যৌন কেলেঙ্কারিতে ফাঁসানোর নাম করে অনলাইনে হেনস্থা! স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের উদ্যোগে রক্ষা পেয়েছেন বহু ভুক্তভোগী
আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল বিশ্বে অনলাইন সেক্সটরশন এবং সংশ্লিষ্ট সাইবার অপরাধ থেকে নাগরিকদের রক্ষা করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নিজেদের প্রচেষ্টা আরও জোরদার করেছে। ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার (I4C)-এর মাধ্যমে মন্ত্রক কেন্দ্র ও রাজ্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়াচ্ছে। এর ফলে সোশ্যাল মিডিয়া, মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশন এবং ভিডিও যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালিত সংগঠিত সাইবার অপরাধ নেটওয়ার্কগুলি সনাক্তকরণ, ব্যাহত করা এবং প্রতিহত করা সহজ হবে।
ক্রমবর্ধমান সেক্সটরশন, ছদ্মবেশ এবং আর্থিক শোষণের অভিযোগ মোকাবিলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক 'সিটিজেন-ফার্স্ট' পদ্ধতি গ্রহণ করেছে। ১৯৩০ ন্যাশনাল সাইবার ফ্রড হেল্পলাইন এবং ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টাল (www.cybercrime.gov.in) নাগরিকদের দ্রুত ঘটনা জানানোর সুযোগ করে দিচ্ছে, যা প্রতারণামূলক লেনদেন ট্র্যাক ও ফ্রিজ করার জন্য তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিশ্চিত করে।

মন্ত্রক সকল রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে পুলিশ বিভাগ, স্কুল এবং কমিউনিটি সংস্থাগুলির মাধ্যমে সচেতনতা অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছে। এর লক্ষ্য হল ডিজিটাল ব্ল্যাকমেলের প্রচেষ্টাগুলি সনাক্ত করতে এবং এড়াতে নাগরিকদের শিক্ষিত করা। এছাড়াও, সচেতন ও সতর্ক থাকতে MHA নাগরিকদের সমস্ত প্রধান সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে CYBERDOST নামের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে।
সম্প্রতি হায়দরাবাদের একজন ৭০ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী ফেসবুক এবং মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে পরিচালিত একটি সংঘবদ্ধ সেক্সটরশন নেটওয়ার্কের শিকার হয়ে ৩৯ লক্ষ টাকা খুইয়েছেন। একজন মহিলা আর্থিক সংকটের অজুহাতে প্রথমে একটি বন্ধুত্বের অনুরোধ পাঠিয়ে প্রতারণা শুরু করে। কয়েক মাস ধরে সেই মহিলা এবং তার সহযোগীরা নিজেদের পরিবারের সদস্য ও পুলিশ কর্মকর্তা হিসাবে পরিচয় দিয়ে ইমোশনাল চাপ এবং হুমকির মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে হায়দরাবাদ সাইবার ক্রাইম পুলিশ একটি মামলা নথিভুক্ত করে, এবং তদন্তে প্রবীণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে একটি বৃহত্তর সিন্ডিকেট চিহ্নিত হয়।
আর একটি ঘটনায়, হায়দ্রাবাদের ২৩ বছর বয়সী একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার একই ধরনের প্রতারণার শিকার হন। একটি অজানা নম্বর থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কল আসার পর তিনি এই ফাঁদে পড়েন। ভিডিওটি ভুয়ো ছিল। কিন্তু প্রতারক জাল ভিডিও প্রকাশের হুমকি দিয়ে তার কাছে টাকা দাবি করে। ভুক্তভোগী ২.৬ লাখ টাকা হস্তান্তর করার পর সাহায্য চান। সাইবারাবাদ সাইবার ক্রাইম পুলিশের সময়োপযোগী হস্তক্ষেপে মামলাটি ট্র্যাক করা হয় এবং সন্দেহভাজন অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করা হয়। তদন্তে জানা গিয়েছে, সেক্সটরশন দলটি একাধিক রাজ্য থেকে ভুয়ো পরিচয় এবং জাল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে কাজ করছিল।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রক নাগরিকদের অনলাইনে সতর্ক থাকতে এবং অপরিচিত ব্যক্তিদের থেকে আসা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট বা ভিডিও কল গ্রহণ না করার পরামর্শ দিয়েছে। ব্যবহারকারীদের কোনও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপরিচিতদের সাথে ব্যক্তিগত ছবি, ব্যাঙ্কিং বিবরণ বা সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার না করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। I4C-এর মাধ্যমে মন্ত্রক রাজ্য সাইবার সেল, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সোশ্যাল মিডিয়া ইন্টারমিডিয়ারিগুলির সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে চলেছে যাতে অপরাধমূলক কার্যকলাপের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার রোধ করা যায়। যৌথ অভিযানে সেক্সটরশন এবং অন্যান্য অনলাইন প্রতারণার সাথে যুক্ত অসংখ্য মিউল অ্যাকাউন্ট এবং ভুয়া প্রোফাইল চিহ্নিত ও ব্লক করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications