বারবার উত্তপ্ত হল সংসদ, ভাষণই দিতে পারলেন না প্রধানমন্ত্রী মোদী
বিরোধী দলের তীব্র বিক্ষোভের কারণে বারবার অধিবেশন স্থগিত হওয়ায় লোকসভায় রাষ্ট্রপতির ভাষণের ধন্যবাদ প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জবাব আজ বাতিল করতে হয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, লোকসভায় প্রধানমন্ত্রীর জবাব ছাড়াই রাষ্ট্রপতির ধন্যবাদ প্রস্তাবটি পাশ হতে পারে। নিম্নকক্ষে চলমান অচলাবস্থার জেরে প্রধানমন্ত্রীর উত্তর দেওয়ার সম্ভাবনা বর্তমানে অনেকটাই কমে গিয়েছে।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নাকি ভয়েই ভাষণ দিতে পিছিয়ে এসেছেন। তিনি এর আগে দাবি করেছিলেন, সরকার তাঁকে প্রাক্তন সেনাপ্রধান এম এম নারাভানের অপ্রকাশিত স্মৃতিকথা থেকে উদ্ধৃত করতে দেয়নি, কারণ তারা ভয়ে তাকে জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলতেও বাধা দিচ্ছে।

রাহুল গান্ধী বলেন, ২০২০ সালের চিন সীমান্ত সংকটে কীভাবে রাজনৈতিক নেতৃত্ব সেনাবাহিনীকে একা ফেলে রেখেছিল, তা প্রকাশ করে একটি বই তিনি প্রধানমন্ত্রীকে দেবেন। তাঁর এক্স পোস্ট অনুযায়ী এই প্রসঙ্গে উল্লেখ ছিল: "আজ যদি প্রধানমন্ত্রী সংসদে আসেন, আমি তাঁকে একটি বই দেব। এই বইটি কোনও বিরোধী নেতার নয়। এই বইটি কোনও বিদেশি লেখকেরও নয়। দেশের প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল নারাভানের লেখা এই বই, অথচ আশ্চর্যের বিষয় হল, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের মতে, এর কোনও অস্তিত্বই নেই।"
রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে কথা বলতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং গতকাল স্পিকার ওম বিড়লার কাছে তিনি এই বিষয়ে চিঠিও লিখেছিলেন। একই দিনে শীতকালীন অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য আটজন বিরোধী সাংসদকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।
আট সাংসদের বরখাস্ত এবং রাহুল গান্ধীর প্রস্তাবিত বক্তৃতার জেরে সংসদে উত্তজনা বিরাজ করছিল। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় বিজেপির নিশিকান্ত দুবের মন্তব্যে। দুবে বলেন, রাহুল গান্ধী একটি অপ্রকাশিত বই নিয়ে কথা বলতে চাইছেন, অথচ তিনি নিজে গান্ধী পরিবারকে প্রকাশ করার জন্য একাধিক বই এনেছেন। এরপর তিনি বইগুলোর তালিকা ও সেগুলিতে গান্ধী পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে কী লেখা রয়েছে, তা বলতে শুরু করেন।
চেয়ারম্যান কৃষ্ণা প্রসাদ তেন্নেটি রুল ৩৪৯ উল্লেখ করে দুবেকে থামানোর চেষ্টা করেন। তিনি জানান, সংসদের কাজের সঙ্গে সম্পর্কহীন কোনও বই, সংবাদপত্র বা চিঠি পড়া সদস্যদের জন্য নিষিদ্ধ। কিন্তু দুবে সতর্কীকরণ সত্ত্বেও থামতে রাজি না হওয়ায় বিরোধী সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ করেন। এরপর আবার অধিবেশন স্থগিত করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ বাতিলের পর রাহুল গান্ধী পোস্টে পুনরায় লেখেন: "যেমনটা আমি বলেছিলাম, নরেন্দ্র মোদী সংসদে আসবেন না কারণ তিনি ভীত এবং সত্যের মুখোমুখি হতে চান না।" তাঁর বোন, কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও একই দাবিতে বলেন যে, প্রধানমন্ত্রী "সংসদে ঢুকতে এতটাই ভয় পাচ্ছেন"।
সারাদিন ধরেই সংসদ ছিল উত্তপ্ত। এর আগে, নারাভানের 'স্মৃতিকথা' ইস্যুতে বিরোধী সদস্যদের তীব্র বিক্ষোভের জেরে লোকসভার কার্যক্রম দুপুর ২টা পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছিল।
পরে সংসদ ভবনের বাইরে কংগ্রেস সাংসদরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং দাবি জানান যে, রাহুল গান্ধীকে রাষ্ট্রপতির ভাষণে কথা বলার অনুমতি দিতে হবে। বিরোধী সাংসদরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি বিরোধী দলের নেতা গান্ধীকে কথা বলতে না দেওয়া হয়, তাহলে ক্ষমতাসীন দলের সদস্যদেরও কথা বলতে দেওয়া হবে না।
সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজ্যসভায় ধন্যবাদ প্রস্তাবের উপর আলোচনায় উত্তর দেবেন, যা বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।












Click it and Unblock the Notifications