকার ডোজ গ্রহণ করেছে। এটি ব্যবহার করে, রাজ্যটির দশটি জেলায় সরকার তৃতীয় পর্যায়ের টিকাকরণ শুরু করবে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আড়াই কোটি ভ্যাকসিন অর্ডার দেওয়া হয়েছে।

উত্তরপ্রদেশ
ভ্যাকসিন মজুত না থাকার কারণে যোগী রাজ্যেও শনিবার থেকে টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে না। কোভিশিল্ড ও কোভ্যাকসিনের ৫০ লক্ষ ডোজ অর্ডার করলেও তা এখনও রাজ্যে এসে পৌঁছায়নি।

রাজস্থান
রাজস্থান সরকার শনিবার থেকে ১১ টি জেলায় তৃতীয় টিকাদান অভিযান শুরু করবে। ১১ টি জেলা হল জয়পুর, যোধপুর, আজমির, বিকানির, উদয়পুর, আলওয়ার, ধৌলপুর, ভিলওয়ারা, কোটা, সিকার এবং পালি।
রাজ্যের রাজধানী জয়পুরে, ছয়টি টিকাদান কেন্দ্রে টিকাদান অভিযানটি দুপুর ১২ টা থেকে শুরু হবে। রাজ্য সরকার জানিয়েছে যে তারা ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে আশ্বাস পেয়েছে যে তারা এই মাসে ৫.৪৪ লক্ষ ডোজ পাবে।












Click it and Unblock the Notifications