ছাত্র ভিসায় পাকিস্তান, ৬ বছর পর ভয়ঙ্কর রূপ! পহেলগাঁও হত্যাকান্ডে মাস্টারমাইন্ড ঠোকার আসলে কে?
জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ২২শে এপ্রিলের জঙ্গি হামলায় তোলপাড় দেশ। ক্রমশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এই হামলার তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র বেরিয়ে এসেছে, আদিলই সম্ভবত পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলার মূল চক্রী ছিল। জানা গিয়েছে, সেখানে প্রশিক্ষণও নেয় আদিল। ফলে পাকিস্তান যতই অস্বীকার করুক, পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলায় পাক যোগ কিন্তু স্পষ্ট।
সূত্র মারফত জানা যায়, ২০১৮ সালে ছাত্র ভিসায় পাকিস্তান পাড়ি দেওয়া আদিল দীর্ঘ ৬ বছর পর তিন থেকে চারজন সঙ্গীকে নিয়ে ভারতে ফিরে আসে। আর এরপরই এই নৃশংস হামলার অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত হয়। জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার বিজবেহারার গুরে গ্রামের বাসিন্দা এই আদিল। আদিলের উত্থান এবং হত্যাকাণ্ডে ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে।

গোয়েন্দা সূত্রের খবর অনুযায়ী, ঠোকার পাকিস্তান থাকাকালীন লস্কর-ই-তৈবার (LeT) মতো জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হয়। তাদের মতাদর্শে প্রভাবিত হয়। সে শুধু প্রশিক্ষণই নেয়নি, বরং হামলার অন্যতম অভিযুক্ত পাকিস্তানি নাগরিক হাশিম মুসাকে (ওরফে সুলেমান) ভারতে অনুপ্রবেশ করতেও সাহায্য করে। ঠোকারের মাধ্যমেই মুসা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করে এবং হামলার পরিকল্পনায় সক্রিয় ভূমিকা নেয় বলে মনে করা হচ্ছে।
২০১৮ সালে আদিল আহমেদ ঠোকার যখন গুরেতে নিজের বাড়ি ছাড়ে, তখন তার গন্তব্য ছিল পাকিস্তান এবং উদ্দেশ্য ছিল ট্রেনিং। তবে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ঠোকারের মধ্যে দেশ ছাড়ার আগেই মৌলবাদের স্পষ্ট লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা যায়, ভারত ছাড়ার আগে সে সীমান্তের ওপার থেকে পরিচালিত নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তির সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত।
পাকিস্তানে পৌঁছনোর পর ঠোকার রহস্যজনকভাবে লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যায়। দীর্ঘ ৮ মাস তার কোনও প্রকার সন্ধান পাওয়া যায়নি, এমনকি পরিবারের সঙ্গেও সে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তার অনলাইন কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণকারী গোয়েন্দা সংস্থাগুলিও তার ডিজিটাল পদচিহ্ন (footprint) ট্র্যাক করতে ব্যর্থ হয়। বিজবেহারায় তার বাড়িতে চালানো নজরদারি অভিযানও কোনও ফল দেয়নি।
গোয়েন্দা সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই সময়কালে ঠোকার পাকিস্তানে লস্কর-ই-তৈবা (এলইটি)-র সাথে যুক্ত হ্যান্ডলারদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আদর্শিক ও আধাসামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছিল। এরপর ২০২৪ সালের শেষের দিকে গোয়েন্দা নথিতে আদিল আহমেদ ঠোকারের নাম পুনরায় উঠে আসে। তবে এবার ভারতের অভ্যন্তরে। গোয়েন্দা সূত্র মারফৎ খবর, ঠোকার ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে দুর্গম পুঞ্চ-রাজৌরি সেক্টর দিয়ে নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করে।
ঠোকারের সাথে তিন থেকে চারজনের একটি ছোট দল ছিল। তাদের মধ্যে একজন ছিল পাকিস্তানি নাগরিক হাশিম মুসা, যে পহেলগাঁও হামলার আরেক প্রধান অভিযুক্ত এবং সুলেমান নামেও পরিচিত। বর্তমানে মনে করা হচ্ছে, মুসার ভারতে প্রবেশের ক্ষেত্রে ঠোকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
জম্মু ও কাশ্মীরে প্রবেশের পর ঠোকার বন ও পাহাড়ি পথ ব্যবহার করে গোয়েন্দাদের নজর এড়িয়ে চলতে সক্ষম হয়। সূত্র অনুযায়ী, অনন্তনাগে যাওয়ার আগে কিছুদিনের জন্য তাকে কিস্তওয়ারে দেখা গিয়েছিল। সম্ভবত ত্রালের পাহাড়ি অঞ্চল অথবা আগে জঙ্গিদের ব্যবহৃত গোপন পথ দিয়েই সে যাতায়াত করত।
এরপর অনন্তনাগে পৌঁছে ঠোকার সম্ভবত আত্মগোপনে চলে যায়। তবে গোয়েন্দা সূত্রের খবর, সে অন্ততপক্ষে একজন পাকিস্তানি নাগরিককে আশ্রয় দিয়েছিল, যে তার সাথে অনুপ্রবেশ করেছিল। মনে করা হচ্ছে, কোনও বন শিবিরে বা প্রত্যন্ত গ্রামের আস্তানায় তাদের আশ্রয় ছিল।
বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে আত্মগোপনে থাকার সময় ঠোকার সুপ্ত জঙ্গি গোষ্ঠীর সাথে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপন করে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের মতে, সে এমন একটি উপযুক্ত স্থান এবং বড় ধরনের হামলার সুযোগের সন্ধানে ছিল, যার মাধ্যমে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটানো যায় এবং আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়।
এই সময়কালটি বার্ষিক অমরনাথ যাত্রা শেষ হওয়ার পর ধীরে ধীরে এই অঞ্চলের পর্যটন কেন্দ্রগুলি পুনরায় খোলার সাথেও মিলে যায়। নিরাপত্তার কারণে আগে বন্ধ থাকা বৈসরন তৃণভূমিতে ২০২৫ সালের মার্চ মাস থেকে পর্যটকদের আনাগোনা আবার শুরু হয়েছিল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির ধারণা, এটাই ঠোকার ও তার দলের কাছে একটি বড় সুযোগ ছিল।
গত ২২শে এপ্রিল দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে থোকার সহ অন্য জঙ্গিরা বৈসরনের ঘন পাইন বন থেকে অতর্কিতে বেরিয়ে আসে। অ্যাসল্ট রাইফেল হাতে তারা দ্রুত পর্যটকদের ভিড় করা এলাকার দিকে এগিয়ে যায়। হামলায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের বিবরণ অনুযায়ী, জঙ্গিরা কিছু পর্যটকদের ধর্ম পরিচয় জানতে চেয়েছিল। একাধিক ক্ষেত্রে তারা লোকজনকে ইসলামিক আয়াত পাঠ করতে বাধ্য করে।
যারা ব্যর্থ হয় বা দ্বিধা দেখায়, তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়। অনেক মানুষেরই মাথায় গুলি করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, ভারত সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দিয়েছেন যে ১৪টি বিভিন্ন ভিসার অধীনে (যেমন ফিল্ম, সাংবাদিক, তীর্থযাত্রী, ব্যবসা, ছাত্র এবং মেডিকেল ভিসা) আগত পাকিস্তানি নাগরিকদের চিহ্নিত করে দ্রুত ফেরত পাঠাতে হবে।
এর ফলস্বরূপ, গুজরাট ও ওড়িশার মতো রাজ্যগুলি ইতিমধ্যেই এই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কেন্দ্র সরকার ২৭শে এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া সমস্ত পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসা বাতিল করেছে, শুধুমাত্র দীর্ঘমেয়াদী, কূটনৈতিক এবং সরকারি ভিসা ছাড়া। মেডিকেল ভিসার মেয়াদ ২৯শে এপ্রিল পর্যন্ত রাখা হয়েছে।
এই হামলার প্রতিক্রিয়ায়, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে। ভারত সরাসরি পাকিস্তানকে এই হামলার জন্য দায়ী করেছে, যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। পাকিস্তান পাল্টা অভিযোগ করে বলেছে, ভারত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসবাদকে ব্যবহার করছে।
পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার তদন্তে ছাত্র ভিসার অপব্যবহারের এই ঘটনাটি বর্তমানে উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার ফলে ভারত সরকার ভবিষ্যতে ভিসা নীতি আরও কঠোর করতে পারে। বিশেষত পাকিস্তানের নাগরিকদের জন্য। এই ঘটনাটি দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ককে আরও খারাপের দিকে ঠেলে দিয়েছে বলেই মনে করছে আমজনতা।
-
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গিয়েছে কি? অনলাইনে ট্রাইবুনালে আবেদন কিভাবে করবেন? জানুন -
তৃতীয় সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন, কবে সম্পূর্ণ হবে এসআইআর প্রক্রিয়া? -
বাঙালিই স্বাধীনতার লড়াইয়ের অগ্রদূত, মহুয়া মৈত্রের বিতর্কিত মন্তব্যে ঝড় -
নওদায় তৃণমূলের সভাস্থলে বিশৃঙ্খলা, চেয়ার ছোড়াছুড়ি, অভিষেক আসার আগেই বিক্ষোভ -
'বন্ধু ভারতের' আরও দুটি এলপিজি ট্যাঙ্কার জাহাজ হরমুজ পারের অনুমতি ইরানের -
জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা! এবার থেকে পেট্রোল পাম্পে পাওয়া যাবে কেরোসিন, কত দিনের জন্য? বড়সড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের -
ভোটের আগেই প্রশাসনে বড় ধাক্কা, নন্দীগ্রাম সহ ৮৩ ব্লকের বিডিও ও এআরও বদলি -
বঙ্গ জুড়ে বদলাচ্ছে পরিস্থিতি! সপ্তাহের শুরুতেই বৃষ্টির সতর্কতা, কেমন থাকবে আজকের আবহাওয়া? জেনে নিন -
২০ শতাংশ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই! বাংলার ভোটে বড় ফ্যাক্টর হতে পারে এই কেন্দ্রগুলি -
টলিপাড়ায় শোকের ছায়া, প্রয়াত রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় -
তৃণমূলের কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা ক্যারম খেলছেন, ভিডিও ভাইরাল, তিন জওয়ানকে সাসপেন্ড করল কমিশন -
দেশজুড়ে সতর্কতা, ১৭ রাজ্যে প্রবল দাপট, ঘণ্টায় ৮০ কিমি বেগে হাওয়ার আশঙ্কা












Click it and Unblock the Notifications